ঢাকা, আগস্ট ১৬, ২০১৮, ১ ভাদ্র ১৪২৫
---
bbc24news.com
প্রথম পাতা » প্রিয়দেশ » মাথা ব্যথা নিয়ে কী বলছেন চিকিৎসকরা?
রবিবার ● ৬ মে ২০১৮, ১ ভাদ্র ১৪২৫
Email this News Print Friendly Version

মাথা ব্যথা নিয়ে কী বলছেন চিকিৎসকরা?

---বিবিসি২৪নিউজ,স্বাস্থ্য ডেস্ক:অসহ্য হলে ওষুধ খেয়ে হয়তো সাময়িক স্বস্তি মেলে, কিন্তু অচিরেই আবার ফিরে আসে ব্যথা। খুবই পরিচিত এই রোগটির নাম মাইগ্রেন।ঘুম ভাঙলেই কপালের একদিকে দপদপে যন্ত্রণা। কখনও তা ছড়িয়ে যায় কপালের মাঝ বরাবর। কখনও আবার মাথার পিছন দিক পর্যন্ত। একঘেয়ে ব্যথায় শিকেয় ওঠে স্বাভাবিক কাজকর্ম। বয়ঃসন্ধি থেকে মাঝবয়স পর্যন্ত যে কোনও সময় এই রোগের শিকার হতে পারেন কেউ। তবে মহিলাদের মধ্যে এই রোগের প্রকোপ বেশি। কীভাবে এই রোগের মোকাবিলা করা সম্ভব তা জানতে আমরা কথা বলেছিলাম উত্তরবঙ্গ মেডিক্যাল কলেজের মানসিক রোগের চিকিৎসা বিভাগের প্রধান নির্মল বেরার সঙ্গে।প্রশ্ন: মাইগ্রেন অসুখটা ঠিক কী?

উ: মাইগ্রেন হয়েছে বলে এখন অনেকের মুখেই শোনা যায়। তবে সেটা কী তা নিয়ে অনেকের মধ্যেই প্রশ্ন থাকতে পারে। আসলে, মাইগ্রেন এক ধরনের মাথা ব্যথা। কপালের একদিকে ব্যথা হয়। মাথার ডান দিকে বা বাঁ দিকের অর্ধেক অংশে ব্যথা হতে পারে। অর্থাৎ ‘আধ কপালি’ ব্যথা। প্রচন্ড ব্যথা হয়। দু’ তিনদিন ব্যথা থাকে। অনেক সময় ব্যথা এত বেশি ব্যথা থাকে যে রোগী কাহিল হয়ে পড়েন। এই অসুখটা এখন অনেকেরই মধ্যেই দেখা যাচ্ছে।

প্রশ্ন: এই রোগের কারণ কী?

উ: এই রোগটি মূলত ‘জেনেটিক’। অর্থাৎ পরিবারের কারও মাইগ্রেনের সমস্যা থাকলেই পরবর্তী প্রজন্মের কারও মধ্যে এই রোগ হওয়ার সম্ভাবনা থাকছে। আরও বিভিন্ন কারণে মাইগ্রেন হতে পারে। আবহাওয়া বদলের জন্যেও এই রোগ হতে পারে। ক্রমাগত দুশ্চিন্তা, টেনশন থেকে মাইগ্রেনের শিকার হন অনেকে। মস্তিষ্কে বিভিন্ন রাসায়নিকের পরিমাণ ওঠানামাও এই রোগের জন্য দায়ী। বিভিন্ন উদ্দীপনা এক স্নায়ু থেকে অন্য স্নায়ুতে পৌঁছতে এই রাসায়নিকগুলোর ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সেগুলোর ভারসাম্য নষ্ট হলে মাইগ্রেন হতে পারে। নানাধরণের ওষুধ থেকেও এই রোগ হতে পারে।

প্রশ্ন: কী ধরনের বা কোন রোগের ওষুধ খাওয়া থেকে মাইগ্রেন হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে?

উ: মানুষের যৌন সমস্যার জন্য যে সমস্ত ওষুধ খেতে হয় তা থেকে অনেক সময় মাইগ্রেন হতে পারে। গর্ভনিরোধক ওষুধ দীর্ঘদিন খেলেও অনেক সময় তা থেকে মাইগ্রেন হতে শুরু করে। আসলে ওই সমস্ত ওষুধগুলোর প্রভাবে শরীরে রাসায়নিকের ভারসাম্য কিছুটা নষ্ট হয়। সে কারণে মস্তিষ্কে তার প্রভাব পড়ে। তাই এই ওষুধগুলি খাওয়ার আগে অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া দরকার।

প্রশ্ন: ঘুমের সমস্যা থেকেও কী মাইগ্রেন হতে পারে?

উ: হ্যাঁ, পর্যাপ্ত ঘুম না-হলে তা থেকেও মাইগ্রেনের ব্যথা হয়ে থাকে অনেকের। শরীর ঠিক রাখতে যথাযথ বিশ্রাম দরকার। ঘুমের সময় আমাদের সম্পূর্ণ বিশ্রাম হয়। দিনের পর দিন ঘুমের ব্যাঘাত হলে তা সমস্যার তৈরি করে। মাইগ্রেনের মতো রোগ সৃষ্টি হয়।

প্রশ্ন: মাইগ্রেন হয়েছে তা একজন কী ভাবে বুঝতে পারবেন, বা এই রোগের উপসর্গ কেমন?

উ: মাইগ্রেন হয়েছে কি না তা বিভিন্ন উপসর্গ দেখে বোঝা যেতে পারে। মাইগ্রেন হলে মাথার একদিক প্রচণ্ড ব্যথা অনুভূত হবে। ব্যথা ৭২ ঘণ্টাও থাকতে পারে। মাথার একাংশ দপদপ করে ব্যথা করে। কারও বমি ভাব হয়। বমিও হতে পারে। এই অবস্থা দুই দিন, তিন দিন চলতে থাকে। গ্যাস-অম্বল থেকেও এই সমস্যা হতে পারে। দীর্ঘদিন এই সমস্যা চলতে থাকলে অনেক সময় মাইগ্রেনের ব্যথা হয়। মাইগ্রেনের ব্যথা হলে অনেক সময় আলোর দিকে তাকাতে পারেন না রোগীরা। দিনের বেলাতে তাই তাদের কষ্ট হয়। চোখে আলোর ঝলকানি দেখা যায়। এই পরিস্থিতিতে স্বাভাবিক কাজকর্ম করার মানসিকতা নষ্ট হয়ে যায়। ব্যথা শুরু হয় ভোরের দিকে। সারাদিন ধরে চলতে থাকে। তিনদিন, চারদিন ধরে এ রকম ব্যথার ফলে মানসিক শান্তিও নষ্ট হয়।

প্রশ্ন: রোগীরা কী কী ক্ষেত্রে সাবধানতা অবলম্বন করবেন?

উ: নিয়মিত পর্যাপ্ত ঘুমের দরকার। রোগীদের ক্ষেত্রে অতিরিক্ত মোবাইল ফোন ব্যবহার, টিভি দেখা, দীর্ঘক্ষণ কম্পিউটারে কাজ করলে ওই সমস্যা বাড়তে পারে। সে কারণে এ সব ব্যবহারের ক্ষেত্রে সাবধানতা অবলম্বন করতে হয়। বাতানুকূল ঘরে থাকা, আবার মাঝে মধ্যে বাইরে গরমের মধ্যে বার হওয়া, এ ধরনের অভ্যাস বা পরিস্থিতির জেরেও মাইগ্রেনের শিকার হন অনেকে। বাতানুকূল যন্ত্র যাদের বাড়িতে রয়েছে তাদের অনেককেই সেই কারণে মাইগ্রেনের শিকার হতে দেখা যায়। অতিরিক্ত ঘুরে বেড়ানো বা দীর্ঘপথ পাড়ি দেওয়ার ধকলের জন্য মাইগ্রেন হতে পারে। অর্থাৎ শরীরের উপর অতিরিক্ত ধকল থেকে মাইগ্রেনের প্রবণতা দেখা দেয়। আবার অনেক সময় কোনও কারণ ছাড়াই এই রোগ দেখা দেয়। তা ছাড়া মাইগ্রেন যাদের হয়, সূর্যের আলোতে তাদের দেখতে সমস্যা হয় বলে বাইরে বার হলে সানগ্লাস ব্যবহার করা দরকার।

প্রশ্ন: মাইগ্রেনের রোগীর সংখ্যা কেমন?

উ: শতকরা ১০ জন বাসিন্দার মধ্যে মাইগ্রেন রোগ দেখা যায়। সব ক্ষেত্রে যে ব্যথা বাড়তে থাকে তা নাও হতে পারে। আবার কারও ক্ষেত্রে ৬ মাস থেকে চার-পাঁচ বছর বয়স পর্যন্ত মাঝে মধ্যে মাইগ্রেনের ব্যথা হতে থাকে। সে কারণে তাদের ক্ষেত্রে এই রোগের সমস্যা বেশি।


বৃহৎ প্রকল্পে তালিকাভুক্তিতে আইনি পরিবর্তন চায়- ডিসিসিআই

গাজা উপত্যকায় শক্তিশালী বিস্ফোরণ; নিহত ৬


এ বিভাগের আরো খবর...

জনতা ব্যাংকের নিয়োগ পরীক্ষা বাতিল! জনতা ব্যাংকের নিয়োগ পরীক্ষা বাতিল!
শেষ কার্যদিবস পুঁজিবাজারে বড় উত্থান শেষ কার্যদিবস পুঁজিবাজারে বড় উত্থান
ফেনীতে ৭ বছরের মেয়ে শিশুর লাশ উদ্ধার ফেনীতে ৭ বছরের মেয়ে শিশুর লাশ উদ্ধার
শেষ শ্রদ্ধায় সিক্ত গোলাম সারওয়ার শেষ শ্রদ্ধায় সিক্ত গোলাম সারওয়ার
১০ পর্বের ধারাবাহিক ‘প্রেমকুমার’ ১০ পর্বের ধারাবাহিক ‘প্রেমকুমার’
৬ নবজাতকের জন্ম দিলেন প্রবাসীর স্ত্রী ৬ নবজাতকের জন্ম দিলেন প্রবাসীর স্ত্রী
রাজধানীতে ভার‌তের স্বাধীনতা দিবস উদযাপন রাজধানীতে ভার‌তের স্বাধীনতা দিবস উদযাপন
সিঙ্গাপুরের ৫০ শীর্ষ ধনীর তালিকায় বাংলাদেশের আজিজ খান সিঙ্গাপুরের ৫০ শীর্ষ ধনীর তালিকায় বাংলাদেশের আজিজ খান
নিউইয়র্কে লাঞ্ছিত ইমরান এইচ সরকার নিউইয়র্কে লাঞ্ছিত ইমরান এইচ সরকার
কিশোরগঞ্জে বাসচাপায় সিএনজির ৩ যাত্রী নিহত কিশোরগঞ্জে বাসচাপায় সিএনজির ৩ যাত্রী নিহত

সর্বাধিক পঠিত

শিগগিরই বঙ্গবন্ধুর খুনিদের শাস্তি কার্যকর করা হবে- কাদের শিগগিরই বঙ্গবন্ধুর খুনিদের শাস্তি কার্যকর করা হবে- কাদের
অবশেষে খুঁজে পাওয়া গেল এলিয়েন? অবশেষে খুঁজে পাওয়া গেল এলিয়েন?
সুস্থ ও সবল গরু চেনার উপায় কী? সুস্থ ও সবল গরু চেনার উপায় কী?
যেকোনও সময় সাইবার হামলার ঝুকিঁতে ব্যাংক গুলো- কেন্দ্রীয় ব্যাংক যেকোনও সময় সাইবার হামলার ঝুকিঁতে ব্যাংক গুলো- কেন্দ্রীয় ব্যাংক
প্রধানমন্ত্রীর মুখাবয়বে ফুটে ওঠে আত্মবিশ্বাসের ছাপ প্রধানমন্ত্রীর মুখাবয়বে ফুটে ওঠে আত্মবিশ্বাসের ছাপ
বাজারে পেঁয়াজের দাম স্থিতিশীল রয়েছে- সাঈদ খোকন বাজারে পেঁয়াজের দাম স্থিতিশীল রয়েছে- সাঈদ খোকন
নগরীর বস্তিবাসীরা পাবে দুই রুমের ফ্ল্যাট নগরীর বস্তিবাসীরা পাবে দুই রুমের ফ্ল্যাট
রাজধানীতে ২ লাখ ৭ হাজার ১০০ পিস ইয়াবা আটক ছয় রাজধানীতে ২ লাখ ৭ হাজার ১০০ পিস ইয়াবা আটক ছয়
জনতা ব্যাংকের নিয়োগ পরীক্ষা বাতিল! জনতা ব্যাংকের নিয়োগ পরীক্ষা বাতিল!
অবশেষে খুঁজে পাওয়া গেল এলিয়েন?
তৃতীয় লিঙ্গদের আইনি স্বীকৃতি দিল-জার্মান
রাশেদ চৌধুরীকে ফেরত দিতে পারে-ট্রাম্প প্রশাসন
খেলাপি ঋণের বৃত্তে ব্যাংকিং খাত
বাংলাদেশের টিভি চ্যানেলগুলোতে বিদেশি ছবির হিড়িক
জার্মানের নদীতে ভেসে উঠছে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের অস্ত্র-শস্ত্র
জলবায়ু পরিবর্তনে-নিউ ইয়র্ক ও সিডনির কোন দ্বীপে বসতি থাকবে না
পরীক্ষার খাতায় ‘উই ওয়ান্ট জাস্টিস’ লিখলেন শিক্ষার্থীরা!
শিক্ষার্থীদের আন্দোলনে ফায়দা লুঠতে ব্যস্ত কারা!
শিক্ষার্থীদের আন্দোলনে কী ঘটেছিল সেই দিন?