ঢাকা, ফেব্রুয়ারী ২৩, ২০১৯, ১১ ফাল্গুন ১৪২৫
---
bbc24news.com
প্রথম পাতা » খেলাধুলা » ফরাসি ফুটবল সৌরভে বিশ্বকাপ
সোমবার ● ১৬ জুলাই ২০১৮, ১১ ফাল্গুন ১৪২৫
Email this News Print Friendly Version

ফরাসি ফুটবল সৌরভে বিশ্বকাপ

---বিবিসি২৪নিউজ,স্পোর্টস ডেস্ক:বিশ্বকাপের প্রস্তুতি শুরু করেছে ফ্রান্স। লক্ষ্য, ২০ বছর পর আবারও ফরাসি ফুটবল সৌরভে বিশ্বকে ইন্দ্রজালে আটকানোর। কোচ দিদিয়ের দেশম ইউরো ফাইনালের হারের ক্ষত শুকিয়ে নতুন উদ্যোমে নেমেছেন শিষ্যদের নিয়ে। সেখানে মাদ্রিদে ঘটে যাওয়া জিদানের পদত্যাগ বার্তা ধেঁয়ে আসে ফরাসি শিবিরে। ইউরোপিয়ান মিডিয়ার বাতাসে শোনা যায়, দেশমের জায়গা নিচ্ছেন জিদান!মস্কোর ফাইনালের ৯০ মিনিট পর দৃশ্য দুটিকে একসঙ্গে করা যাক। ইতিহাসের পাতায় নাম তুলে দেশম হেঁটে চলেন অমরত্বের পথে। আর জিদান? ভবিষ্যতে যাই হোক, এখন এই সব গুজবের জায়গা কোথায়! সময় এখন উৎসবের, সময় এখন নতুনের জয়গানের, সময় এখন ফরাসি ফুটবল সৌরভের ঘ্রাণে মোহিত হওয়ার।দিদিয়ের দেশম। ২০ বছর আগে ফ্রান্স প্রথম যেবার ফুটবল দিয়ে জিতেছিল বিশ্বকে, সেবারের ট্রফি উঁচিয়ে ধরা মানুষটি তিনি। অধিনায়ক হিসেবে বিশ্বকাপ জেতার পর স্বপ্ন দেখেছিলেন ফ্রাঞ্জ বেকেনবাওয়ারের পর কোচের ভূমিকাতেও ট্রফি হাতে তোলার। ২০১৪ বিশ্বকাপে হয়নি, কোয়ার্টার ফাইনালেই থামে ফ্রান্সের দৌড়। স্বপ্ন দেখেছিলেন ঘরের মাঠের ইউরো জিতে সেই য্ন্ত্রণায় খানিকটা হলেও প্রলেপ দেওয়ার। কিন্তু বিধিবাম, পর্তুগালের বিপক্ষে ফাইনালে স্বপ্নভঙ্গ!

তাতে অবশ্য থেমে যাননি বিশ্বকাপ জয়ী অধিনায়ক। নতুন স্বপ্নের বীজ বুনে লক্ষ্য স্থির করেন ২০১৮ রাশিয়া বিশ্বকাপ। একঝাঁক তরুণ খেলোয়াড়দের নিয়ে মিশনে নেমে অবশেষে ধরা দিল বহুপ্রতীক্ষিত সাফল্য। সব বাধা পেরিয়ে ২০ বছর পর বিশ্ব জয়ের আনন্দে মাতলেন ফরাসিরা। দ্বিতীয়বারের মতো বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন হয়ে তারা ধরে ফেলল আর্জেন্টিনা ও উরুগুয়েকে।

বিশ্বকাপের সাফল্য নাকি নির্ভর করে ঘরোয়া ফুটবলের কাঠামোর ওপর। যে দেশের ঘরোয়া ফুটবলের কাঠামো যত উন্নত, তাদের সাফল্যের সম্ভাবনা থাকে তত বেশি। ২০১০ সালের স্পেন, ২০১৪ সালের জার্মানি তার উজ্জ্বল উদাহরণ। তবে এবারের ফ্রান্সকে এই তালিকায় দাঁড় করানো যাবে না কোনোভাবেই। ক্রোয়েশিয়ার বিপক্ষে ফাইনালের একাদশে নজর দিন, কাইলিয়ান এমবাপে ছাড়া ফরাসি লিগে খেলা কোনও খেলোয়াড় নেই সেখানে।

আসলে ফরাসি খেলোয়াড়রা এত ভালো করছেন যে, ইউরোপের অন্য লিগগুলো তাদের দিকে হাত বাড়িয়েই থাকে। ইউরোপিয়ান ফুটবলে এখন সবচেয়ে বেশি তারকা ফুটবলার সরবরাহ করছে সম্ভবত ফ্রান্স। যে কারণে বলা হয়ে থাকে, ফ্রান্স দলে বেঞ্চে যারা বসে থাকেন, তাদের একাদশও অন্য অনেক দেশের সেরা একাদশের চেয়ে ভালো!

হার সবসময় হতাশায় ডোবায় না, কখনও কখনও নতুন দিনের প্রেরণা হিসেবেও কাজ করে। অনেকটা ‘শোককে শক্তিতে পরিণত করার’ মতো ব্যাপার। ফ্রান্সের বেলার সম্ভবত সেটাই হয়েছে। ২০১৬ সালের ইউরো হারের পর দেশম বলেছিলেন, ‘এই টুর্নামেন্ট আমাদের সামনে চলার পথটা শিখিয়ে দিল।’ রাশিয়া বিশ্বকাপ জয়ের পর ফরাসি কোচের ওই মন্তব্যের সঠিক অর্থটা বুঝতে পারছেন নিশ্চয়?

ইউরো ফাইনালের পর ফ্রান্সকে ‘একটা দল’ হিসেবে গড়তে পেরেছেন দেশম- কথাটা এখন জোর দিয়ে বলাই যায়। প্রত্যেকটি পজিশনে তারকা খেলোয়াড় থাকলেও অভ্যন্তরীণ কোনও ঝামেলার জন্ম হতে দেননি। ড্রেসিং রুমকে রূপ দিতে পেরেছিলেন ‘পরিবার’ হিসেবে। গত কয়েক বছর ধরে ফ্রান্স দলে যেটার অভাব ছিল সবচেয়ে বেশি। তারকা খেলোয়াড় বেশি হওয়ায় দলের মধ্যে ঝামেলার লেগেই থাকতো। ব্রাজিল বিশ্বকাপ থেকে বিদায় নেওয়ার পর দেশমের সঙ্গে ফরাসি ফুটবলের কর্তা-ব্যক্তিরাও সমস্যাটা বুঝতে পেরেছিলেন, তাই দলীয় ঐক্য আনতে অনেক তারকাকে ছেঁটে ফেলতেও দ্বিধা করেননি তারা।

জাতীয় দলের ব্যর্থতার কারণ হিসেবে অনেকে খেলোয়াড়দের একসঙ্গে না খেলার ব্যাখ্যা দাঁড় করে থাকেন। বলা হয়ে থাকে, খেলোয়াড়দের একে অন্যের সঙ্গে বোঝাপড়ার অভাব থাকায় সাফল্য পায় না। সেই তালিকায় আর্জেন্টিনার নাম রাখা হয় উপরের দিকে। দলে তারকার খেলোয়াড়ের ভিড় থাকা সত্ত্বেও তাদের সাফল্য আসে না একেক জন একেক ক্লাবে খেলার কারণে। একেবারে অযৌক্তিক কথাও নয়। ২০১০ সালের স্পেন কিংবা ২০১৪ সালের জার্মানির চ্যাম্পিয়ন হওয়ার পেছনে বার্সেলোনা ও বায়ার্ন মিউনিখের সাফল্যেকে মোটেও অস্বীকার করার উপায় নেই।

কিন্তু এই ফ্রান্সের বেলার এই যুক্তি খাটবে না। ইউরোপের বড় বড় লিগে খেললেও একই ক্লাবে খেলোয়াড়ের সংখ্যা হাতে গোনা। ফাইনালের একাদশে থাকা আন্তোয়ান গ্রিয়েজমান-লুকাস এর্নান্দেস (অ্যাতলেতিকো মাদ্রিদ) ও অলিভের জিরু-গোলো কঁতেই (চেলসি) কেবল খেলেন একই ক্লাবে। তবু তাদের একতা ও বোঝাপড়ার এতটুকু ফাঁক নেই, প্রয়োজনের স্যামুয়েল উমতিতি ও রাফায়েল ভারান যেমন ‘স্ট্রাইকার’ হয়ে উঠতে পারেন, তেমনি আন্তোয়ান গ্রিয়েজমান-কাইলিয়ান এমবাপে হাজির হতে পারে ‘ডিফেন্ডারের’ ভূমিকায়।ফুটবলের সৌন্দর্যটা এখানেই। জয়ের প্রচণ্ড ইচ্ছা ও নিজেকে প্রমাণ করার তাড়ণা যেখানে এগিয়ে চলার অনুপ্রেরণা। ফ্রান্সের প্রতিটি খেলোয়াড়ের মনের মধ্যে যেটি গেঁথে দিতে পেরেছেন কোচ দেশম।

নড়বড়ে ও অগোছালো ফুটবল দিয়ে রাশিয়া বিশ্বকাপ শুরু করা ফ্রান্স প্রচণ্ড চাপে। ধীরে ধীরে স্বরূপে ফিরে নকআউট পর্বের শুরুতে আর্জেন্টিনাকে, এরপর উরুগুয়ে ও বেলজিয়ামকে টপকে জায়গা করে নেয় ফাইনালে। মস্কোর ফাইনালের শুরুতেও অচেনা ‘লে ব্লুজ’। কিন্তু ফাইনাল জিততে শুধু ভালো পারফরম্যান্সই লাগে না, দরকার ভাগ্যেরও। যেখানে ফুটবলদেবতার কলমে লেখা নামটি ফ্রান্স।


খেলোয়াড় ও কোচ হিসেবে দেশমের ইতিহাস

অন্য মুকুটের খোঁজে চুমকি


এ বিভাগের আরো খবর...

হেটমায়ারের দুর্দান্ত এক সেঞ্চুরি হেটমায়ারের দুর্দান্ত এক সেঞ্চুরি
চেলসি দুই মৌসুম খেলোয়াড় কিনতে পারবে না চেলসি দুই মৌসুম খেলোয়াড় কিনতে পারবে না
মশা নিধনে ব্যর্থ ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন? মশা নিধনে ব্যর্থ ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন?
বাংলাদেশের দুইজন প্রথমবারের মতো এশিয়ান হকি ফেডারেশনে বাংলাদেশের দুইজন প্রথমবারের মতো এশিয়ান হকি ফেডারেশনে
১০ কোটি টাকার হিসাব চায় ঢাবি- শিক্ষার্থীরা ১০ কোটি টাকার হিসাব চায় ঢাবি- শিক্ষার্থীরা
টিভিতে আজকের খেলার সূচি টিভিতে আজকের খেলার সূচি
হেটমায়ারের দাপুটে সেঞ্চুরিতে সমতায়- উইন্ডিজ হেটমায়ারের দাপুটে সেঞ্চুরিতে সমতায়- উইন্ডিজ
১৩৭ রান হলেই ইতিহাস গড়বে- শ্রীলঙ্কা ১৩৭ রান হলেই ইতিহাস গড়বে- শ্রীলঙ্কা
টেস্টেও কঠিন পরীক্ষা অপেক্ষা করছে- টাইগাদের টেস্টেও কঠিন পরীক্ষা অপেক্ষা করছে- টাইগাদের
এখনও আতঙ্ক কাটছে না চকবাজার বাসীর! এখনও আতঙ্ক কাটছে না চকবাজার বাসীর!

সর্বাধিক পঠিত

পাকিস্তান শান্তিপ্রিয় জাতি কিন্তু হুমকির মুখে ভীত না: পাক সেনাপ্রধান পাকিস্তান শান্তিপ্রিয় জাতি কিন্তু হুমকির মুখে ভীত না: পাক সেনাপ্রধান
যুদ্ধে বিজয়ী হতে সব উপায় অবলম্বন করবে- ভারত যুদ্ধে বিজয়ী হতে সব উপায় অবলম্বন করবে- ভারত
কেলি ক্র্যাফটকে জাতিসংঘে রাষ্ট্রদূত নিয়োগ দিলেন- ট্রাম্প কেলি ক্র্যাফটকে জাতিসংঘে রাষ্ট্রদূত নিয়োগ দিলেন- ট্রাম্প
সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে লড়াই, কাশ্মীরের বিরুদ্ধে নয়- মোদি সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে লড়াই, কাশ্মীরের বিরুদ্ধে নয়- মোদি
৮ লাখ রোহিঙ্গাকে ফেরত পাঠানোর চেষ্টা চলছে : পররাষ্ট্রমন্ত্রী ৮ লাখ রোহিঙ্গাকে ফেরত পাঠানোর চেষ্টা চলছে : পররাষ্ট্রমন্ত্রী
যবিপ্রবির ২০ বিভাগের চেয়ারম্যানের একযোগে পদত্যাগ! যবিপ্রবির ২০ বিভাগের চেয়ারম্যানের একযোগে পদত্যাগ!
গণশুনানির নামে ‘ঘুমানো চক্র’ ষড়যন্ত্র করছে: আইনমন্ত্রী গণশুনানির নামে ‘ঘুমানো চক্র’ ষড়যন্ত্র করছে: আইনমন্ত্রী
সাবেক মন্ত্রীর সাথে বিয়ের পিঁড়িতে সানাই সাবেক মন্ত্রীর সাথে বিয়ের পিঁড়িতে সানাই
কেন শ্রীদেবীর শাড়ি নিলামে তুললেন তার স্বামী ? কেন শ্রীদেবীর শাড়ি নিলামে তুললেন তার স্বামী ?
বানসালী-সালমান ১৯ বছর পর এক সঙ্গে ! বানসালী-সালমান ১৯ বছর পর এক সঙ্গে !
প্রধানমন্ত্রীর জার্মানি সফর উন্নয়ন- কূটনৈতিক সম্পর্ক জোরদার হবে!
খেলাপি ঋণে ‘জিরো টলারেন্স’ চাই
৫ জনই ছাত্রলীগ-যুবলীগ নেতা
দুর্নীতির বিরুদ্ধে প্রকৃত অর্থেই নিতে হবে জিরো টলারেন্স
বেআইনি ব্যাংকিং কার্যক্রমের বিরুদ্ধে বহুমুখী পদক্ষেপ নিন
খাদ্যে অতিরিক্ত ট্রান্সফ্যাটের কারণে, প্রতি বছর বিশ্বে পাঁচ লাখ মানুষের মৃত্যু হয়
স্বাধীনতার পর প্রথমবার ‘মন্ত্রীশূন্য’ কিশোরগঞ্জ
মন চুরির অভিযোগ পুলিশের কাছে!
সৈয়দ আশরাফ যে কবরে সমাহিত হবেন
ব্যবসায়ীদের বিনিয়োগের বাধা দূর করতে হবে?