ঢাকা, নভেম্বর ২২, ২০১৭, ৮ অগ্রহায়ন ১৪২৪
---
---
bbc24news.com
প্রথম পাতা » জেলার খবর » বাংলাদেশে আশ্রয়ের সন্ধানে আসা রোহিঙ্গারা নির্যাতনের শিকার হচ্ছে?
বুধবার ● ৬ সেপ্টেম্বর ২০১৭, ৮ অগ্রহায়ন ১৪২৪
Email this News Print Friendly Version

বাংলাদেশে আশ্রয়ের সন্ধানে আসা রোহিঙ্গারা নির্যাতনের শিকার হচ্ছে?

---বিবিসি২৪নিউজ, উখিয়া থেকে:এমন জানলে মিয়ানমারের সেনাবাহিনী, সীমান্তরক্ষী বাহিনী ও রাখাইন সন্ত্রাসীদের গুলি খেয়ে মরতাম, তবুও এদেশে আশ্রয়ের জন্য আসতাম না’ এমন কথা গুলি বলছিলেন বাংলাদেশে আশ্রয়ের সন্ধানে আসা রোহিঙ্গারা । নির্যাতনের শিকার হয়ে দলে দলে বাংলাদেশে পালিয়ে আসছে রোহিঙ্গারা। মিয়ানমারে পুরুষ যুবকের ধরে নিয়ে গুলি করে হত্যা করার পাশাপাশি মহিলাদের গলা কেটে হত্যা করা হচ্ছে। শিশুদের নিক্ষেপ করা হচ্ছে আগুনে। তাই ওপারে মৃত্যুর মুখ থেকে বাঁচতে রোহিঙ্গারা এপারে আসছে একটু নিরাপদ আশ্রয়ের সন্ধানে, কিন্ত এপারে এসেও যেন তাদের বিপদ পিছু ছাড়ছে না। পালিয়ে এসে পড়ছে লুটেরাদের হাতে। বাংলাদেশের সীমান্তবর্তী এলাকায় অবস্থান নেওয়া এসব লুটেরা পালিয়ে আসা রোহিঙ্গাদের স্বর্ণ, মুল্যবান জিনিস পত্র সহ গরু মহিষ ও ছাগল লুটে নিচ্ছে। পাশপাশি যুবতী নারীরা নির্যাতনের শিকার হচ্ছে।স্থানীয় আইনশৃংখলা বাহিনীর কাছে এ সংত্রুান্ত বেশকিছু অভিযোগ থাকলেও লুটেরাদের বিরুদ্ধে কোন ব্যবস্থা নিচ্ছেনা।
সীমান্তর রেজু আমতলী ও হাতিমুরা সরজমিন গিয়ে দেখা গেছে, মিয়ানমার থেকে দলে দলে আসছে রোহিঙ্গারা সীমান্ত পেরিয়ে টমটম ও বিভিন্ন গাড়ী যোগে দালালের সহায়তায় পৌছে যাচ্ছে উখিয়ার কুতুপালং ও বালুখালী বস্তিতে। এদের কেউ কেউ চলে গাড়ী যোগে দুরদুরান্তে দেশের আনাচে-কানাচে। এদিকে বৃহস্পতিবার সকালে রেজু আমতলী পয়েন্ট দিয়ে অনুপ্রবেশকালে ৩ মহিলার ৮ টি গরু মারধর করে ছিনিয়ে নেয় স্থানীয় লুটেরারা। রাস্তার পাশে এ তিন মহিলাকে বৃষ্টির মধ্যে ভিজে আজাহারি করতে দেখা যায়। মিয়ানমারের দিল হোসেনের স্ত্রী মাজেদা বেগম (২৪) বলেন, আমার স্বামী কোথায় জানিনা, ৩টি গরু ছিল আমার শেষ সম্বল। এই গরু নিয়ে আসার সময় রেজু আমতলি বিওপির পশ্চিম খালের ব্রিজের পাশ থেকে কয়েকজন দুর্বৃত্ত আমার গরু গুলো কেড়ে নিয়ে যায়, আমার কান্না করতে থাকলে তাঁরা আমাকে লাথি মেরে মাঠিয়ে ফেলে দেয়। আমি এখন কি করব, কোথায় যাব ভেবে পাচ্ছিনা। একই কথা অনুপ্রবেশকারী রোহিঙ্গা মহিলা হাফসা বেগম(৩৩) তাঁর ২টি গরু লুট করে নিয়ে গেছে কিছু দুর্বৃ। আরেক নারী ছমুদা বেগম (৩০) বলেন, তার ৩টি গরু অপরাপর গরুর সাথে নিয়ে আসার পথে ওই জায়গা থেকে ছিনতাই করে নিয়ে যায় কতিপয় দুর্বৃত্তরা। খোঁজ খবর নিয়ে যায় এসব দুর্বৃত্তরা সরকারী দলীয় ছত্রছায়ায় ওআইনশৃংখলাবাহিনী যোগ সাজসে অপকর্ম করছে। উখিয়ার রাজাপালং ইউনিয়নের ডেইলপাড়া, ডিগলিয়াপালং, চাকবৈঠা, করইবনিয়া, দরগাহবিলসহ প্রবৃদ্ধি এলাকায় চলছে মিয়ানমারের নির্যাতিত রোহিঙ্গাদের গরু,মহিষ,ছাগল, র্স্বণালংকার সহ মূল্যাবান জিনিসপত্র লুটপাট। ওই তারই অদুরে কান্না করছে আরো ৭জন রোহিঙ্গা। আজাদ কামাল (৩৮) নামের এক রোহিঙ্গা জানান, আমতলি এলাকার আশু আলী নামের এক লোকের মাধ্যমে সে ২টি গরু ৭২হাজার টাকায় বিক্রি করেছে উখিয়ার এক ব্যবসায়ীকে। তাঁকে নগদ এক টাকাও দেয়নি। কিš‘ ২দিন অতিবাহিত হয়ে গেলেও আশু আলী তাঁর প্রাপ্য টাকা গুলো দিচ্ছেনা। এ ধরনের আরো ৬জন রোহিঙ্গার অভিযোগ আশু আলী নামের এই ব্যক্তির বিরুদ্ধে। অথচ সে দীর্ঘদিন যাবৎ রেজু আমতলি বিজিবি’র সোর্স হিসেবে কাজ করে আসছে। অপরদিকে সীমান্ত দিয়ে অনুপ্রবেশ করা মিয়ানমারের লেইনছি পাড়া গ্রামের ৭৫ বছরের বৃদ্ধ নবী হোসেনের ৬ টি গরু জোরপূর্বক কেড়ে নেয় দুবৃত্তরা। গত বুধবার সন্ধ্যায় সীমান্তবর্তী এলাকা থেকে উখিয়ার জালিয়াপালং ইউনিয়নের মেম্বার মোজাম্মেল ও মুছা মিয়ানমার থেকে পালিয়ে আসা মিয়ানমারের নাই”ছাদং পাড়ার ফকির আহামদের পুত্র এহসান ও মৃত মোস্তফার পুত্র খলিলের ১২ টি মহিষ লুট করে তার এলাকায় নিয়ে যায়। এসব মহিষ থেকে ২ মেম্বার ৪ টি রেখে বাকী ৮ টি মহিষ বাইরে বিত্রিু করে দেয়। পরে ঘটনা জানাজানি হওয়ার পর থানা পুলিশ পর্যন্ত গড়ায় ব্যাপারটি। পরে বুধবার রাতে উখিয়া থানার ওসি মোঃ আবুল খায়ের জালিয়াপালং ইউনিয়নের চেয়ারম্যান নুরুল আমিন চৌধুরীকে ডেকে এনে লুটকৃত মহিষগুলো উদ্ধার করে চেয়ারম্যানের জিম্মায নিতে নির্দেশ দেন। সীমান্ত এলাকায় রোহিঙ্গাদের নিয়ে জমজমাট ব্যবসা শুরু হয়েছে,কোন রোহিঙ্গার দল বাংলাদেশ সীমান্ত পেরিয়ে প্রবেশ করলেই পড়ছে লুটেরাদের কবলে। এসব লুটেরারা মিয়ানমারে নির্যাতনের শিকার হয়ে এদেশে পালিয়ে আসা রোহিঙ্গাদের ব্যাপক মারধর করে তল্লাসী পূর্বক সবকিছু কেটে নিচ্ছে। বিশেষ করে রোহিঙ্গাদের সাথে করে নিয়ে আসা শত শত গরু,মহিষ,ছাগল ও স্বর্ণ সহ মুল্যবান জিনিস কেড়ে নিচ্ছে লুটেরার দল। এটা এখন বাংলাদেশ সীমান্তবতী এলাকা রেজু আমাতলী,হাতিমুরা,দরগা বিল ডেইলপাড়ার প্রতিদিনকার চিত্র কিছুদুর পর পর এসব লুটেরার দল উখিয়ার কুতুপালং ও বালুখালী বস্তি মুখী রোহিঙ্গাদের বহনকারী গাড়ী তল্লাসী চালিয়ে রোহিঙ্গাদের উপর চরম নির্যাতনের পর সবকিছু কেড়ে নিচ্ছে। রাতের আধারে মিয়ানমার থেকে সীমান্তে পেরিয়ে আসা যুবতী নারীদেরও অপহরন করা হচ্ছে বলে স্থানীয় এলাকাবাসী জানান। আইনশৃংখলা রক্ষাকারী বাহিনীর তৎপরতা নেই বললেই চলে। এ ব্যাপারে ৩৪ বিজিবির অধিনায়ক লেঃ কর্ণেল মন্জুরুল হাসান খান বলেন, সীমান্তে জিরো পয়েন্টে এরকম কোন ঘটনা ঘটার কথা নয়। বাংলাদেশ সীমান্ত পেরিয়ে যাওয়ার সময় বেশকিছু গরু আটক করেছে বিজিবি। তাছাড়া যাতে বাংলাদেশের কোথাও নির্যাতনের শিকার না হয় সেদিকে দৃষ্টি রাখা হয়েছে।

মিয়ানমারে সহিংসতায় রোহিঙ্গা মুসলিমদের পাশাপাশি দেশ ছেড়ে চলে আসতে শুরু করেছে হিন্দু সম্প্রদায়ের লোকজন। তবে তাঁদের অভিযোগ মিয়ানমারের মুখোঁশধারী কতিপয় সশস্ত্র কিছু লোকজন তাঁদেরকে নির্যাতন করেছে। চলতি মাসে রাথেটং শহরে নতুন করে ‘ক্লিয়ারেন্স অপারেশন’ শুরু করে মিয়ানমারের সেনাবাহিনী। এ এলাকায় রাখাইন ও রোহিঙ্গা দুই সম্প্রদায়েরই বসবাস। সেকারণে সেখানে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়। আর তার মধ্যেই বৃহস্পতিবার নিরাপত্তা বাহিনী ও রোহিঙ্গাদের সংঘর্ষ সৃষ্টি হয়। এতে মিয়ানমার সরকারের দাবী অনুযায়ী ১০৬জন নিহত হয়েছে। তৎমধ্যে ১২জন সেদেশের নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্য। তবে রোহিঙ্গারা গত ৫দিনের সহিংসতায় ২হাজারের অধিক রোহিঙ্গার মৃত্যু হয়েছে বলে দাবী করলেও তার কোন সঠিক পরিসংখ্যান এখনো পাওয়া যায়নি।

বাংলাদেশ হিন্দু বৌদ্ধ খ্রীস্টান ঐক্য পরিষদের সাধারণ সম্পাদক এবং আন্তর্জাতিক মানবতা বিরোধী ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউটর এ্যাডভোকেট রানা দাশগুপ্ত সরজমিন এদের আশ্রিত কুতুপালং এলাকা পরিদর্শন করে বলেন, মিয়ানমার সরকার অত্যন্ত সুপরিকল্পিত ভাবেই মিয়ানমারে গণহত্যা চালাচ্ছে। এই গণহত্যার আন্তর্জাতিকভাবে তদন্ত হওয়া প্রয়োজন বলে মনে করেন তিনি।


ঢাকা ‘জঙ্গি আস্তানায়’ র‍্যাবের অভিযান: নিহত ৫

নরসিংদীতে বাস ও কভার্ডভ্যানের সংঘর্ষে : নিহত ৫


এ বিভাগের আরো খবর...

জিম্বাবুয়ের জনরোষ, বিক্ষোভের কারন ফার্স্টলেডি গ্রেস মুগাবে? জিম্বাবুয়ের জনরোষ, বিক্ষোভের কারন ফার্স্টলেডি গ্রেস মুগাবে?
তদন্তের স্বার্থেই তনুর পরিবারকে ডাকা হয়েছে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী তদন্তের স্বার্থেই তনুর পরিবারকে ডাকা হয়েছে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
ভারপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতির অভিভাষণ ৩ ডিসেম্বর ভারপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতির অভিভাষণ ৩ ডিসেম্বর
৬ যুদ্ধাপরাধীর মৃত্যুদণ্ড ৬ যুদ্ধাপরাধীর মৃত্যুদণ্ড
দেশে ফিরলেন লেবাননের প্রধানমন্ত্রী হারিরি দেশে ফিরলেন লেবাননের প্রধানমন্ত্রী হারিরি
অবশেষে জিম্বাবুয়ের প্রেসিডেন্ট মুগাবের পদত্যাগ অবশেষে জিম্বাবুয়ের প্রেসিডেন্ট মুগাবের পদত্যাগ
মাঠে ফুটবল খেলে মাতালেন উপমন্ত্রী জয়! মাঠে ফুটবল খেলে মাতালেন উপমন্ত্রী জয়!
রোহিঙ্গাদের ফিরিয়ে নিতে বাংলাদেশের সঙ্গে সমঝোতা সই হবে-সু চি রোহিঙ্গাদের ফিরিয়ে নিতে বাংলাদেশের সঙ্গে সমঝোতা সই হবে-সু চি
সন্ত্রাসবাদের তালিকায় আবারো উত্তর কোরিয়াকে অন্তর্ভুক্তি করল-ট্রাম্প সন্ত্রাসবাদের তালিকায় আবারো উত্তর কোরিয়াকে অন্তর্ভুক্তি করল-ট্রাম্প
প্রশ্ন ফাঁস করে লাখপতি শিক্ষার্থী-সিআইডি প্রশ্ন ফাঁস করে লাখপতি শিক্ষার্থী-সিআইডি

সর্বাধিক পঠিত

জিম্বাবুয়ের জনরোষ, বিক্ষোভের কারন ফার্স্টলেডি গ্রেস মুগাবে? জিম্বাবুয়ের জনরোষ, বিক্ষোভের কারন ফার্স্টলেডি গ্রেস মুগাবে?
তদন্তের স্বার্থেই তনুর পরিবারকে ডাকা হয়েছে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী তদন্তের স্বার্থেই তনুর পরিবারকে ডাকা হয়েছে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
ভারপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতির অভিভাষণ ৩ ডিসেম্বর ভারপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতির অভিভাষণ ৩ ডিসেম্বর
৬ যুদ্ধাপরাধীর মৃত্যুদণ্ড ৬ যুদ্ধাপরাধীর মৃত্যুদণ্ড
দেশে ফিরলেন লেবাননের প্রধানমন্ত্রী হারিরি দেশে ফিরলেন লেবাননের প্রধানমন্ত্রী হারিরি
অবশেষে জিম্বাবুয়ের প্রেসিডেন্ট মুগাবের পদত্যাগ অবশেষে জিম্বাবুয়ের প্রেসিডেন্ট মুগাবের পদত্যাগ
মাঠে ফুটবল খেলে মাতালেন উপমন্ত্রী জয়! মাঠে ফুটবল খেলে মাতালেন উপমন্ত্রী জয়!
রোহিঙ্গাদের ফিরিয়ে নিতে বাংলাদেশের সঙ্গে সমঝোতা সই হবে-সু চি রোহিঙ্গাদের ফিরিয়ে নিতে বাংলাদেশের সঙ্গে সমঝোতা সই হবে-সু চি
শেখ হাসিনার নামে বিশ্ববিদ্যালয় হচ্ছে? শেখ হাসিনার নামে বিশ্ববিদ্যালয় হচ্ছে?
সন্ত্রাসবাদের তালিকায় আবারো উত্তর কোরিয়াকে অন্তর্ভুক্তি করল-ট্রাম্প সন্ত্রাসবাদের তালিকায় আবারো উত্তর কোরিয়াকে অন্তর্ভুক্তি করল-ট্রাম্প
শেখ হাসিনার নামে বিশ্ববিদ্যালয় হচ্ছে?
কাঁদলেন ঐশ্বরিয়া!
গেইল আর সাকিবের ঝড়
নোয়াখালীতে র‍্যাবের সঙ্গে বন্দুকযুদ্ধে দুজন নিহত
কোহলির সেঞ্চুরির ফিফটি
বিগ বি’র নাতনি আরাধ্যর ষষ্ঠ জন্মদিন
হাসপাতাল লাশ জিম্মি করতে পারবে না : হাইকোর্ট
রোহিঙ্গা সংকট সমাধানে কূটনৈতিক চাপ অব্যাহত রাখতে হবে ?
রাজধানীতে মাদ্রাসাছাত্রের গলাকাটা লাশ উদ্ধার
শিরোপা জিতেই নিয়েছে বার্সা!