ঢাকা, আগস্ট ১৬, ২০১৮, ১ ভাদ্র ১৪২৫
---
bbc24news.com
প্রথম পাতা » সম্পাদকীয় » শিক্ষাকে কখনো পণ্য হিসেবে বিবেচনা করা উচিত নয়
বৃহস্পতিবার ● ১৯ এপ্রিল ২০১৮, ১ ভাদ্র ১৪২৫
Email this News Print Friendly Version

শিক্ষাকে কখনো পণ্য হিসেবে বিবেচনা করা উচিত নয়

শিক্ষাকে কখনো পণ্য হিসেবে বিবেচনা করা উচিত নয়এমডি জালাল,শিক্ষাকে কখনো পণ্য হিসেবে বিবেচনা করা উচিত নয়, এ রকম একটি চিন্তা আমাদের শিক্ষাদর্শনের ভিত্তি।শিক্ষা একটি মৌলিক অধিকার। কিন্তু ইংরেজি মাধ্যমের স্কুল, প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয় ও কোচিং-বাণিজ্যের পর শিক্ষা যে মৌলিক অধিকার তা বলার আর সুযোগ থাকছে না। শিক্ষা অর্জনের চেয়ে এখন বেশি গুরুত্ব পাচ্ছে সার্টিফিকেট লাভ। এ কারণেই ২০১০ সালে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশনের (ইউজিসি) অনুমতি নিয়ে চার মাস মেয়াদি জেনারেল এডুকেশন ডেভেলপমেন্ট (জিইডি) কোর্স চালু করে কিছু প্রতিষ্ঠান। আশ্চর্যের বিষয় হলো, এখান থেকে প্রাপ্ত সনদ দিয়েই বিভিন্ন বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে উচ্চশিক্ষা অর্জন করা যেত। আট বছর অব্যাহতভাবে চলার পর সম্প্রতি ইউজিসি এ সুবিধা বাতিল করেছে গণমাধ্যমে খবরটি আসার পর।

এটি ইউজিসির দুর্বল তদারকির বহিঃপ্রকাশ। চার মাস মেয়াদি একটি কোর্স কীভাবে দুই বছরের এইচএসসি সমমানের হলো, তা বোধগম্য নয়। কারা করলেন, তাও স্পষ্ট নয় এখনো। তাদের এ এখতিয়ার আছে কিনা, তাও জানা যায় না। শিক্ষা বোর্ডের অনুমতি নেয়া হয়েছিল কিনা, তা জানা নেই। যদি অনুমতি না দেয়া হয়, তবে ইউজিসি কোন ক্ষমতাবলে এমন একটি সিদ্ধান্ত বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর ঘাড়ে চাপিয়ে দিয়েছিল? এক্ষেত্রে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের ভূমিকাও প্রশ্নবিদ্ধ।

দুই বছর মেয়াদি উচ্চ মাধ্যমিকে ১ হাজার ২০০ নম্বরের পরীক্ষা দিয়ে পাস করার পর এ সার্টিফিকেট অর্জন করে একজন শিক্ষার্থী। এরপর ওই শিক্ষার্থী বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার যোগ্যতা অর্জন করে। কিন্তু জিইডি কোর্সের মাধ্যমে মাত্র চার মাসে চারটি বিষয় পড়েই উচ্চ মাধ্যমিক সমমানের সার্টিফিকেট অর্জন করে উচ্চশিক্ষায় ভর্তির সুযোগ পাওয়া যেত। কিন্তু শিক্ষাবিদ ও অভিভাবকরা বিষয়টিকে উচ্চশিক্ষার মান নিশ্চিতে অনেক বড় অন্তরায় উল্লেখ করে সমালোচনা করে আসছেন। শিক্ষা বোর্ডগুলোও এ বিষয়ে প্রশ্ন তোলে। এরপর টনক নড়ে ইউজিসির।

আলোচ্য ঘটনা আমাদের শিক্ষা ব্যবস্থার দৈন্যেরই প্রতিচ্ছবি। কোন কোর্স চালু হচ্ছে, কে অনুমতি দিচ্ছে, তদারক কে করছে, আমাদের শিক্ষা ব্যবস্থার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ কিনা প্রভৃতি বিষয় না দেখেই একটি কোর্স বছরের পর বছর ধরে চলে আসছে প্রশাসনের সামনেই।

এ কারণেই আমরা মানসম্পন্ন জনসম্পদ তৈরি থেকে বঞ্চিত হচ্ছি। যেসব শিক্ষার্থী এরই মধ্যে উচ্চশিক্ষা অর্জনের সুযোগ পেয়েছে, তাদের মান কেমন হবে, তা আর বলার অপেক্ষা রাখে না। যারা বর্তমানে এ কোর্সে অংশ নিয়েছে, তাদের ভবিষ্যত্ কী হবে, তা নিয়েও নীতিনির্ধারকদের ভাবতে হবে।

ইউজিসির একটি ভুল সিদ্ধান্তের কারণে শিক্ষার্থীরা কেন ক্ষতিগ্রস্ত হবে? আমরা চাইব, এ প্রক্রিয়ার সঙ্গে জড়িত সবাইকে জবাবদিহির আওতায় আনা হবে। আশ্চর্যের বিষয়, শিক্ষা বোর্ডকে পাশ কাটিয়ে ইউজিসি কীভাবে এমন একটি ভুঁইফোড় সার্টিফিকেটকে এইচএসসি সমমর্যাদা প্রদান করল? শিক্ষা বোর্ডগুলো এত বছর কী তদারক করল? কোনো প্রশ্নের উত্তরই মিলছে না। এক্ষেত্রে শিক্ষা মন্ত্রণালয়, শিক্ষা বোর্ড ও ইউজিসির মধ্যে সমন্বয়ের অভাব দৃশ্যমান।

শিক্ষার ক্ষেত্রে অগ্রগতি আমাদের আশাবাদী করলেও এখনো সমতাভিত্তিক গণমুখী শিক্ষা ব্যবস্থা গড়ে ওঠেনি। অথচ আমাদের সংবিধানে সমতাভিত্তিক সর্বজনীন শিক্ষার কথা উল্লেখ রয়েছে। অর্থাত্ আমাদের শিক্ষা ব্যবস্থা হবে একমুখী, দ্বিমুখী বা বহুমুখী নয়।

কিন্তু বাস্তবে এর উল্টো চিত্র আমরা দেখতে পাচ্ছি। আমাদের শিক্ষা ব্যবস্থায় সরকারি, বেসরকারি শব্দ দিয়ে বিভাজন তৈরি করা হয়েছে, যা সংবিধান পরিপন্থী। বর্তমান অবস্থা থেকে উত্তরণে শিক্ষা সংস্কার কমিশন গঠন জরুরি হয়ে পড়েছে। শুধু কমিশন গঠন করলেই হবে না, তাদের পরামর্শমতো ঢেলে সাজাতে হবে আমাদের শিক্ষা ব্যবস্থা ও প্রক্রিয়া। ২০১০ সালে প্রণীত শিক্ষানীতিতে অনেক ভালো বিষয় থাকলেও সরকার তা বাস্তবায়নে তেমন মনোযোগী নয় বলেই প্রতীয়মান। এসব কারণে আমাদের শিক্ষার মান নিয়ে প্রায়ই প্রশ্ন উঠছে।


সেরা সাকিবরা,তার পরে মোস্তাফিজরা!

দুই শিরোপা জয়ের সুযোগ রয়েছে বার্সেলোনার!


এ বিভাগের আরো খবর...

অবশেষে খুঁজে পাওয়া গেল এলিয়েন? অবশেষে খুঁজে পাওয়া গেল এলিয়েন?
তৃতীয় লিঙ্গদের আইনি স্বীকৃতি দিল-জার্মান তৃতীয় লিঙ্গদের আইনি স্বীকৃতি দিল-জার্মান
রাশেদ চৌধুরীকে ফেরত দিতে পারে-ট্রাম্প প্রশাসন রাশেদ চৌধুরীকে ফেরত দিতে পারে-ট্রাম্প প্রশাসন
খেলাপি ঋণের বৃত্তে ব্যাংকিং খাত খেলাপি ঋণের বৃত্তে ব্যাংকিং খাত
বঙ্গবন্ধু কেন ১২৫ পাকিস্তানির বিচার চেয়েছিলেন! বঙ্গবন্ধু কেন ১২৫ পাকিস্তানির বিচার চেয়েছিলেন!
বাংলাদেশের টিভি চ্যানেলগুলোতে বিদেশি ছবির হিড়িক বাংলাদেশের টিভি চ্যানেলগুলোতে বিদেশি ছবির হিড়িক
জার্মানের নদীতে ভেসে উঠছে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের অস্ত্র-শস্ত্র জার্মানের নদীতে ভেসে উঠছে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের অস্ত্র-শস্ত্র
জলবায়ু পরিবর্তনে-নিউ ইয়র্ক ও সিডনির কোন দ্বীপে বসতি থাকবে না জলবায়ু পরিবর্তনে-নিউ ইয়র্ক ও সিডনির কোন দ্বীপে বসতি থাকবে না
পরীক্ষার খাতায় ‘উই ওয়ান্ট জাস্টিস’ লিখলেন শিক্ষার্থীরা! পরীক্ষার খাতায় ‘উই ওয়ান্ট জাস্টিস’ লিখলেন শিক্ষার্থীরা!
শিক্ষার্থীদের আন্দোলনে ফায়দা লুঠতে ব্যস্ত কারা! শিক্ষার্থীদের আন্দোলনে ফায়দা লুঠতে ব্যস্ত কারা!

সর্বাধিক পঠিত

শিগগিরই বঙ্গবন্ধুর খুনিদের শাস্তি কার্যকর করা হবে- কাদের শিগগিরই বঙ্গবন্ধুর খুনিদের শাস্তি কার্যকর করা হবে- কাদের
অবশেষে খুঁজে পাওয়া গেল এলিয়েন? অবশেষে খুঁজে পাওয়া গেল এলিয়েন?
সুস্থ ও সবল গরু চেনার উপায় কী? সুস্থ ও সবল গরু চেনার উপায় কী?
যেকোনও সময় সাইবার হামলার ঝুকিঁতে ব্যাংক গুলো- কেন্দ্রীয় ব্যাংক যেকোনও সময় সাইবার হামলার ঝুকিঁতে ব্যাংক গুলো- কেন্দ্রীয় ব্যাংক
প্রধানমন্ত্রীর মুখাবয়বে ফুটে ওঠে আত্মবিশ্বাসের ছাপ প্রধানমন্ত্রীর মুখাবয়বে ফুটে ওঠে আত্মবিশ্বাসের ছাপ
বাজারে পেঁয়াজের দাম স্থিতিশীল রয়েছে- সাঈদ খোকন বাজারে পেঁয়াজের দাম স্থিতিশীল রয়েছে- সাঈদ খোকন
নগরীর বস্তিবাসীরা পাবে দুই রুমের ফ্ল্যাট নগরীর বস্তিবাসীরা পাবে দুই রুমের ফ্ল্যাট
রাজধানীতে ২ লাখ ৭ হাজার ১০০ পিস ইয়াবা আটক ছয় রাজধানীতে ২ লাখ ৭ হাজার ১০০ পিস ইয়াবা আটক ছয়
জনতা ব্যাংকের নিয়োগ পরীক্ষা বাতিল! জনতা ব্যাংকের নিয়োগ পরীক্ষা বাতিল!
অবশেষে খুঁজে পাওয়া গেল এলিয়েন?
তৃতীয় লিঙ্গদের আইনি স্বীকৃতি দিল-জার্মান
রাশেদ চৌধুরীকে ফেরত দিতে পারে-ট্রাম্প প্রশাসন
খেলাপি ঋণের বৃত্তে ব্যাংকিং খাত
বাংলাদেশের টিভি চ্যানেলগুলোতে বিদেশি ছবির হিড়িক
জার্মানের নদীতে ভেসে উঠছে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের অস্ত্র-শস্ত্র
জলবায়ু পরিবর্তনে-নিউ ইয়র্ক ও সিডনির কোন দ্বীপে বসতি থাকবে না
পরীক্ষার খাতায় ‘উই ওয়ান্ট জাস্টিস’ লিখলেন শিক্ষার্থীরা!
শিক্ষার্থীদের আন্দোলনে ফায়দা লুঠতে ব্যস্ত কারা!
শিক্ষার্থীদের আন্দোলনে কী ঘটেছিল সেই দিন?