ঢাকা, জুন ২০, ২০১৮, ৬ আষাঢ় ১৪২৫
---
---
bbc24news.com
প্রথম পাতা » জেলার খবর » বাংলাদেশে আশ্রয়ের সন্ধানে আসা রোহিঙ্গারা নির্যাতনের শিকার হচ্ছে?
বুধবার ● ৬ সেপ্টেম্বর ২০১৭, ৬ আষাঢ় ১৪২৫
Email this News Print Friendly Version

বাংলাদেশে আশ্রয়ের সন্ধানে আসা রোহিঙ্গারা নির্যাতনের শিকার হচ্ছে?

---বিবিসি২৪নিউজ, উখিয়া থেকে:এমন জানলে মিয়ানমারের সেনাবাহিনী, সীমান্তরক্ষী বাহিনী ও রাখাইন সন্ত্রাসীদের গুলি খেয়ে মরতাম, তবুও এদেশে আশ্রয়ের জন্য আসতাম না’ এমন কথা গুলি বলছিলেন বাংলাদেশে আশ্রয়ের সন্ধানে আসা রোহিঙ্গারা । নির্যাতনের শিকার হয়ে দলে দলে বাংলাদেশে পালিয়ে আসছে রোহিঙ্গারা। মিয়ানমারে পুরুষ যুবকের ধরে নিয়ে গুলি করে হত্যা করার পাশাপাশি মহিলাদের গলা কেটে হত্যা করা হচ্ছে। শিশুদের নিক্ষেপ করা হচ্ছে আগুনে। তাই ওপারে মৃত্যুর মুখ থেকে বাঁচতে রোহিঙ্গারা এপারে আসছে একটু নিরাপদ আশ্রয়ের সন্ধানে, কিন্ত এপারে এসেও যেন তাদের বিপদ পিছু ছাড়ছে না। পালিয়ে এসে পড়ছে লুটেরাদের হাতে। বাংলাদেশের সীমান্তবর্তী এলাকায় অবস্থান নেওয়া এসব লুটেরা পালিয়ে আসা রোহিঙ্গাদের স্বর্ণ, মুল্যবান জিনিস পত্র সহ গরু মহিষ ও ছাগল লুটে নিচ্ছে। পাশপাশি যুবতী নারীরা নির্যাতনের শিকার হচ্ছে।স্থানীয় আইনশৃংখলা বাহিনীর কাছে এ সংত্রুান্ত বেশকিছু অভিযোগ থাকলেও লুটেরাদের বিরুদ্ধে কোন ব্যবস্থা নিচ্ছেনা।
সীমান্তর রেজু আমতলী ও হাতিমুরা সরজমিন গিয়ে দেখা গেছে, মিয়ানমার থেকে দলে দলে আসছে রোহিঙ্গারা সীমান্ত পেরিয়ে টমটম ও বিভিন্ন গাড়ী যোগে দালালের সহায়তায় পৌছে যাচ্ছে উখিয়ার কুতুপালং ও বালুখালী বস্তিতে। এদের কেউ কেউ চলে গাড়ী যোগে দুরদুরান্তে দেশের আনাচে-কানাচে। এদিকে বৃহস্পতিবার সকালে রেজু আমতলী পয়েন্ট দিয়ে অনুপ্রবেশকালে ৩ মহিলার ৮ টি গরু মারধর করে ছিনিয়ে নেয় স্থানীয় লুটেরারা। রাস্তার পাশে এ তিন মহিলাকে বৃষ্টির মধ্যে ভিজে আজাহারি করতে দেখা যায়। মিয়ানমারের দিল হোসেনের স্ত্রী মাজেদা বেগম (২৪) বলেন, আমার স্বামী কোথায় জানিনা, ৩টি গরু ছিল আমার শেষ সম্বল। এই গরু নিয়ে আসার সময় রেজু আমতলি বিওপির পশ্চিম খালের ব্রিজের পাশ থেকে কয়েকজন দুর্বৃত্ত আমার গরু গুলো কেড়ে নিয়ে যায়, আমার কান্না করতে থাকলে তাঁরা আমাকে লাথি মেরে মাঠিয়ে ফেলে দেয়। আমি এখন কি করব, কোথায় যাব ভেবে পাচ্ছিনা। একই কথা অনুপ্রবেশকারী রোহিঙ্গা মহিলা হাফসা বেগম(৩৩) তাঁর ২টি গরু লুট করে নিয়ে গেছে কিছু দুর্বৃ। আরেক নারী ছমুদা বেগম (৩০) বলেন, তার ৩টি গরু অপরাপর গরুর সাথে নিয়ে আসার পথে ওই জায়গা থেকে ছিনতাই করে নিয়ে যায় কতিপয় দুর্বৃত্তরা। খোঁজ খবর নিয়ে যায় এসব দুর্বৃত্তরা সরকারী দলীয় ছত্রছায়ায় ওআইনশৃংখলাবাহিনী যোগ সাজসে অপকর্ম করছে। উখিয়ার রাজাপালং ইউনিয়নের ডেইলপাড়া, ডিগলিয়াপালং, চাকবৈঠা, করইবনিয়া, দরগাহবিলসহ প্রবৃদ্ধি এলাকায় চলছে মিয়ানমারের নির্যাতিত রোহিঙ্গাদের গরু,মহিষ,ছাগল, র্স্বণালংকার সহ মূল্যাবান জিনিসপত্র লুটপাট। ওই তারই অদুরে কান্না করছে আরো ৭জন রোহিঙ্গা। আজাদ কামাল (৩৮) নামের এক রোহিঙ্গা জানান, আমতলি এলাকার আশু আলী নামের এক লোকের মাধ্যমে সে ২টি গরু ৭২হাজার টাকায় বিক্রি করেছে উখিয়ার এক ব্যবসায়ীকে। তাঁকে নগদ এক টাকাও দেয়নি। কিš‘ ২দিন অতিবাহিত হয়ে গেলেও আশু আলী তাঁর প্রাপ্য টাকা গুলো দিচ্ছেনা। এ ধরনের আরো ৬জন রোহিঙ্গার অভিযোগ আশু আলী নামের এই ব্যক্তির বিরুদ্ধে। অথচ সে দীর্ঘদিন যাবৎ রেজু আমতলি বিজিবি’র সোর্স হিসেবে কাজ করে আসছে। অপরদিকে সীমান্ত দিয়ে অনুপ্রবেশ করা মিয়ানমারের লেইনছি পাড়া গ্রামের ৭৫ বছরের বৃদ্ধ নবী হোসেনের ৬ টি গরু জোরপূর্বক কেড়ে নেয় দুবৃত্তরা। গত বুধবার সন্ধ্যায় সীমান্তবর্তী এলাকা থেকে উখিয়ার জালিয়াপালং ইউনিয়নের মেম্বার মোজাম্মেল ও মুছা মিয়ানমার থেকে পালিয়ে আসা মিয়ানমারের নাই”ছাদং পাড়ার ফকির আহামদের পুত্র এহসান ও মৃত মোস্তফার পুত্র খলিলের ১২ টি মহিষ লুট করে তার এলাকায় নিয়ে যায়। এসব মহিষ থেকে ২ মেম্বার ৪ টি রেখে বাকী ৮ টি মহিষ বাইরে বিত্রিু করে দেয়। পরে ঘটনা জানাজানি হওয়ার পর থানা পুলিশ পর্যন্ত গড়ায় ব্যাপারটি। পরে বুধবার রাতে উখিয়া থানার ওসি মোঃ আবুল খায়ের জালিয়াপালং ইউনিয়নের চেয়ারম্যান নুরুল আমিন চৌধুরীকে ডেকে এনে লুটকৃত মহিষগুলো উদ্ধার করে চেয়ারম্যানের জিম্মায নিতে নির্দেশ দেন। সীমান্ত এলাকায় রোহিঙ্গাদের নিয়ে জমজমাট ব্যবসা শুরু হয়েছে,কোন রোহিঙ্গার দল বাংলাদেশ সীমান্ত পেরিয়ে প্রবেশ করলেই পড়ছে লুটেরাদের কবলে। এসব লুটেরারা মিয়ানমারে নির্যাতনের শিকার হয়ে এদেশে পালিয়ে আসা রোহিঙ্গাদের ব্যাপক মারধর করে তল্লাসী পূর্বক সবকিছু কেটে নিচ্ছে। বিশেষ করে রোহিঙ্গাদের সাথে করে নিয়ে আসা শত শত গরু,মহিষ,ছাগল ও স্বর্ণ সহ মুল্যবান জিনিস কেড়ে নিচ্ছে লুটেরার দল। এটা এখন বাংলাদেশ সীমান্তবতী এলাকা রেজু আমাতলী,হাতিমুরা,দরগা বিল ডেইলপাড়ার প্রতিদিনকার চিত্র কিছুদুর পর পর এসব লুটেরার দল উখিয়ার কুতুপালং ও বালুখালী বস্তি মুখী রোহিঙ্গাদের বহনকারী গাড়ী তল্লাসী চালিয়ে রোহিঙ্গাদের উপর চরম নির্যাতনের পর সবকিছু কেড়ে নিচ্ছে। রাতের আধারে মিয়ানমার থেকে সীমান্তে পেরিয়ে আসা যুবতী নারীদেরও অপহরন করা হচ্ছে বলে স্থানীয় এলাকাবাসী জানান। আইনশৃংখলা রক্ষাকারী বাহিনীর তৎপরতা নেই বললেই চলে। এ ব্যাপারে ৩৪ বিজিবির অধিনায়ক লেঃ কর্ণেল মন্জুরুল হাসান খান বলেন, সীমান্তে জিরো পয়েন্টে এরকম কোন ঘটনা ঘটার কথা নয়। বাংলাদেশ সীমান্ত পেরিয়ে যাওয়ার সময় বেশকিছু গরু আটক করেছে বিজিবি। তাছাড়া যাতে বাংলাদেশের কোথাও নির্যাতনের শিকার না হয় সেদিকে দৃষ্টি রাখা হয়েছে।

মিয়ানমারে সহিংসতায় রোহিঙ্গা মুসলিমদের পাশাপাশি দেশ ছেড়ে চলে আসতে শুরু করেছে হিন্দু সম্প্রদায়ের লোকজন। তবে তাঁদের অভিযোগ মিয়ানমারের মুখোঁশধারী কতিপয় সশস্ত্র কিছু লোকজন তাঁদেরকে নির্যাতন করেছে। চলতি মাসে রাথেটং শহরে নতুন করে ‘ক্লিয়ারেন্স অপারেশন’ শুরু করে মিয়ানমারের সেনাবাহিনী। এ এলাকায় রাখাইন ও রোহিঙ্গা দুই সম্প্রদায়েরই বসবাস। সেকারণে সেখানে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়। আর তার মধ্যেই বৃহস্পতিবার নিরাপত্তা বাহিনী ও রোহিঙ্গাদের সংঘর্ষ সৃষ্টি হয়। এতে মিয়ানমার সরকারের দাবী অনুযায়ী ১০৬জন নিহত হয়েছে। তৎমধ্যে ১২জন সেদেশের নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্য। তবে রোহিঙ্গারা গত ৫দিনের সহিংসতায় ২হাজারের অধিক রোহিঙ্গার মৃত্যু হয়েছে বলে দাবী করলেও তার কোন সঠিক পরিসংখ্যান এখনো পাওয়া যায়নি।

বাংলাদেশ হিন্দু বৌদ্ধ খ্রীস্টান ঐক্য পরিষদের সাধারণ সম্পাদক এবং আন্তর্জাতিক মানবতা বিরোধী ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউটর এ্যাডভোকেট রানা দাশগুপ্ত সরজমিন এদের আশ্রিত কুতুপালং এলাকা পরিদর্শন করে বলেন, মিয়ানমার সরকার অত্যন্ত সুপরিকল্পিত ভাবেই মিয়ানমারে গণহত্যা চালাচ্ছে। এই গণহত্যার আন্তর্জাতিকভাবে তদন্ত হওয়া প্রয়োজন বলে মনে করেন তিনি।


ঢাকা ‘জঙ্গি আস্তানায়’ র‍্যাবের অভিযান: নিহত ৫

নরসিংদীতে বাস ও কভার্ডভ্যানের সংঘর্ষে : নিহত ৫


এ বিভাগের আরো খবর...

অভিবাসী শিশুদের সমালোচনার মুখোমুখি- ট্রাম্প অভিবাসী শিশুদের সমালোচনার মুখোমুখি- ট্রাম্প
শিগগিরই উ. কোরিয়া সফর করবেন- পম্পেও শিগগিরই উ. কোরিয়া সফর করবেন- পম্পেও
গাজীপুরে প্রধান নির্বাচন কমিশনার গাজীপুরে প্রধান নির্বাচন কমিশনার
মৌলভীবাজারে বিশুদ্ধ পানির জন্য হাহাকার! মৌলভীবাজারে বিশুদ্ধ পানির জন্য হাহাকার!
ময়মনসিংহে মাইক্রোবাস-সিএনজি সংঘর্ষে নিহত ৩ ময়মনসিংহে মাইক্রোবাস-সিএনজি সংঘর্ষে নিহত ৩
মালয়েশিয়ার রেমিটেন্স প্রেরণে শীর্ষ অবস্থানে বাংলাদেশ মালয়েশিয়ার রেমিটেন্স প্রেরণে শীর্ষ অবস্থানে বাংলাদেশ
প্রচারণায় মুখরিত গাজীপুর নগরী প্রচারণায় মুখরিত গাজীপুর নগরী
আবারও কমলাপুরে রাজধানীমুখী মানুষের ভিড় আবারও কমলাপুরে রাজধানীমুখী মানুষের ভিড়
বছরে ৭ কোটি মানুষ শরণার্থী হচ্ছে-ইইএনএইচসিআর বছরে ৭ কোটি মানুষ শরণার্থী হচ্ছে-ইইএনএইচসিআর
জাতিসংঘের মানবাধিকার পরিষদ থেকে বেরিয়ে আসবে- যুক্তরাষ্ট্র জাতিসংঘের মানবাধিকার পরিষদ থেকে বেরিয়ে আসবে- যুক্তরাষ্ট্র

সর্বাধিক পঠিত

অভিবাসী শিশুদের সমালোচনার মুখোমুখি- ট্রাম্প অভিবাসী শিশুদের সমালোচনার মুখোমুখি- ট্রাম্প
শিগগিরই উ. কোরিয়া সফর করবেন- পম্পেও শিগগিরই উ. কোরিয়া সফর করবেন- পম্পেও
গাজীপুরে প্রধান নির্বাচন কমিশনার গাজীপুরে প্রধান নির্বাচন কমিশনার
মৌলভীবাজারে বিশুদ্ধ পানির জন্য হাহাকার! মৌলভীবাজারে বিশুদ্ধ পানির জন্য হাহাকার!
ময়মনসিংহে মাইক্রোবাস-সিএনজি সংঘর্ষে নিহত ৩ ময়মনসিংহে মাইক্রোবাস-সিএনজি সংঘর্ষে নিহত ৩
দর্শকের কান্না দেখে আমিও কেঁদেছি? দর্শকের কান্না দেখে আমিও কেঁদেছি?
মালয়েশিয়ার রেমিটেন্স প্রেরণে শীর্ষ অবস্থানে বাংলাদেশ মালয়েশিয়ার রেমিটেন্স প্রেরণে শীর্ষ অবস্থানে বাংলাদেশ
প্রচারণায় মুখরিত গাজীপুর নগরী প্রচারণায় মুখরিত গাজীপুর নগরী
আবারও কমলাপুরে রাজধানীমুখী মানুষের ভিড় আবারও কমলাপুরে রাজধানীমুখী মানুষের ভিড়
বছরে ৭ কোটি মানুষ শরণার্থী হচ্ছে-ইইএনএইচসিআর বছরে ৭ কোটি মানুষ শরণার্থী হচ্ছে-ইইএনএইচসিআর
প্রধানমন্ত্রীর বিমানে ত্রুটির মামলার প্রকৌশলীদের জামিন মঞ্জুর
কাঙ্খিত ফল পেতে হলে,ভেজালবিরোধী অভিযান চালু রাখতে হবে?
মাদকযুদ্ধে কেন হারবে বাংলাদেশ?
টাঙ্গাইল-বঙ্গবন্ধু সেতু মহাসড়কের দুই ট্রাকের সংঘর্ষে নিহত ৩
ঈদযাত্রা নির্বিঘ্নে মহাসড়কে পদক্ষেপ নিন
হাইকোর্টে ১৮ অতিরিক্ত বিচারক নিয়োগ
বাংলাদেশে দু’কোটি মানুষ আর্সেনিকের ঝুঁকিতে?
প্রধানমন্ত্রীকে ২০৪১সাল পর্যন্ত ভারতের পূর্ণ সমর্থনের কারন কি?
‘মাদক ব্যবসার চেয়েও ক্রসফায়ার বড় অপরাধ?
অসহনীয় যানজট নিরসনে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নিন?