ঢাকা, আগস্ট ১৭, ২০১৮, ১ ভাদ্র ১৪২৫
---
bbc24news.com
প্রথম পাতা » সম্পাদকীয় » শিক্ষার্থীদের আন্দোলনে ফায়দা লুঠতে ব্যস্ত কারা!
মঙ্গলবার ● ৭ আগস্ট ২০১৮, ১ ভাদ্র ১৪২৫
Email this News Print Friendly Version

শিক্ষার্থীদের আন্দোলনে ফায়দা লুঠতে ব্যস্ত কারা!

---মোতাহার হোসেন: নিরাপদ সড়ক ও দুই শিক্ষার্থীকে বাসচাপায় ‘হত্যার’বিচারসহ ৯ দফা দাবিতে গত কয়েকদিন ধরেই রাজপধে অবস্থান করছে কোমলমতি আমাদের প্রিয় সন্তানরা। তারা শুধু স্কুল সময় নয় ছুটির দিনেও সরব রাজপথে। তাদের এ দাবি যৌক্তিক বলে সরকারের পক্ষ থেকে একাত্ত্বতা প্রকাশ করে তা বাস্তবায়নের উদ্যোগ নিয়েছে। পাশাপাশি এ জন্য প্রণয়ন করা হয়েছে ‘সড়ক পরিবহন আইন।’ আইনটি মন্ত্রীসভার অনুমোদন হয়েছে। তাছাড়া ইতোমধ্যে বাসের চাকায় পৃষ্ট হয়ে নিহত দুই শিক্ষার্থীর পরিবারকে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে নিয়ে শান্তনা দেয়া হয়। তাদের পরিবারকে ২০ লাখ টাকা হারে অনুদান দেয়া হয়। পাশাপাশি তাদের সন্তানদের চাকুরির আশ্বাস দেয়া হয়। একই সাথে নৌপরিবহন মন্ত্রী শাজাহান খান এই দুই পরিবারকে ৫ লাখ টাকা হারে অনুদান দিয়েছেন এবং এই দুই পরিবারের সন্তানদের শিক্ষায় সর্বাত্বাক সহায়তা দেয়ার প্রতিশ্র“তি দিয়েছেন। এর আগে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল,নৌপরিবহন মন্ত্রীসহ আওয়ামীলীগের বেশ কয়েকজন মন্ত্রী নিহত শিক্ষর্থীর বাসায় গিয়ে পরিবারের সদস্যদের শান্তনা,সহানুবতিতা প্রকাশ করার পাশাপাশি দোষীদের দ্র“ত দৃষ্টান্ত মূলক শাস্তি দেয়ার আশ্বাস দেয়া হয়। গ্রামে একটি প্রবাদ আছে‘গাছে কাঁঠাল গোপে তেল’’ নামে। অর্থাৎ শিক্ষার্থীদের কাঁধে ভর দিয়ে অশুভমহল ঘোলাপানিতে মাছ শিকার করে ফায়দা হাসিলের চেষ্টা চালাচ্ছে । একই সাথে দেশে অস্থিতিশীলতা সৃষ্টি করে সরকার পতন ও ক্ষমতা দখলের স্বপ্ন বিভোর কোন কোন রাজনৈকিতক দল। এ বিষয়টি শিক্ষার্থী,অভিভাবক,শিক্ষক,রাজনৈতিক মহলকে গুর“ত্বসহ ভেবে দেখতে হবে।
অন্যয়ের বির“দ্ধে যুগে যুগে. বিশ্বের দেশে দেশে আন্দোলন সংগ্রামে শিক্ষার্থীরাই রাজপথে থাকেন অগ্রনী ভূমিকায়। বাংলাদেশের মহান ভাষা আন্দোলন,বাঙ্গালীর স্বাধিকার থেকে স্বাধীনতা অর্জনে এদেশের ছাত্র সমাজের রয়েছে গৌরব উজ্বল ভূমিকা ও অবদান। জাতি এখনো ছাত্র সমাজের সেই গৌরব উজ্বল ভূমিকাকে শ্রদ্ধা ভরে সম্মান করে,স্বরণ করে। আর ইতিহাসে রয়েছে এর অনন্য স্বীকৃতি। রাজধানীতে বাসচাপায় নিহত দুই শিক্ষার্থী হত্যার বিচারের দাবিতে শিক্ষার্থীদের রাজপথে অবস্থানন,আন্দোলন আমাদের অনুপ্রাণিত করেছে। এর স্বেরাচার বিরোধী আন্দোলন, কিছু দিন আগে সংঘটিত যুদ্ধাপরাধীদের বিচার,ফাঁসির রায় কার্যকরের দাবিতে রাজপথের আন্দোলনেও ছাত্র সমাজের ভূমিকা ছিল অগ্রনী। ছাত্র সমাজের আন্দোলনের সর্বশেষ মাইলফলক হচ্ছে রাজধানীে দুই শিক্ষার্থীকে বাস চাপায় নিহত হওয়ার ঘটনার প্রতিবাদে রাজপথে শিক্ষর্থীদের এই আন্দোলন। এ আন্দোলনে অতীতে সংঘটিত ছাত্র আন্দোলন থেকে কিছুটা ভিন্নতর। সেই ভিন্নতা,রাস্তায় শৃংখলা ফেরানো,যানহাবনের লাইসেন্স,ফিটনেস,চালকের লাইসেন্স পরীক্ষা করা। দুখজনক হলেও সত্য এই সব কোমল মতি শিক্ষার্থীদের যানবাহনের প্রয়োজনীয় কাগজপত্র পরীক্ষা কালে প্রায় ৫০ ভাগ যানবাহরে কাগজ পত্র না থাকার প্রমান মিলছে। এখন প্রশ্নে,জনগণের অর্থে পরিচালিত সংশ্লিষ্ট ,কর্তৃপক্ষ এসব নজরদারি,তদারকি করা ও এ সংক্রান্ত প্রয়োজনীয় আইন প্রয়োগ করার জন্য নিয়োজিত রয়েছে। দু:খজনক ঘটনা হলো যানবাহনের কাগজপত্র পরীক্ষা কালে সরকারি আমলা,মন্ত্রী,প্রতিমন্ত্রী,এমপি,সংবাদ কর্মীসহ ভিআইপি শ্রেণীর অনেকের গাড়ি ব্যবহারের ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় কাগজপত্রের বালাই নেই। যারা এ ব্যাপারে আইন প্রণয়ন ও আইনের প্রয়োগ করবেন তাদের ব্যবহার্র্য্য অধিকাংশ গাড়ির প্রয়োজনীয় কাজগপত্র না থাকা জাতির জন্য লজ্জার। কারণ ‘আইন সবার জন্য সমান।’ আর যারা আইনের প্রয়োগ করবেন তাদের নিজদের বেলায়ও তা প্রযোজ্য হবে। বাস্তবে যদি আইনের প্রয়োগের ক্ষেত্রে স্বজনপ্রীতি,অনিয়ম,অনৈতিক লেন-দেন অব্যাহত থাকে তাহলে সড়কে দীর্ঘদিন ধরে চলে আসা নৈরাজ্য বন্ধ করা দূরহ এবং কঠিন হবে। এ ক্ষেত্রে দীর্ঘদিন ধরে একটি প্রবাদ আছে,‘আপনি আচরি (পালন করা) ধর্ম,পরের শিখাও।’ কিন্তু আমাদের সংশ্লিষ্ট যথাযথ ভাবে নিজেদের ক্ষেত্রেও আইন মানছেনা। তাহলে তাদের দিয়ে অন্যদের মানানো কখনো সম্ভব নয়। এটা বলার অপেক্ষা রাখেনা যে,যারা আইন প্রণয়ন করবেন, আর যারা বাস্তবায়ন করেন তাদের সকলের ক্ষেত্রে আইন,কানুন-বিধি-বিধান মেনে চলা জর“রি। এটা যতদিন করা যাবেনা ততদিন আইনের দূর্বলতা,ফাঁক-ফোকর থেকেই যাবে। এটি শুধু সড়কে নৈরাজ্য ঠেকাতে নয় দেশের সব ক্ষেত্রে আইনের সঠিক প্রয়োগ ও বাস্তবায়ন সম্ভব হবে। অন্যথা সম্ভব হবেনা দেশে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা করা।
শিক্ষার্থীদের ৯ দফা দাবি বাস্তবায়নে গত প্রায় সপ্তাহ ধরে শিক্ষার্থীরা রাজপথে অবস্থান করছে। এমনকি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ছুটির দিনের তারা প্রচন্ড ঝড়বৃষ্টি,রোদ উপেক্ষা করে অবস্থান করেছে। দাবি আদায়ে তারা গত কয়েকদিন টানা রাজপথে অবস্থান করায় যানবাহন বিশেষ করে রাজধানীতে গণপরিবহন বন্ধ হয়ে গেছে। তাছাড়া শিক্ষর্থীরা যেসব দাবি দাওয়া নিয়ে রাজপথে নেমেছিল তাদের দাবির সবগুলো ইতোমধ্যে প্রধানমন্ত্রীর পক্ষ থেকে মেনে নিয়ে তার বাস্তবায়নও শুর“ করেছে। এর মধ্যে নিহতদের পরিবারকে আর্থিক ক্ষতিপূরণ,শহীদ রমিজ উদ্দিন কলেজ শিক্ষার্থীদের যাতায়েতের জন্য প্রয়োজনীয় সংখ্যক বাস প্রদান,ফিটনেস বিহীন যানবাহন চলাচল বন্ধ করাসহ সংশ্লিষ্ট দাবি মেনে নিয়েছে সরকার। এর মধ্যে নিরাপদ সড়কের দাবিটি সরকার বিবেচনায় রেখেছে। ইতোমধ্যে শহীদ রমিজ উদ্দিন কলেজের শিক্ষার্থীদের জন্য ৫টি বাস প্রদান করা হয়েছে। এই আইন বাস্তবায়ন হলে চালকের ভুলে কোন যাত্রী,পথচারি মারা গেলে সর্বো”চ শাস্তি মৃত্যুদন্ডের বিধানের প্রস্তাব করা হয়েছে। সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রী ওবায়দুল কাদের প্রস্তাবিত সড়ক আইন নিয়ে সাংবাদিকদের বলেছেন,এই আইনটি অনুমোদন হলে সড়কে নৈরাজ্য কমবে। এখন আশা করি আমাদের প্রিয় সন্তানরা,আমাদের প্রিয় কোমলমতি শিক্ষার্থীরা রাজপথ ছেড়ে ক্লাশে ফিরে যাবে এবং সামনে তাদের মিডটার্ম পরীক্ষার জন্য ভাল ভাবে প্রস্তুতি নেবে।
শিক্ষার্থীদের চলমান আন্দোল প্রসঙ্গে কিছু কথা বলা প্রয়োজন। তাদের আমি ধন্যবাদ জানাই যে তারা আমাদের চোখ-কান খুলে দিয়েছে। এতদিন আমরা অন্ধ ছিলাম,বিশেষ করে সড়কে নৈরাজ্যের নেপথ্যে দায়ি হলো ফিটনেস বিহীন যানবাহন রাস্তায় চলাচল,চালকের ড্রাইভিং লাইসেন্স না থাকা,র“ট পারমিট না থাকা প্রভৃতি। এবং সেটা স্বয়ং যারা এ সংক্রান্ত আইন প্রণয়ন,বাস্তবায়ন করে তাদের অধিকাংশেরই যানবাহনের লাইসেন্স নেই, এবং এভাবে রাজধানীসহ সারাদেশে বিপুল সংখ্যক যানবাহন চলছে বছরে পর বছর ধরে। এই গুর“ত্বপূর্ণ অথচ স্পর্শকাতর বিষয়টি আমাদের কোমল মতি শিক্ষার্থীরা চোখে অঙ্গুলি দিয়ে দেখিয়ে দিলেন সেজন্য তাদের ধন্যবাদ।
মোতাহার হোসেন:সাংবাদিক ও কলামিস্ট।


মার্কিন দূতাবাসের বিবৃতি অনভিপ্রেত, অযাচিত- ইনু

আলোকচিত্রী শহিদুলকে চিকিৎসা দেয়ার নির্দেশ দিয়েছে- হাইকোর্ট


এ বিভাগের আরো খবর...

বিশ্বের বসবাসের জন্য অযোগ্য শহর ঢাকা কেন? বিশ্বের বসবাসের জন্য অযোগ্য শহর ঢাকা কেন?
বিশ্বের বসবাসের জন্য অযোগ্য শহর ঢাকা কেন? বিশ্বের বসবাসের জন্য অযোগ্য শহর ঢাকা কেন?
অবশেষে খুঁজে পাওয়া গেল এলিয়েন? অবশেষে খুঁজে পাওয়া গেল এলিয়েন?
তৃতীয় লিঙ্গদের আইনি স্বীকৃতি দিল-জার্মান তৃতীয় লিঙ্গদের আইনি স্বীকৃতি দিল-জার্মান
রাশেদ চৌধুরীকে ফেরত দিতে পারে-ট্রাম্প প্রশাসন রাশেদ চৌধুরীকে ফেরত দিতে পারে-ট্রাম্প প্রশাসন
খেলাপি ঋণের বৃত্তে ব্যাংকিং খাত খেলাপি ঋণের বৃত্তে ব্যাংকিং খাত
বঙ্গবন্ধু কেন ১২৫ পাকিস্তানির বিচার চেয়েছিলেন! বঙ্গবন্ধু কেন ১২৫ পাকিস্তানির বিচার চেয়েছিলেন!
বাংলাদেশের টিভি চ্যানেলগুলোতে বিদেশি ছবির হিড়িক বাংলাদেশের টিভি চ্যানেলগুলোতে বিদেশি ছবির হিড়িক
জার্মানের নদীতে ভেসে উঠছে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের অস্ত্র-শস্ত্র জার্মানের নদীতে ভেসে উঠছে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের অস্ত্র-শস্ত্র
জলবায়ু পরিবর্তনে-নিউ ইয়র্ক ও সিডনির কোন দ্বীপে বসতি থাকবে না জলবায়ু পরিবর্তনে-নিউ ইয়র্ক ও সিডনির কোন দ্বীপে বসতি থাকবে না

সর্বাধিক পঠিত

ভারতে মৌসুমী বৃষ্টিতে মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৯০০ ভারতে মৌসুমী বৃষ্টিতে মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৯০০
বাণিজ্য বিরোধে আলোচনায় বসবে: চীন-যুক্তরাষ্ট্র বাণিজ্য বিরোধে আলোচনায় বসবে: চীন-যুক্তরাষ্ট্র
বিএনপি কোনো প্রহসনের নির্বাচনে যাবে না- নজরুল বিএনপি কোনো প্রহসনের নির্বাচনে যাবে না- নজরুল
ঘুষের টাকাসহ এলজিইডির প্রকৌশলী গ্রেফতার! ঘুষের টাকাসহ এলজিইডির প্রকৌশলী গ্রেফতার!
বার্নিকাটের উপর হামলার ঘটনায় ব্যবস্থা নেবে- পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বার্নিকাটের উপর হামলার ঘটনায় ব্যবস্থা নেবে- পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়
বঙ্গবন্ধু হত্যাকাণ্ডের ষড়যন্ত্রে খালেদা জিয়াও জড়িত- প্রধানমন্ত্রী বঙ্গবন্ধু হত্যাকাণ্ডের ষড়যন্ত্রে খালেদা জিয়াও জড়িত- প্রধানমন্ত্রী
দীপিকা-রনভীরের বিয়েতে মোবাইল নিষিদ্ধ দীপিকা-রনভীরের বিয়েতে মোবাইল নিষিদ্ধ
ভারতের সাবেক প্রধানমন্ত্রী বাজপেয়ীর আর নেই ভারতের সাবেক প্রধানমন্ত্রী বাজপেয়ীর আর নেই
আমীর খসরুকে দুদকে তলব? আমীর খসরুকে দুদকে তলব?
ইরানের পাশে ইউরোপ, কোনঠাসা আমেরিকা ইরানের পাশে ইউরোপ, কোনঠাসা আমেরিকা
বিশ্বের বসবাসের জন্য অযোগ্য শহর ঢাকা কেন?
অবশেষে খুঁজে পাওয়া গেল এলিয়েন?
তৃতীয় লিঙ্গদের আইনি স্বীকৃতি দিল-জার্মান
রাশেদ চৌধুরীকে ফেরত দিতে পারে-ট্রাম্প প্রশাসন
খেলাপি ঋণের বৃত্তে ব্যাংকিং খাত
বাংলাদেশের টিভি চ্যানেলগুলোতে বিদেশি ছবির হিড়িক
জার্মানের নদীতে ভেসে উঠছে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের অস্ত্র-শস্ত্র
জলবায়ু পরিবর্তনে-নিউ ইয়র্ক ও সিডনির কোন দ্বীপে বসতি থাকবে না
পরীক্ষার খাতায় ‘উই ওয়ান্ট জাস্টিস’ লিখলেন শিক্ষার্থীরা!
শিক্ষার্থীদের আন্দোলনে ফায়দা লুঠতে ব্যস্ত কারা!