ঢাকা, এপ্রিল ২৬, ২০১৮, ১৩ বৈশাখ ১৪২৫
---
---
bbc24news.com
প্রথম পাতা » ইউরোপ » জার্মানে যৌন খেলনার ইতিহাস সেক্সশপ সাম্রাজ্য
সোমবার ● ১৮ ডিসেম্বর ২০১৭, ১৩ বৈশাখ ১৪২৫
Email this News Print Friendly Version

জার্মানে যৌন খেলনার ইতিহাস সেক্সশপ সাম্রাজ্য

---বিবিসি২৪নিউজ, দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে বৈমানিক হিসেবে কাজ করেছেন বেয়াটে উহসে, এমনকি স্টান্ট পাইলটও ছিলেন৷ এই অসমসাহসী মহিলার আরেকটি সাহসের কাজ ছিল যুদ্ধ শেষ হবার পরেই ১৯৪৬ সালে তাঁর সেক্সশপ চেইন প্রতিষ্ঠা করা৷ যৌনকামনা ও যৌন উদ্দীপনায় আজীবন বিশ্বাসী বেয়াটে উহসে ও তাঁর বাণিজ্যিক কর্মকাণ্ড জার্মানদের যৌনজীবনকেই বদলে দিয়েছে, বলে সমাজতাত্ত্বিকরা দাবি করে থাকেন৷বেয়াটে উহসের প্রখ্যাত সেক্স চেইন একটি দেউলিয়া ত্রাণ পরিকল্পনা দাখিল করেছে৷ যুদ্ধপরবর্তী জার্মানি তথা ইউরোপে সংস্থাটি যে বিপ্লব আনে, দৃশ্যত তার সঙ্গে তাল রাখতে পারেনি বেয়াটে উহসে৷

২০০১ সালে পরলোকগমন করেন বেয়াটে উহসে৷ তার দু’দশকের মধ্যেই কি তাঁর ‘ইরোটিক’ সাম্রাজ্য অস্ত যেতে বসেছে? গত শুক্রবার ফ্লেন্সবুর্গে হোল্ডিং কোম্পানি ‘বিইউ’ দেউলিয়া হওয়ার নোটিশ দাখিল করে – তবে নিজের নিয়ন্ত্রণে ও আদালতের তত্ত্বাবধানে থেকে৷

কাঁচা কলা হোক বা উটের শুকনো গোবর- প্রাচীন কালে গ্রিস ও মিশরের মানুষ এগুলোর ওপর পিচ্ছিল পর্দার্থের প্রলেপ দিয়ে যৌন খেলনা বানিয়ে নিত৷ এছাড়া আরও বিকল্প ছিল বাঁকানো পাথর, চামড়া বা কাঠের বস্তু৷ বিশ্বের প্রথম ‘ডিলডো’ কিন্তু জার্মানিতেই আবিষ্কার হয়েছিল, তাও আবার ২৮,০০০ বছর আগে৷ ২০ সেন্টিমিটার লম্বা এই পাথরটি কেবল যে ‘সেক্স টয়’ হিসেবে ব্যবহৃত হতো তা-ই নয়, আগুন জ্বালানোর কাজেও ব্যবহৃত হতো৷
‘বিইউ’-এর কর্মীসংখ্যা এখন মাত্র ১০, কিন্তু ইউরোপ জুড়ে তাদের যে ৪৩টি সেক্সশপ আছে – কোম্পানির প্রশাখাগুলি যে সব বিপণী চালিয়ে থাকে – সেখানে আজও প্রায় ৩৪৫ জন কর্মী নিযুক্ত৷

‘বিইউ’ হোল্ডিং-এর মূল সমস্যা হলো বিনিয়োগকারীদের হাতে কোম্পানির প্রায় তিন কোটি ইউরো মূল্যের বন্ড বা কাগজ, যা ২০১৯ সালের মধ্যেই ফেরত দিতে হবে৷ ওদিকে কোম্পানি ২০১৬ সালে ১০ কোটি ইউরোর বেশি আয় করলেও, লোকসান হয়েছে সাকুল্যে প্রায় ৬২ লাখ ইউরো৷

১৯৯৯ সালে বেয়াটে উহসে কোম্পানির শেয়ার যখন প্রথম বাজারে আসে, তখন তার মূল্য ছিল শেয়ার প্রতি ৭ ইউরো ২০ সেন্ট৷ পরে সেই শেয়ারের দাম দাঁড়িয়েছিল ২৮ ইউরো ২০ সেন্টে৷ ২০০৫ সালেও বেয়াটে উহসে কোম্পানি সবচেয়ে বেশি আয় করে৷ তা সত্ত্বেও ২০০৮ সালের মধ্যে কোম্পানির শেয়ারের মূল্য গিয়ে দাঁড়ায় ৫৮ সেন্টে৷ গত সপ্তাহান্তে সেই শেয়ার বেচাকেনা হয়েছে মাত্র পাঁচ সেন্টে৷

কেন এভাবে গ্রাহক খোয়াল বেয়াটে উহসে? বিশ্লেষকরা বলছেন, কোম্পানিটি ই-কমার্সের প্রবণতা ঠিক উপলব্ধি করতে পারেনি; সেই অবকাশে ‘আইস.ডিই’ বা ‘আমোরেলি’-র মতো নবাগত কোম্পানিরা বিশেষ করে মহিলা ও দম্পতিদের জন্য অভিনবত্বের পসরা খুলে তাদের ‘‘তরতাজা আবেদনের” জোরে বাজার মাত করেছে৷

সঙ্গমের পর প্রস্রাব করলে ব্যাকটিরিয়া প্রস্রাবের সঙ্গে বেরিয়ে যায়৷ কিন্তু যদি আগে করেন, তাহলে নারীদের ইউরিনারি ট্র্যাক ইনফেকশন বা মূত্রনালীতে সংক্রমণ হতে পারে৷ এমনটাই জানিয়েছেন ইউরোলজিস্টরা৷

বেয়াটে উহসে তাঁর স্টান্ট পাইলটের লাইসেন্স পান ১৯৩৮ সালে৷ দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে তিনি জার্মানির হয়ে মেসারস্মিট জঙ্গিবিমান চালিয়েছেন৷ ১৯৪৬ সালে তাঁর প্রথম বাণিজ্যিক উদ্যোগ ছিল মহিলারা কিভাবে গর্ভবতী হওয়া থেকে রেহাই পেতে পারেন, সে বিষয়ে একটি প্রচারপত্রিকা৷ তাঁর মেইল অর্ডার ব্যবসা খুব ভালোই চলতে থাকে; ফলে বেয়াটে উহসে-র ‘‘বৈবাহিক স্বাস্থ্যবিধি প্রতিষ্ঠানের” প্রথম বিপণীটি খোলে ১৯৬২ সালে, ফ্লেন্সবুর্গে – যেখানে মহিলাদের অন্তর্বাস ও গর্ভনিরোধক বিক্রি করা হতো, নৈতিকতা নিয়ে চিন্তিত নাগরিকদের দায়ের করা বহু মামলা সত্ত্বেও৷ সত্তরের দশকে জার্মানি যখন অবশেষে তার পর্নোগ্রাফি আইন শিথিল করে, ততদিনে বেয়াটে উহসের নাম জার্মানির সব প্রাপ্তবয়স্কের জানা হয়ে গিয়েছে৷

বেয়াটে উহসের সাম্রাজ্যে একটি টেলিভিশন সেক্স চ্যানেলও বাদ যায়নি৷ ১৯৮৯ সালে বার্লিন প্রাকারের পতনের পর সাবেক পূর্ব জার্মানির বাসিন্দারাও বেয়াটে উহসের খদ্দের হন, যার ফলে তাঁর ‘ইরোটিক’ পণ্যের বিক্রি বাড়ে দারুণভাবে৷ কিন্তু বেয়াটে উহসে সংস্থার একাধিপত্যে প্রথম আঁচড় কাটে ইন্টারনেট ভিত্তিক নিখর্চার ভিডিও ক্লিপ – যার সঙ্গে ইন্টারনেট ভিত্তিক মেইল অর্ডার যুক্ত হয়ে যৌন পণ্য সংক্রান্ত ব্যবসায়ের ধারাপ্রকৃতিই বদলে যায়৷

বেয়াটে উহসে যে সময়ের সঙ্গে পা মিলিয়ে চলার চেষ্টা করেনি, এমন নয়৷ ২০০৪ সালে সংস্থাটি হামবুর্গে শুধুমাত্র মহিলাদের জন্য তাদের প্রথম সেক্সশপ খোলে, এমনকি কোম্পানির লোগো-তেও নারীসুলভ ছোঁয়া আনে৷ কিন্তু এ সব সত্ত্বেও হয়তো ‘ডেয়ার স্পিগেল’ পত্রিকার আশঙ্কাই সত্যি হতে চলেছে: যে মহিলা ‘‘প্রায় একাই” জার্মানীর যৌন মানচিত্র বদলে দিয়েছিলেন।


প্রতিবার ট্রেন দুর্ঘটনা শিশুদের ভূমিকা থাকে?

উন্নত জীবনের সন্ধানে, মানুষ আশ্রয় খুঁজছে, ইউরোপে


এ বিভাগের আরো খবর...

তারেক ব্রিটেনের আইন মোতাবেক বসবাস করছেন- রিজভী তারেক ব্রিটেনের আইন মোতাবেক বসবাস করছেন- রিজভী
এই মাসে প্রজ্ঞাপন জারি না হলে ফের আন্দোলন! এই মাসে প্রজ্ঞাপন জারি না হলে ফের আন্দোলন!
ইসির সঙ্গে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর বৈঠক আজ ইসির সঙ্গে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর বৈঠক আজ
শব্দদূষণে বধির হওয়ার মাত্রা বেড়েই চলছে শব্দদূষণে বধির হওয়ার মাত্রা বেড়েই চলছে
পরমাণু সমঝোতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ- গুতেরেস পরমাণু সমঝোতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ- গুতেরেস
চীনে ক্রীড়া প্রতিযোগিতায় গ্রেনেড নিক্ষেপ প্রতিযোগিতা! চীনে ক্রীড়া প্রতিযোগিতায় গ্রেনেড নিক্ষেপ প্রতিযোগিতা!
তারেকের পাসপোর্ট পাওয়ার কোনো সুযোগ নেই তারেকের পাসপোর্ট পাওয়ার কোনো সুযোগ নেই
শীঘ্রই রাখাইন পরিদর্শনে যাচ্ছে জাতিসংঘের প্রতিনিধি দল শীঘ্রই রাখাইন পরিদর্শনে যাচ্ছে জাতিসংঘের প্রতিনিধি দল
রোহিঙ্গাদের জন্য ৪৪ লাখ টন ত্রাণ, ৪৫৯ কোটি টাকা অর্থ সহায়তা! রোহিঙ্গাদের জন্য ৪৪ লাখ টন ত্রাণ, ৪৫৯ কোটি টাকা অর্থ সহায়তা!
এশিয়ায় সবচেয়ে পিছিয়ে বাংলাদেশ এশিয়ায় সবচেয়ে পিছিয়ে বাংলাদেশ

সর্বাধিক পঠিত

তারেক ব্রিটেনের আইন মোতাবেক বসবাস করছেন- রিজভী তারেক ব্রিটেনের আইন মোতাবেক বসবাস করছেন- রিজভী
এই মাসে প্রজ্ঞাপন জারি না হলে ফের আন্দোলন! এই মাসে প্রজ্ঞাপন জারি না হলে ফের আন্দোলন!
চতুর্থ কার্যদিবসে ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতায় ফিরেছে সূচক চতুর্থ কার্যদিবসে ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতায় ফিরেছে সূচক
ঘন ও লম্বা চুল করতে রসুনের জুড়ি মেলা ভার ঘন ও লম্বা চুল করতে রসুনের জুড়ি মেলা ভার
বাংলাদেশ কম্বোডিয়াকে হারিয়ে ২০-০ গোলে বড় জয়! বাংলাদেশ কম্বোডিয়াকে হারিয়ে ২০-০ গোলে বড় জয়!
ইসির সঙ্গে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর বৈঠক আজ ইসির সঙ্গে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর বৈঠক আজ
ধোনির জয়,কোহলির বেঙ্গালুরুর হার! ধোনির জয়,কোহলির বেঙ্গালুরুর হার!
শব্দদূষণে বধির হওয়ার মাত্রা বেড়েই চলছে শব্দদূষণে বধির হওয়ার মাত্রা বেড়েই চলছে
সঞ্জয়ের বায়োপিকের নাম ‘দত্ত’ থেকে ‘সঞ্জু’ কেন? সঞ্জয়ের বায়োপিকের নাম ‘দত্ত’ থেকে ‘সঞ্জু’ কেন?
জলবায়ু ও দখলের কারণেই নদীগুলো মৃত জলবায়ু ও দখলের কারণেই নদীগুলো মৃত
অবর্ণনীয় দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে রাজধানীবাসীকে
বিড়ি শিল্পে তামাকের ভয়াবহতা আর শিশুশ্রম বাড়ছে
প্লাস্টিক বিপর্যয়ের মুখে বাংলাদেশ, খাবারে ঢুকে পড়ছে প্লাস্টিক !
শিক্ষাকে কখনো পণ্য হিসেবে বিবেচনা করা উচিত নয়
রেল যোগাযোগ ঝুঁকিমুক্ত করার পদক্ষেপ নিন
এডিবির পর্যবেক্ষণ বলছে-বাংলাদেশের অর্থনীতির ভিত্তি সুদৃঢ় করতে হবে
কাশ্মীরের ধর্ষণ ও হত্যা দিল্লিতে পৌঁছায়িন কেন?
রোহিঙ্গা পাঁচ সদস্যের একটি পরিবারকে ফিরিয়ে নিয়েছে: মিয়ানমার
জলবায়ু পরিবর্তনে বন্যা এবং সাইক্লোনের প্রবণতা বেড়ে যাবে
কোটা আন্দোলনকারীদের জয় হলেও মেধাবীরা কতটুকু সুযোগ পাবে?