ঢাকা, ফেব্রুয়ারী ২৩, ২০১৯, ১১ ফাল্গুন ১৪২৫
---
bbc24news.com
প্রথম পাতা » সম্পাদকীয় » মাদকযুদ্ধে কেন হারবে বাংলাদেশ?
রবিবার ● ১০ জুন ২০১৮, ১১ ফাল্গুন ১৪২৫
Email this News Print Friendly Version

মাদকযুদ্ধে কেন হারবে বাংলাদেশ?

---এমডি জালাল:বাংলাদেশে মাদকের বিরুদ্ধে অভিযান শুরু হওয়ার পর থেকে শতাধিক ব্যক্তি ‘বন্দুকযুদ্ধে’ নিহত হয়েছে। যেখানে জীবন-মরণের প্রশ্ন সেখানে একটি ভুলও হালকা করে দেখার উপায় নেই। সভ্য সমাজে মানবাধিকারের বিষয়টিকে অত্যন্ত গুরুত্বসহকারে দেখা হয়।

গত ১৫ মে থেকে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে দেশব্যাপী মাদকবিরোধী অভিযান শুরু হয়েছে। এ অভিযানে প্রধানত অংশ নিয়েছে পুলিশ, র‌্যাব ও মাদক নিয়ন্ত্রণ অধিদফতর। দাবি করা হয়েছে একটি অনুপুঙ্খ তালিকার ভিত্তিতেই অভিযানটি পরিচালিত হচ্ছে।

এত যাচাই-বাছাইয়ের নিরিখে প্রণীত তালিকার মধ্যেও ভুল-ত্রুটি থেকে যেতে পারে বলে কেউ কেউ প্রশ্ন তুলেছেন। খোদ আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের স্বীকার করেছেন বিশাল এই অভিযানের মধ্যে দু-একটি ভুল-ত্রুটি থাকতে পারে। ভুল-ত্রুটি নিয়ে এ স্বীকারোক্তির পর প্রচণ্ড সমালোচনার ঝড় উঠেছে।

বাংলাদেশোত্তর কালে বিভিন্ন সময়ে মানুষের বেঁচে থাকার অধিকার নানা প্রসঙ্গকে কেন্দ্র করে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে এসেছে। প্রয়াত সাংবাদিক নির্মল সেন তার একটি কলামের জন্য প্রাতঃস্মরণীয় হয়ে থাকবেন। তার কলামের শিরোনাম ছিল, ‘স্বাভাবিক মৃত্যুর গ্যারান্টি চাই’।

জন্মগ্রহণ করলে একদিন না একদিন মানুষের মৃত্যু ঘটবে এটাই প্রকৃতির নিয়ম। তবে অপঘাতে মৃত্যু কখনই কাম্য নয়। স্বাভাবিক মৃত্যুর বাইরে যেসব মৃত্যুর ঘটনা ঘটে তার মধ্যে সবচেয়ে জঘন্য মৃত্যু হল রাষ্ট্রীয় বাহিনীর হাতে মৃত্যু। রাষ্ট্রবিজ্ঞানের তত্ত্ব অনুযায়ী রাষ্ট্রের বৈশিষ্ট্য হল একটি ভূখণ্ডের মধ্যে রাষ্ট্রীয়বাহিনীর বল প্রয়োগের একচেটিয়া অধিকার।

যতদিন রাষ্ট্র থাকবে ততদিন রাষ্ট্রের একচেটিয়া বল প্রয়োগের অধিকারও বহাল থাকবে। কিন্তু সভ্য গণতান্ত্রিক দেশগুলো এই একচেটিয়া অধিকারের ওপর রাশ টেনে ধরেছে। বলা হচ্ছে, রাষ্ট্র পরিচালিত হবে আইন দ্বারা। একেই বলা হয় আইনের শাসন। কিন্তু আইনের শাসন নিয়েও বিতর্কের উদ্ভব হয়েছে। আইনটি যদি কালো আইন হয় কিংবা বর্বর আইন হয় তাহলে সেই আইনের শাসনও সভ্যসমাজ মেনে নিতে পারে না।

তাই দেশে-দেশে, কালে-কালে প্রচেষ্টা চলছে কীভাবে আইনকে মার্জিত ও মানবিক বৈশিষ্ট্যমণ্ডিত করে তোলা যায়, এ নিয়ে পরীক্ষা-নিরীক্ষার অন্ত নেই। সময়ের দাবিতে আইনেরও সংস্কার হচ্ছে। এমনকি আইনি বিচারে কারও যদি মৃত্যুদণ্ড হয়, তাহলে সেই মৃত্যুদণ্ড কীভাবে সবচেয়ে কম কষ্টদায়ক করা যায় সে নিয়েও নানা বিকল্পের কথা ভাবা হচ্ছে।

আমরা গুয়ান্তানামো কারাগারে ভয়াবহ নিপীড়নের ঘটনা দেখছি। অর্থাৎ রাষ্ট্র অনেক সময় তার স্বার্থ সংরক্ষণ করতে গিয়ে ভদ্রতার মুখোশ খুলে ফেলতে পিছপা হয় না। এতকিছুর পরও সভ্যতার দাবি হচ্ছে মানুষের জন্য মানবিক অধিকারগুলো নিশ্চিত করা। যে সমাজে মানবিক অধিকার নিয়ে কোনো উদ্বেগ থাকে না, সেই সমাজ হয়ে ওঠে অগণতান্ত্রিক, বর্বর ও সভ্যতাবিবর্জিত। এমন সমাজ কারোরই কাম্য নয়।

বাংলাদেশে মাদকবিরোধী অভিযানের সূচনায় র‌্যাবের পক্ষ থেকে ঘোষণা করা হয়েছে, ‘চল যাই যুদ্ধে, মাদকের বিরুদ্ধে’। এরপর থেকে প্রশ্ন উঠেছে এটা কি যুদ্ধ, না অভিযান? না অন্য কিছু। যাই হোক, একে মাদকবিরোধী অভিযান বলেই বিবেচনা করা সঠিক হবে। তবে যে প্রশ্নটি এখন গণমাধ্যমে তুমুল আলোচনার ঝড় তুলেছে তা হল, বিচার প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে না গিয়ে কেন বন্দুকযুদ্ধের নামে মানুষ হত্যা করা হচ্ছে। হতে পারে তারা অপরাধী।

অপরাধীকে অবশ্যই শাস্তি পেতে হবে। আইন নির্ধারণ করে দেবে শাস্তির মাত্রা। আবার বিচার প্রক্রিয়া সম্পর্কে বলা হয়, বিচারে ১০ জন অপরাধী ছাড়া পেয়ে যেতে পারে; কিন্তু একজন নিরপরাধ ব্যক্তিও যেন শাস্তি না পায়। আমরা যে ঔপনিবেশিক আইনের ঐতিহ্য বহন করছি, সেই আইনের ন্যায্যতা এ নীতির ওপরই প্রতিষ্ঠিত।

বিচারবহির্ভূতভাবে কারও প্রাণ হরণ করা হলে সেটি একদিকে যেমন হবে আইনের ব্যত্যয়, অন্যদিকে তেমনি হবে দণ্ড প্রদানের মৌলনীতিরও ব্যত্যয়। এসব নীতি-নৈতিকতার প্রশ্ন যখন আলোচিত হচ্ছে তখন আরেকটি প্রশ্নও উত্থাপিত হচ্ছে। সেটা হল, বন্দুকযুদ্ধে যারা প্রাণ হারাচ্ছে অথবা গ্রেফতার হচ্ছে তারা হল চুনোপুঁটি।

গডফাদার কিংবা রাঘববোয়ালদের কেশাগ্র স্পর্শ করা হয়েছে এমন কোনো নজির দেখা যাচ্ছে না।
বাংলাদেশে মাদকাসক্তের সংখ্যা ৭০ লাখ। এ পরিসংখ্যান যদি সঠিক হয় তাহলে অবশ্যই মানতে হবে ৭০ লাখ পরিবার এর দুর্বহ বোঝা বহন করছে এবং কোটি কোটি মানুষ এর নেতিবাচক প্রভাবে দুঃসহ জীবনযাপন করছে। সমাজের গাঁথুনি লণ্ডভণ্ড হয়ে যাচ্ছে।

বর্তমান সরকার একটানা ক্ষমতায় অধিষ্ঠিত থাকার ৯ বছর পার করেছে। সুতরাং এ সরকারের পক্ষে অনেক আগেই সমাজ থেকে মাদক নির্মূলের পদক্ষেপ নেয়া সম্ভব ছিল। কিন্তু দুর্ভাগ্যের বিষয়, যথেষ্ট সময় হাতে থাকা সত্ত্বেও এরকম কোনো পদক্ষেপ নেয়ার কথা আগে বিবেচনা করা হয়নি।

বর্তমান মাদকবিরোধী অভিযানে যে বিষয়টি দুঃখজনকভাবে অবহেলিত থেকে গেছে তা হল সামাজিক সচেতনতা সৃষ্টি। সরকার রেডিও-টেলিভিশনে বড় বড় উন্নয়ন প্রকল্পগুলো নিয়ে যেভাবে প্রচার-প্রচারণা জমজমাটভাবে গড়ে তুলেছে, তার বিন্দুমাত্র দেখতে পাওয়া যায় না মাদকের মতো সামাজিক অভিশাপের বিরুদ্ধে। সচেতনতা সৃষ্টি না করে শুধু দমন-পীড়ন দিয়ে সাময়িক সাফল্য অর্জন করা গেলেও দীর্ঘস্থায়ী সাফল্য অর্জন করা সম্ভব হবে না।

স্বয়ং প্রধানমন্ত্রী যখন মাদকের বিরুদ্ধে কথা বলেন তখন এর ফলে কিছুটা হলেও সামাজিক সচেতনতা সৃষ্টি হয়। তবে একে অব্যাহত গতি দিতে হলে প্রয়োজন হবে সামাজিক শিক্ষার। এটি হবে একটি আন্দোলন, যে আন্দোলনে সমাজের সর্বস্তরের মানুষ এবং সব সামাজিক প্রতিষ্ঠানকে জড়িত করা সম্ভব হবে।


একাদশে ভর্তির ১ম তালিকা প্রকাশ

সিঙ্গাপুরে পৌঁছালেন কিম জং উন


এ বিভাগের আরো খবর...

প্রধানমন্ত্রীর জার্মানি সফর উন্নয়ন- কূটনৈতিক সম্পর্ক জোরদার হবে! প্রধানমন্ত্রীর জার্মানি সফর উন্নয়ন- কূটনৈতিক সম্পর্ক জোরদার হবে!
খেলাপি ঋণে ‘জিরো টলারেন্স’ চাই খেলাপি ঋণে ‘জিরো টলারেন্স’ চাই
জনতা ব্যাংকে নেতৃত্ব সংকট দেখা দিয়েছে জনতা ব্যাংকে নেতৃত্ব সংকট দেখা দিয়েছে
খাদ্যদ্রব্যে ভেজাল ও ক্ষতিকর উপাদান রোধে নিতে হবে কঠোর পদক্ষেপ! খাদ্যদ্রব্যে ভেজাল ও ক্ষতিকর উপাদান রোধে নিতে হবে কঠোর পদক্ষেপ!
৫ জনই ছাত্রলীগ-যুবলীগ নেতা ৫ জনই ছাত্রলীগ-যুবলীগ নেতা
পুলিশ সপ্তাহের পর প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যের প্রতিফলন কতটুকু ঘটবে? পুলিশ সপ্তাহের পর প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যের প্রতিফলন কতটুকু ঘটবে?
স্বাস্থ্য খাতে দুর্নীতি: আমলে নিতে হবে? স্বাস্থ্য খাতে দুর্নীতি: আমলে নিতে হবে?
নতুন মুদ্রানীতিতে কি হতে পারে? নতুন মুদ্রানীতিতে কি হতে পারে?
কর্মস্থলে চিকিৎসকদের অনুপস্থিতি শাস্তিযোগ্য আপরাধ! কর্মস্থলে চিকিৎসকদের অনুপস্থিতি শাস্তিযোগ্য আপরাধ!
দুর্নীতির বিরুদ্ধে প্রকৃত অর্থেই নিতে হবে জিরো টলারেন্স দুর্নীতির বিরুদ্ধে প্রকৃত অর্থেই নিতে হবে জিরো টলারেন্স

সর্বাধিক পঠিত

পাকিস্তান শান্তিপ্রিয় জাতি কিন্তু হুমকির মুখে ভীত না: পাক সেনাপ্রধান পাকিস্তান শান্তিপ্রিয় জাতি কিন্তু হুমকির মুখে ভীত না: পাক সেনাপ্রধান
যুদ্ধে বিজয়ী হতে সব উপায় অবলম্বন করবে- ভারত যুদ্ধে বিজয়ী হতে সব উপায় অবলম্বন করবে- ভারত
কেলি ক্র্যাফটকে জাতিসংঘে রাষ্ট্রদূত নিয়োগ দিলেন- ট্রাম্প কেলি ক্র্যাফটকে জাতিসংঘে রাষ্ট্রদূত নিয়োগ দিলেন- ট্রাম্প
সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে লড়াই, কাশ্মীরের বিরুদ্ধে নয়- মোদি সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে লড়াই, কাশ্মীরের বিরুদ্ধে নয়- মোদি
৮ লাখ রোহিঙ্গাকে ফেরত পাঠানোর চেষ্টা চলছে : পররাষ্ট্রমন্ত্রী ৮ লাখ রোহিঙ্গাকে ফেরত পাঠানোর চেষ্টা চলছে : পররাষ্ট্রমন্ত্রী
যবিপ্রবির ২০ বিভাগের চেয়ারম্যানের একযোগে পদত্যাগ! যবিপ্রবির ২০ বিভাগের চেয়ারম্যানের একযোগে পদত্যাগ!
গণশুনানির নামে ‘ঘুমানো চক্র’ ষড়যন্ত্র করছে: আইনমন্ত্রী গণশুনানির নামে ‘ঘুমানো চক্র’ ষড়যন্ত্র করছে: আইনমন্ত্রী
সাবেক মন্ত্রীর সাথে বিয়ের পিঁড়িতে সানাই সাবেক মন্ত্রীর সাথে বিয়ের পিঁড়িতে সানাই
কেন শ্রীদেবীর শাড়ি নিলামে তুললেন তার স্বামী ? কেন শ্রীদেবীর শাড়ি নিলামে তুললেন তার স্বামী ?
বানসালী-সালমান ১৯ বছর পর এক সঙ্গে ! বানসালী-সালমান ১৯ বছর পর এক সঙ্গে !
প্রধানমন্ত্রীর জার্মানি সফর উন্নয়ন- কূটনৈতিক সম্পর্ক জোরদার হবে!
খেলাপি ঋণে ‘জিরো টলারেন্স’ চাই
৫ জনই ছাত্রলীগ-যুবলীগ নেতা
দুর্নীতির বিরুদ্ধে প্রকৃত অর্থেই নিতে হবে জিরো টলারেন্স
বেআইনি ব্যাংকিং কার্যক্রমের বিরুদ্ধে বহুমুখী পদক্ষেপ নিন
খাদ্যে অতিরিক্ত ট্রান্সফ্যাটের কারণে, প্রতি বছর বিশ্বে পাঁচ লাখ মানুষের মৃত্যু হয়
স্বাধীনতার পর প্রথমবার ‘মন্ত্রীশূন্য’ কিশোরগঞ্জ
মন চুরির অভিযোগ পুলিশের কাছে!
সৈয়দ আশরাফ যে কবরে সমাহিত হবেন
ব্যবসায়ীদের বিনিয়োগের বাধা দূর করতে হবে?