ঢাকা, নভেম্বর ১৮, ২০১৮, ৪ অগ্রহায়ন ১৪২৫
---
bbc24news.com
প্রথম পাতা » সম্পাদকীয় » ডোনাল্ড ট্রাম্প যুক্তরাষ্ট্রের কূটনীতিকে কোন পথে নিয়ে যাচ্ছেন?
রবিবার ● ২৪ জুন ২০১৮, ৪ অগ্রহায়ন ১৪২৫
Email this News Print Friendly Version

ডোনাল্ড ট্রাম্প যুক্তরাষ্ট্রের কূটনীতিকে কোন পথে নিয়ে যাচ্ছেন?

---এম ডি জালাল: রাজনীতি ও কূটনীতি উভয় ক্ষেত্রেই অনভিজ্ঞ ও অপরিপক্ব মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।ট্রাম্প যুক্তরাষ্ট্রের কূটনীতিকে কোন পথে নিয়ে যাচ্ছেন, সেটাই এখন দেখার বিষয়। ক্ষমতা গ্রহণ করার পর থেকে একের পর এক বিতর্কিত সিদ্ধান্ত নিয়ে চলেছেন।সর্বশেষ তিনি জাতিসংঘের মানবাধিকার কমিশন (ইউএনএইচআরসি) থেকে যুক্তরাষ্ট্রকে প্রত্যাহার করিয়ে নিলেন এর সদস্য রাষ্ট্রগুলোকে ভণ্ড এবং ইসরাইলের বিরুদ্ধে অবিরাম পক্ষপাতদুষ্টতার কথা বলে।
ট্রাম্প তার বিতর্কিত সিদ্ধান্তের জন্য একের পর এক গণমাধ্যমে আলোচিত ও সমালোচিত হচ্ছেন। ক্ষমতা গ্রহণের কয়েকদিনের মধ্যেই তিনি বেশ কয়েকটি মুসলিম দেশের নাগরিকদের যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেন, যা মার্কিন আদালতে চ্যালেঞ্জের মুখে পড়ে।
এরপর তিনি নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি মোতাবেক মেক্সিকো সীমান্তে দেয়াল নির্মাণে মরিয়া হয়ে ওঠেন, যা কংগ্রেস এখনও অনুমোদন করেনি। তিনি ওবামা কেয়ার নামে পরিচিত যুক্তরাষ্ট্রের জনপ্রিয় স্বাস্থ্যসেবা বাতিলের ঘোষণা দেন, যা মধ্যবিত্ত ও দরিদ্র জনগোষ্ঠীর কাছে ব্যাপক জনপ্রিয় ছিল।

তিনি প্যারিস প্রটোকল নামে পরিচিত আন্তর্জাতিক জলবায়ু সংক্রান্ত চুক্তি থেকে আমেরিকাকে প্রত্যাহার করে নেন। তিনি ইসরাইলের দূতাবাস তেলআবিব থেকে জেরুজালেমে স্থানান্তরের বহুল বিতর্কিত সিদ্ধান্ত নেন, যা সমগ্র বিশ্বের মুসলমান ও ফিলিস্তিনিদের চরমভাবে ক্ষুব্ধ করে।

তিনি ইরানের সঙ্গে সম্পাদিত ছয় জাতির পরমাণু সমঝোতা চুক্তি থেকে আমেরিকাকে একতরফাভাবে প্রত্যাহার করিয়ে নেন। শুধু নিজেদের প্রত্যাহার করেই ক্ষান্ত হননি, তিনি আমেরিকার ইউরোপীয় মিত্রদের ওপরও এ চুক্তি থেকে বের হয়ে যাওয়ার জন্য চাপ প্রয়োগ করে আসছেন।

ইয়েমেন ও সিরিয়া ইস্যুতে ইসরাইল ও সৌদি আরব বর্তমানে ইরানের চরম শত্রু। তাই ইসরাইল ও সৌদি আরবের প্ররোচনায় মার্কিন প্রেসিডেন্ট তার নারী কেলেঙ্কারি ও নির্বাচনের সময় রাশিয়ার সঙ্গে কথিত আঁতাত থেকে মানুষের দৃষ্টি ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করার জন্য ইরানের সঙ্গে সম্পাদিত ছয় জাতির পরমাণু চুক্তি থেকে বের হয়ে গেছেন বলে অনেকে মনে করেন এবং ইসরাইলই একমাত্র রাষ্ট্র, যারা ট্রাম্পের এ পদক্ষেপকে স্বাগত জানিয়েছে।

এ চুক্তি থেকে যুক্তরাষ্ট্র বের হয়ে আসার পর এখন যদি ইরান পরমাণু অস্ত্রের পথে অগ্রসর হয়, তাহলে আমেরিকা ও তার মিত্রদের হুমকি-ধমকি দেয়া ছাড়া আর কিছুই করার থাকবে না। পাকিস্তান ও ভারত যখন পারমাণবিক অস্ত্রের অধিকারী হয়, তখন শক্তিধর অনেক রাষ্ট্রকে হুমকি-ধমকি ও অবরোধের মতো অনেককিছু করতে দেখেছি, কিন্তু শেষ পর্যন্ত পাকিস্তান ও ভারতের বিরুদ্ধে কিছুই করতে পারেনি তারা।

এক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্রের একতরফা প্রত্যাহারে ইরানই কূটনৈতিকভাবে লাভবান হবে এবং পরমাণু অস্ত্র কর্মসূচির পথে এগিয়ে যাওয়া তার পক্ষে অত্যন্ত সহজ হবে।

ট্রাম্প মার্কিন প্রেসিডেন্ট হিসেবে নির্বাচিত হওয়ার পর থেকেই দেখা যাচ্ছে, তিনি সকালের সিদ্ধান্ত বিকালে পরিবর্তন করেন। নিজের বিশ্বস্ত বন্ধুকে কয়েকদিনের মধ্যেই শত্রুতে পরিণত করেন। তিনি পররাষ্ট্রমন্ত্রী, প্রতিরক্ষামন্ত্রী, জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টাসহ গুরুত্বপূর্ণ পদে বেশ কয়েক দফা পরিবর্তন এনেছেন, যা মার্কিন রাষ্ট্রপ্রধানদের ইতিহাসে নজিরবিহীন ঘটনা। তিনি গণমাধ্যমকে শত্রু মনে করেন।

ইরানের সঙ্গে সম্পাদিত ছয় জাতির চুক্তি থেকে যুক্তরাষ্ট্রের একতরফা প্রত্যাহার বিশ্ব অর্থনীতিতে প্রভাব ফেলবে বলে বিশেষজ্ঞরা মনে করেন। সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত হবে মার্কিন কূটনীতি। প্রশ্নবিদ্ধ হবে আমেরিকার পররাষ্ট্রনীতি।


আর্জেন্টিনা শিবিরে বিদ্রোহ!

ফের পেছাচ্ছে ‘২০ মিনিটে ঢাকা-গাজীপুর’ প্রকল্প


এ বিভাগের আরো খবর...

নির্বাচনে সবার অংশগ্রহণ-গণতন্ত্রের জন্য ইতিবাচক নির্বাচনে সবার অংশগ্রহণ-গণতন্ত্রের জন্য ইতিবাচক
বাংলাদেশের রাজনৈতিতে সংলাপের কতটুকু গুরুত্ব পায়? বাংলাদেশের রাজনৈতিতে সংলাপের কতটুকু গুরুত্ব পায়?
বহুল প্রত্যাশিত সংলাপে কি ছিল? বহুল প্রত্যাশিত সংলাপে কি ছিল?
একটি অর্থবহ ও সফল সংলাপের প্রত্যাশা করছি একটি অর্থবহ ও সফল সংলাপের প্রত্যাশা করছি
বিশ্বের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের অপব্যবহার নয় বিশ্বের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের অপব্যবহার নয়
শেখ হাসিনা বার্ন ইন্সটিটিউটের: প্রত্যাশিত স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত হবে কি? শেখ হাসিনা বার্ন ইন্সটিটিউটের: প্রত্যাশিত স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত হবে কি?
নদীশাসনের দুর্বলতা বিঘ্নিত হচ্ছে নৌপথে চলাচল নদীশাসনের দুর্বলতা বিঘ্নিত হচ্ছে নৌপথে চলাচল
দৃষ্টিহীনদের জন্য পুজো কতটা আনন্দদায়ক? দৃষ্টিহীনদের জন্য পুজো কতটা আনন্দদায়ক?
অবৈধ হাসপাতালগুলো আদালতের নির্দেশ মানছে না কেন? অবৈধ হাসপাতালগুলো আদালতের নির্দেশ মানছে না কেন?
শিল্পে গ্যাস সংযোগ না দেওয়া, আর্থিক ক্ষতির মুখে-সরকার শিল্পে গ্যাস সংযোগ না দেওয়া, আর্থিক ক্ষতির মুখে-সরকার

সর্বাধিক পঠিত

বাণিজ্যযুদ্ধের প্রস্তুতি নিতে হবে বাংলাদেশকে বাণিজ্যযুদ্ধের প্রস্তুতি নিতে হবে বাংলাদেশকে
শীর্ষ বৈঠকের সমাপ্তি ঘোষণা প্রকাশে ব্যর্থ- এপেক শীর্ষ বৈঠকের সমাপ্তি ঘোষণা প্রকাশে ব্যর্থ- এপেক
আগামী বছর উত্তর কোরিয়া সফরে যাবেন-শি জিন পিং আগামী বছর উত্তর কোরিয়া সফরে যাবেন-শি জিন পিং
শিগগিরই খাসোগি হত্যাকারীদের নাম জানাবে- আমেরিকা শিগগিরই খাসোগি হত্যাকারীদের নাম জানাবে- আমেরিকা
বগুড়ায় মেলায় বিশালাকৃতির মাছের পসরা বসেছে বগুড়ায় মেলায় বিশালাকৃতির মাছের পসরা বসেছে
ভারতে স্বর্ণের চাহিদা বেড়েছে ১৭.৪ টন ভারতে স্বর্ণের চাহিদা বেড়েছে ১৭.৪ টন
টেস্টে ক্যাপ্টেন হওয়ার পর ধোনির কৃর্তী ফাঁস করলেন লক্ষ্মণ! টেস্টে ক্যাপ্টেন হওয়ার পর ধোনির কৃর্তী ফাঁস করলেন লক্ষ্মণ!
চিলিতে তামা উৎপাদন ৭.৩% চিলিতে তামা উৎপাদন ৭.৩%
মিয়ানমারে রোহিঙ্গা শিবিরে পুলিশের অভিযান মিয়ানমারে রোহিঙ্গা শিবিরে পুলিশের অভিযান
“জীবনের শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত বঙ্গবন্ধুর আদর্শ নিয়ে বাঁচতে চাই” “জীবনের শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত বঙ্গবন্ধুর আদর্শ নিয়ে বাঁচতে চাই”
নির্বাচনে সবার অংশগ্রহণ-গণতন্ত্রের জন্য ইতিবাচক
বহুল প্রত্যাশিত সংলাপে কি ছিল?
একটি অর্থবহ ও সফল সংলাপের প্রত্যাশা করছি
শেখ হাসিনা বার্ন ইন্সটিটিউটের: প্রত্যাশিত স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত হবে কি?
নদীশাসনের দুর্বলতা বিঘ্নিত হচ্ছে নৌপথে চলাচল
শিল্পে গ্যাস সংযোগ না দেওয়া, আর্থিক ক্ষতির মুখে-সরকার
গুদামের খাদ্যদ্রব্য পাচারে-সক্রিয় চোর সিন্ডিকেট
প্যারিস জলবায়ু চুক্তি ৩০০ পৃষ্ঠার খসড়া অনুমোদন করেছে-ব্যাংকক
সড়ক শৃঙ্খলা-মূল সমস্যাটা রাজনীতিতেই: কাদের
বিশ্বের ভয়াবহ আবহাওয়া নিয়ে প্রযুক্তিগত আলোচনা চলছে