ঢাকা, ফেব্রুয়ারী ২৩, ২০১৯, ১১ ফাল্গুন ১৪২৫
---
bbc24news.com
প্রথম পাতা » সম্পাদকীয় » শিক্ষার্থীদের আন্দোলনে ফায়দা লুঠতে ব্যস্ত কারা!
মঙ্গলবার ● ৭ আগস্ট ২০১৮, ১১ ফাল্গুন ১৪২৫
Email this News Print Friendly Version

শিক্ষার্থীদের আন্দোলনে ফায়দা লুঠতে ব্যস্ত কারা!

---মোতাহার হোসেন: নিরাপদ সড়ক ও দুই শিক্ষার্থীকে বাসচাপায় ‘হত্যার’বিচারসহ ৯ দফা দাবিতে গত কয়েকদিন ধরেই রাজপধে অবস্থান করছে কোমলমতি আমাদের প্রিয় সন্তানরা। তারা শুধু স্কুল সময় নয় ছুটির দিনেও সরব রাজপথে। তাদের এ দাবি যৌক্তিক বলে সরকারের পক্ষ থেকে একাত্ত্বতা প্রকাশ করে তা বাস্তবায়নের উদ্যোগ নিয়েছে। পাশাপাশি এ জন্য প্রণয়ন করা হয়েছে ‘সড়ক পরিবহন আইন।’ আইনটি মন্ত্রীসভার অনুমোদন হয়েছে। তাছাড়া ইতোমধ্যে বাসের চাকায় পৃষ্ট হয়ে নিহত দুই শিক্ষার্থীর পরিবারকে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে নিয়ে শান্তনা দেয়া হয়। তাদের পরিবারকে ২০ লাখ টাকা হারে অনুদান দেয়া হয়। পাশাপাশি তাদের সন্তানদের চাকুরির আশ্বাস দেয়া হয়। একই সাথে নৌপরিবহন মন্ত্রী শাজাহান খান এই দুই পরিবারকে ৫ লাখ টাকা হারে অনুদান দিয়েছেন এবং এই দুই পরিবারের সন্তানদের শিক্ষায় সর্বাত্বাক সহায়তা দেয়ার প্রতিশ্র“তি দিয়েছেন। এর আগে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল,নৌপরিবহন মন্ত্রীসহ আওয়ামীলীগের বেশ কয়েকজন মন্ত্রী নিহত শিক্ষর্থীর বাসায় গিয়ে পরিবারের সদস্যদের শান্তনা,সহানুবতিতা প্রকাশ করার পাশাপাশি দোষীদের দ্র“ত দৃষ্টান্ত মূলক শাস্তি দেয়ার আশ্বাস দেয়া হয়। গ্রামে একটি প্রবাদ আছে‘গাছে কাঁঠাল গোপে তেল’’ নামে। অর্থাৎ শিক্ষার্থীদের কাঁধে ভর দিয়ে অশুভমহল ঘোলাপানিতে মাছ শিকার করে ফায়দা হাসিলের চেষ্টা চালাচ্ছে । একই সাথে দেশে অস্থিতিশীলতা সৃষ্টি করে সরকার পতন ও ক্ষমতা দখলের স্বপ্ন বিভোর কোন কোন রাজনৈকিতক দল। এ বিষয়টি শিক্ষার্থী,অভিভাবক,শিক্ষক,রাজনৈতিক মহলকে গুর“ত্বসহ ভেবে দেখতে হবে।
অন্যয়ের বির“দ্ধে যুগে যুগে. বিশ্বের দেশে দেশে আন্দোলন সংগ্রামে শিক্ষার্থীরাই রাজপথে থাকেন অগ্রনী ভূমিকায়। বাংলাদেশের মহান ভাষা আন্দোলন,বাঙ্গালীর স্বাধিকার থেকে স্বাধীনতা অর্জনে এদেশের ছাত্র সমাজের রয়েছে গৌরব উজ্বল ভূমিকা ও অবদান। জাতি এখনো ছাত্র সমাজের সেই গৌরব উজ্বল ভূমিকাকে শ্রদ্ধা ভরে সম্মান করে,স্বরণ করে। আর ইতিহাসে রয়েছে এর অনন্য স্বীকৃতি। রাজধানীতে বাসচাপায় নিহত দুই শিক্ষার্থী হত্যার বিচারের দাবিতে শিক্ষার্থীদের রাজপথে অবস্থানন,আন্দোলন আমাদের অনুপ্রাণিত করেছে। এর স্বেরাচার বিরোধী আন্দোলন, কিছু দিন আগে সংঘটিত যুদ্ধাপরাধীদের বিচার,ফাঁসির রায় কার্যকরের দাবিতে রাজপথের আন্দোলনেও ছাত্র সমাজের ভূমিকা ছিল অগ্রনী। ছাত্র সমাজের আন্দোলনের সর্বশেষ মাইলফলক হচ্ছে রাজধানীে দুই শিক্ষার্থীকে বাস চাপায় নিহত হওয়ার ঘটনার প্রতিবাদে রাজপথে শিক্ষর্থীদের এই আন্দোলন। এ আন্দোলনে অতীতে সংঘটিত ছাত্র আন্দোলন থেকে কিছুটা ভিন্নতর। সেই ভিন্নতা,রাস্তায় শৃংখলা ফেরানো,যানহাবনের লাইসেন্স,ফিটনেস,চালকের লাইসেন্স পরীক্ষা করা। দুখজনক হলেও সত্য এই সব কোমল মতি শিক্ষার্থীদের যানবাহনের প্রয়োজনীয় কাগজপত্র পরীক্ষা কালে প্রায় ৫০ ভাগ যানবাহরে কাগজ পত্র না থাকার প্রমান মিলছে। এখন প্রশ্নে,জনগণের অর্থে পরিচালিত সংশ্লিষ্ট ,কর্তৃপক্ষ এসব নজরদারি,তদারকি করা ও এ সংক্রান্ত প্রয়োজনীয় আইন প্রয়োগ করার জন্য নিয়োজিত রয়েছে। দু:খজনক ঘটনা হলো যানবাহনের কাগজপত্র পরীক্ষা কালে সরকারি আমলা,মন্ত্রী,প্রতিমন্ত্রী,এমপি,সংবাদ কর্মীসহ ভিআইপি শ্রেণীর অনেকের গাড়ি ব্যবহারের ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় কাগজপত্রের বালাই নেই। যারা এ ব্যাপারে আইন প্রণয়ন ও আইনের প্রয়োগ করবেন তাদের ব্যবহার্র্য্য অধিকাংশ গাড়ির প্রয়োজনীয় কাজগপত্র না থাকা জাতির জন্য লজ্জার। কারণ ‘আইন সবার জন্য সমান।’ আর যারা আইনের প্রয়োগ করবেন তাদের নিজদের বেলায়ও তা প্রযোজ্য হবে। বাস্তবে যদি আইনের প্রয়োগের ক্ষেত্রে স্বজনপ্রীতি,অনিয়ম,অনৈতিক লেন-দেন অব্যাহত থাকে তাহলে সড়কে দীর্ঘদিন ধরে চলে আসা নৈরাজ্য বন্ধ করা দূরহ এবং কঠিন হবে। এ ক্ষেত্রে দীর্ঘদিন ধরে একটি প্রবাদ আছে,‘আপনি আচরি (পালন করা) ধর্ম,পরের শিখাও।’ কিন্তু আমাদের সংশ্লিষ্ট যথাযথ ভাবে নিজেদের ক্ষেত্রেও আইন মানছেনা। তাহলে তাদের দিয়ে অন্যদের মানানো কখনো সম্ভব নয়। এটা বলার অপেক্ষা রাখেনা যে,যারা আইন প্রণয়ন করবেন, আর যারা বাস্তবায়ন করেন তাদের সকলের ক্ষেত্রে আইন,কানুন-বিধি-বিধান মেনে চলা জর“রি। এটা যতদিন করা যাবেনা ততদিন আইনের দূর্বলতা,ফাঁক-ফোকর থেকেই যাবে। এটি শুধু সড়কে নৈরাজ্য ঠেকাতে নয় দেশের সব ক্ষেত্রে আইনের সঠিক প্রয়োগ ও বাস্তবায়ন সম্ভব হবে। অন্যথা সম্ভব হবেনা দেশে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা করা।
শিক্ষার্থীদের ৯ দফা দাবি বাস্তবায়নে গত প্রায় সপ্তাহ ধরে শিক্ষার্থীরা রাজপথে অবস্থান করছে। এমনকি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ছুটির দিনের তারা প্রচন্ড ঝড়বৃষ্টি,রোদ উপেক্ষা করে অবস্থান করেছে। দাবি আদায়ে তারা গত কয়েকদিন টানা রাজপথে অবস্থান করায় যানবাহন বিশেষ করে রাজধানীতে গণপরিবহন বন্ধ হয়ে গেছে। তাছাড়া শিক্ষর্থীরা যেসব দাবি দাওয়া নিয়ে রাজপথে নেমেছিল তাদের দাবির সবগুলো ইতোমধ্যে প্রধানমন্ত্রীর পক্ষ থেকে মেনে নিয়ে তার বাস্তবায়নও শুর“ করেছে। এর মধ্যে নিহতদের পরিবারকে আর্থিক ক্ষতিপূরণ,শহীদ রমিজ উদ্দিন কলেজ শিক্ষার্থীদের যাতায়েতের জন্য প্রয়োজনীয় সংখ্যক বাস প্রদান,ফিটনেস বিহীন যানবাহন চলাচল বন্ধ করাসহ সংশ্লিষ্ট দাবি মেনে নিয়েছে সরকার। এর মধ্যে নিরাপদ সড়কের দাবিটি সরকার বিবেচনায় রেখেছে। ইতোমধ্যে শহীদ রমিজ উদ্দিন কলেজের শিক্ষার্থীদের জন্য ৫টি বাস প্রদান করা হয়েছে। এই আইন বাস্তবায়ন হলে চালকের ভুলে কোন যাত্রী,পথচারি মারা গেলে সর্বো”চ শাস্তি মৃত্যুদন্ডের বিধানের প্রস্তাব করা হয়েছে। সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রী ওবায়দুল কাদের প্রস্তাবিত সড়ক আইন নিয়ে সাংবাদিকদের বলেছেন,এই আইনটি অনুমোদন হলে সড়কে নৈরাজ্য কমবে। এখন আশা করি আমাদের প্রিয় সন্তানরা,আমাদের প্রিয় কোমলমতি শিক্ষার্থীরা রাজপথ ছেড়ে ক্লাশে ফিরে যাবে এবং সামনে তাদের মিডটার্ম পরীক্ষার জন্য ভাল ভাবে প্রস্তুতি নেবে।
শিক্ষার্থীদের চলমান আন্দোল প্রসঙ্গে কিছু কথা বলা প্রয়োজন। তাদের আমি ধন্যবাদ জানাই যে তারা আমাদের চোখ-কান খুলে দিয়েছে। এতদিন আমরা অন্ধ ছিলাম,বিশেষ করে সড়কে নৈরাজ্যের নেপথ্যে দায়ি হলো ফিটনেস বিহীন যানবাহন রাস্তায় চলাচল,চালকের ড্রাইভিং লাইসেন্স না থাকা,র“ট পারমিট না থাকা প্রভৃতি। এবং সেটা স্বয়ং যারা এ সংক্রান্ত আইন প্রণয়ন,বাস্তবায়ন করে তাদের অধিকাংশেরই যানবাহনের লাইসেন্স নেই, এবং এভাবে রাজধানীসহ সারাদেশে বিপুল সংখ্যক যানবাহন চলছে বছরে পর বছর ধরে। এই গুর“ত্বপূর্ণ অথচ স্পর্শকাতর বিষয়টি আমাদের কোমল মতি শিক্ষার্থীরা চোখে অঙ্গুলি দিয়ে দেখিয়ে দিলেন সেজন্য তাদের ধন্যবাদ।
মোতাহার হোসেন:সাংবাদিক ও কলামিস্ট।


মার্কিন দূতাবাসের বিবৃতি অনভিপ্রেত, অযাচিত- ইনু

আলোকচিত্রী শহিদুলকে চিকিৎসা দেয়ার নির্দেশ দিয়েছে- হাইকোর্ট


এ বিভাগের আরো খবর...

প্রধানমন্ত্রীর জার্মানি সফর উন্নয়ন- কূটনৈতিক সম্পর্ক জোরদার হবে! প্রধানমন্ত্রীর জার্মানি সফর উন্নয়ন- কূটনৈতিক সম্পর্ক জোরদার হবে!
খেলাপি ঋণে ‘জিরো টলারেন্স’ চাই খেলাপি ঋণে ‘জিরো টলারেন্স’ চাই
জনতা ব্যাংকে নেতৃত্ব সংকট দেখা দিয়েছে জনতা ব্যাংকে নেতৃত্ব সংকট দেখা দিয়েছে
খাদ্যদ্রব্যে ভেজাল ও ক্ষতিকর উপাদান রোধে নিতে হবে কঠোর পদক্ষেপ! খাদ্যদ্রব্যে ভেজাল ও ক্ষতিকর উপাদান রোধে নিতে হবে কঠোর পদক্ষেপ!
৫ জনই ছাত্রলীগ-যুবলীগ নেতা ৫ জনই ছাত্রলীগ-যুবলীগ নেতা
পুলিশ সপ্তাহের পর প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যের প্রতিফলন কতটুকু ঘটবে? পুলিশ সপ্তাহের পর প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যের প্রতিফলন কতটুকু ঘটবে?
স্বাস্থ্য খাতে দুর্নীতি: আমলে নিতে হবে? স্বাস্থ্য খাতে দুর্নীতি: আমলে নিতে হবে?
নতুন মুদ্রানীতিতে কি হতে পারে? নতুন মুদ্রানীতিতে কি হতে পারে?
কর্মস্থলে চিকিৎসকদের অনুপস্থিতি শাস্তিযোগ্য আপরাধ! কর্মস্থলে চিকিৎসকদের অনুপস্থিতি শাস্তিযোগ্য আপরাধ!
দুর্নীতির বিরুদ্ধে প্রকৃত অর্থেই নিতে হবে জিরো টলারেন্স দুর্নীতির বিরুদ্ধে প্রকৃত অর্থেই নিতে হবে জিরো টলারেন্স

সর্বাধিক পঠিত

পাকিস্তান শান্তিপ্রিয় জাতি কিন্তু হুমকির মুখে ভীত না: পাক সেনাপ্রধান পাকিস্তান শান্তিপ্রিয় জাতি কিন্তু হুমকির মুখে ভীত না: পাক সেনাপ্রধান
যুদ্ধে বিজয়ী হতে সব উপায় অবলম্বন করবে- ভারত যুদ্ধে বিজয়ী হতে সব উপায় অবলম্বন করবে- ভারত
কেলি ক্র্যাফটকে জাতিসংঘে রাষ্ট্রদূত নিয়োগ দিলেন- ট্রাম্প কেলি ক্র্যাফটকে জাতিসংঘে রাষ্ট্রদূত নিয়োগ দিলেন- ট্রাম্প
সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে লড়াই, কাশ্মীরের বিরুদ্ধে নয়- মোদি সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে লড়াই, কাশ্মীরের বিরুদ্ধে নয়- মোদি
৮ লাখ রোহিঙ্গাকে ফেরত পাঠানোর চেষ্টা চলছে : পররাষ্ট্রমন্ত্রী ৮ লাখ রোহিঙ্গাকে ফেরত পাঠানোর চেষ্টা চলছে : পররাষ্ট্রমন্ত্রী
যবিপ্রবির ২০ বিভাগের চেয়ারম্যানের একযোগে পদত্যাগ! যবিপ্রবির ২০ বিভাগের চেয়ারম্যানের একযোগে পদত্যাগ!
গণশুনানির নামে ‘ঘুমানো চক্র’ ষড়যন্ত্র করছে: আইনমন্ত্রী গণশুনানির নামে ‘ঘুমানো চক্র’ ষড়যন্ত্র করছে: আইনমন্ত্রী
সাবেক মন্ত্রীর সাথে বিয়ের পিঁড়িতে সানাই সাবেক মন্ত্রীর সাথে বিয়ের পিঁড়িতে সানাই
কেন শ্রীদেবীর শাড়ি নিলামে তুললেন তার স্বামী ? কেন শ্রীদেবীর শাড়ি নিলামে তুললেন তার স্বামী ?
বানসালী-সালমান ১৯ বছর পর এক সঙ্গে ! বানসালী-সালমান ১৯ বছর পর এক সঙ্গে !
প্রধানমন্ত্রীর জার্মানি সফর উন্নয়ন- কূটনৈতিক সম্পর্ক জোরদার হবে!
খেলাপি ঋণে ‘জিরো টলারেন্স’ চাই
৫ জনই ছাত্রলীগ-যুবলীগ নেতা
দুর্নীতির বিরুদ্ধে প্রকৃত অর্থেই নিতে হবে জিরো টলারেন্স
বেআইনি ব্যাংকিং কার্যক্রমের বিরুদ্ধে বহুমুখী পদক্ষেপ নিন
খাদ্যে অতিরিক্ত ট্রান্সফ্যাটের কারণে, প্রতি বছর বিশ্বে পাঁচ লাখ মানুষের মৃত্যু হয়
স্বাধীনতার পর প্রথমবার ‘মন্ত্রীশূন্য’ কিশোরগঞ্জ
মন চুরির অভিযোগ পুলিশের কাছে!
সৈয়দ আশরাফ যে কবরে সমাহিত হবেন
ব্যবসায়ীদের বিনিয়োগের বাধা দূর করতে হবে?