ঢাকা, নভেম্বর ১৫, ২০১৮, ১ অগ্রহায়ন ১৪২৫
---
bbc24news.com
প্রথম পাতা » পরিবেশ ও জলবায়ু » খেলাপি ঋণের বৃত্তে ব্যাংকিং খাত
মঙ্গলবার ● ১৪ আগস্ট ২০১৮, ১ অগ্রহায়ন ১৪২৫
Email this News Print Friendly Version

খেলাপি ঋণের বৃত্তে ব্যাংকিং খাত

---শাহাদাৎ হোসেন:ব্যাপক দুর্নীতি ও অনিয়ম, ঋণ বিতরণে রাজনৈতিক প্রভাব, সুশাসনের অভাব এবং সরকারি ব্যাংকগুলোর ওপর কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নিয়ন্ত্রণ অনেকটা শিথিল হওয়ার কারণেই মূলত খেলাপি ঋণের পরিমাণ নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাচ্ছে।বলার অপেক্ষা রাখে না, খেলাপি ঋণের বৃত্ত থেকে বের হতে পারছে না দেশের ব্যাংকিং খাত। দুশ্চিন্তার বিষয় হল, খেলাপি ঋণের পরিমাণ ক্রমাগত বাড়তে থাকায় বর্তমানে ব্যাংকগুলোর অবস্থা খুবই নাজুক হয়ে পড়েছে।

এছাড়া বেসরকারি ব্যাংকগুলোর পরিচালকরা নিজেদের মধ্যে ঋণ ভাগাভাগি করার কারণে সেখানেও খেলাপির সংখ্যা বাড়ছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

দেশের ৫৭টি ব্যাংকের মধ্যে মাত্রাতিরিক্ত খেলাপি ঋণের ভারে বিপর্যস্ত ১৪টি ব্যাংক। এ ব্যাংকগুলোর খেলাপি ঋণের পরিমাণ ৬০ হাজার কোটি টাকা, যা মোট খেলাপি ঋণের ৬৮ শতাংশ। এর মধ্যে আদায়অযোগ্য কুঋণের পরিমাণ ৫০ হাজার ৮৩২ কোটি টাকা- এটি মোট খেলাপি ঋণের ৮৪ দশমিক ৭২ শতাংশ।

এ চিত্র দেশের ব্যাংকিং খাত, ব্যবসায়-বাণিজ্য, সর্বোপরি অর্থনীতির জন্য নিঃসন্দেহে অশনিসংকেত।

খেলাপি ঋণ না কমে বরং দিন দিন বৃদ্ধির অন্যতম কারণ হল, ইচ্ছাকৃত ঋণখেলাপিদের বিরুদ্ধে কার্যকর কোনো ব্যবস্থা না নেয়া। এছাড়া যাচাই-বাছাই ছাড়া প্রদেয় নতুন ঋণও খেলাপির পাল্লা ভারি করছে বলে অভিমত প্রকাশ করেছেন বিশেষজ্ঞরা।

ঋণ যাতে কুঋণে পরিণত না হয়, সে ব্যাপারে ব্যাংকগুলোর সতর্ক থাকা জরুরি। সেই সঙ্গে ব্যাংকিং খাতে অসৎ কর্মকর্তাদের দাপট ও আধিপত্য রোধের বিষয়েও নজর দেয়া উচিত।

দেখা গেছে, অসৎ ব্যাংক কর্মকর্তাদের বিভিন্ন অনিয়ম ও দুর্নীতি খেলাপি ঋণের প্রসার ঘটায়। মিথ্যা তথ্য ও জালিয়াতির মাধ্যমে ঋণ নেয়ার পর তা খেলাপিতে পরিণত করার প্রবণতা শুরুতেই রোধ করা গেলে ব্যাংকগুলোর পক্ষে ঝুঁকি এড়ানো সহজ হবে।

দুঃখজনক হল, ব্যাংকিং খাতে জবাবদিহিতা প্রতিষ্ঠার বিষয়টি এখন পর্যন্ত নিশ্চিত করা যায়নি, যার অন্যতম উদাহরণ হচ্ছে সোনালী ব্যাংক, বেসিক ব্যাংক ও ফারমার্স ব্যাংকসহ আরও কিছু ব্যাংকের ঋণ কেলেঙ্কারির ঘটনা। বস্তুত ঋণ নিয়ে তা পরিশোধ না করার প্রবণতা এক ধরনের সংস্কৃতিতে পরিণত হয়েছে আমাদের সমাজে। আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোয় জবাবদিহিতার পরিবেশ প্রতিষ্ঠা করা গেলে খেলাপি ঋণসহ অন্যান্য অনিয়ম হ্রাস পাবে, এতে কোনো সন্দেহ নেই।

বলার অপেক্ষা রাখে না, খেলাপি ঋণ কাক্সিক্ষত মাত্রায় কমিয়ে আনা ব্যাংকগুলোর জন্য একটি বড় চ্যালেঞ্জ।

পরিস্থিতির উত্তরণ ঘটাতে হলে ব্যাংকিং খাতে অবশ্যই সুশাসন প্রতিষ্ঠা করতে হবে। সাধারণত খেলাপি ঋণের প্রায় পুরোটাই মন্দঋণে পর্যবসিত হওয়ায় তা লোকসান বা পুঁজি ঘাটতি হিসেবে দেখানো হয়।

রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকগুলো এ ধরনের ঘাটতি মিটিয়ে থাকে সরকারি তহবিল থেকে টাকা গ্রহণ করে, যা মূলত জনগণের দেয়া ট্যাক্স। অন্যদিকে বেসরকারি ব্যাংকগুলো গ্রাহকদের কাছ থেকে আদায় করা বিভিন্ন সার্ভিস চার্জের মাধ্যমে এ ঘাটতি মেটায়। নিয়মানুযায়ী ঋণের বিপরীতে ব্যাংকগুলোকে গড়ে ২৫ ভাগ মূলধন বাংলাদেশ ব্যাংকে জমা রাখতে হয় যা ‘প্রভিশন’ নামে পরিচিত।

প্রভিশনে রাখা অর্থ ব্যাংকগুলো বিনিয়োগ করতে পারে না বিধায় ঋণ প্রদানকারী ব্যাংকগুলোর ব্যবসা বাধাগ্রস্ত হয় এবং এর কুফলও সাধারণ গ্রাহকদের বইতে হয়, যা অনাকাক্সিক্ষত। ব্যাংকগুলোর দেয়া ঋণ যাতে কুঋণে পরিণত না হয়, এ ব্যাপারে সতর্ক থাকা জরুরি। এজন্য অনিয়ম ও দুর্নীতিমুক্ত ব্যাংকিং ব্যবস্থা গড়ে তোলার উপর গুরুত্ব দেয়া উচিত।ব্যাংকিং খাতে দুর্নীতি ও বিচারহীনতার খেলাপি ঋণের বিস্তার রোধ ও অনাদায়ী ঋণ আদায়ে সরকার কঠোর হবে, এটাই প্রত্যাশা।


বিএনপির সঙ্গে সংলাপ কোনো দিন হবে না- স্বাস্থ্যমন্ত্রী

৩ মাসের মধ্যে রাজধানীর ঝুঁকিপূর্ণ ভবনের তালিকা চায়- হাইকোর্ট


এ বিভাগের আরো খবর...

একজন রোহিঙ্গাও ফিরতে চায় না মিয়ানমারে! একজন রোহিঙ্গাও ফিরতে চায় না মিয়ানমারে!
নিবন্ধন বাতিল হওয়া জামায়াতে ইসলামী কীভাবে প্রস্তুতি নিচ্ছে? নিবন্ধন বাতিল হওয়া জামায়াতে ইসলামী কীভাবে প্রস্তুতি নিচ্ছে?
জলবায়ু পরিবর্তন পুরুষের প্রজনন ক্ষমতা কমাচ্ছে! জলবায়ু পরিবর্তন পুরুষের প্রজনন ক্ষমতা কমাচ্ছে!
নির্বাচনে সবার অংশগ্রহণ-গণতন্ত্রের জন্য ইতিবাচক নির্বাচনে সবার অংশগ্রহণ-গণতন্ত্রের জন্য ইতিবাচক
মৃত্যু নিয়ে মানুষের কৌতুহলেরও শেষ নেই কেন? মৃত্যু নিয়ে মানুষের কৌতুহলেরও শেষ নেই কেন?
বাংলাদেশে প্রেসক্রিপশন ছাড়া অ্যান্টিবায়োটিক কেন? বাংলাদেশে প্রেসক্রিপশন ছাড়া অ্যান্টিবায়োটিক কেন?
কুকুর মৃত মালিকের জন্য জন্য ৮০ দিন ধরে রাস্তায় বসে আছে! কুকুর মৃত মালিকের জন্য জন্য ৮০ দিন ধরে রাস্তায় বসে আছে!
৮৩ বছরের বৃদ্ধকে নার্সের চড়? ৮৩ বছরের বৃদ্ধকে নার্সের চড়?
৬ হাজার বছর আগের বিড়ালের মমির সন্ধান! ৬ হাজার বছর আগের বিড়ালের মমির সন্ধান!
বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাসে করা যাবে গাঁজা সেবন! বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাসে করা যাবে গাঁজা সেবন!

সর্বাধিক পঠিত

ইউনাইটেড পাওয়ার ও  ইউনাইটেড এনার্জি লি: ৯৯ শতাংশ শেয়ার অধিগ্রহণের সিদ্ধান্ত ইউনাইটেড পাওয়ার ও ইউনাইটেড এনার্জি লি: ৯৯ শতাংশ শেয়ার অধিগ্রহণের সিদ্ধান্ত
#মিটু অভিযোগ পেয়েই আমাজন শো থেকে বাদ দিল গুরসিমরান খাম্বাকে #মিটু অভিযোগ পেয়েই আমাজন শো থেকে বাদ দিল গুরসিমরান খাম্বাকে
বিএনপি নির্বাচন বানচাল করতে অস্থিরতা সৃষ্টি করছে- কাদের বিএনপি নির্বাচন বানচাল করতে অস্থিরতা সৃষ্টি করছে- কাদের
একনজরে জেনে টিভি পর্দার খেলার সময় একনজরে জেনে টিভি পর্দার খেলার সময়
রিশাদ,রবিউল ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে প্রস্তুতি ম্যাচে সুযোগ পেয়েছেন রিশাদ,রবিউল ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে প্রস্তুতি ম্যাচে সুযোগ পেয়েছেন
ভোটের ২ থেকে ১০ দিন আগে সেনা মোতায়েন- ইসি সচিব ভোটের ২ থেকে ১০ দিন আগে সেনা মোতায়েন- ইসি সচিব
পুলিশের গাড়িতে আগুন: ২ যুবক ‘শনাক্ত’ পুলিশের গাড়িতে আগুন: ২ যুবক ‘শনাক্ত’
এশিয়া কাপে চ্যাম্পিয়ন হওয়া দলটি মুখ থুবড়ে পড়ল বিশ্বকাপে এশিয়া কাপে চ্যাম্পিয়ন হওয়া দলটি মুখ থুবড়ে পড়ল বিশ্বকাপে
৪৪৩ রানের লক্ষ্যে পঞ্চম ও শেষ দিন ব্যাট করছে জিম্বাবুয়ে ৪৪৩ রানের লক্ষ্যে পঞ্চম ও শেষ দিন ব্যাট করছে জিম্বাবুয়ে
প্রবাসীর স্ত্রীর গোসলের ভিডিও ছড়িয়ে দিল অন্য প্রবাসী প্রবাসীর স্ত্রীর গোসলের ভিডিও ছড়িয়ে দিল অন্য প্রবাসী
নির্বাচনে সবার অংশগ্রহণ-গণতন্ত্রের জন্য ইতিবাচক
বহুল প্রত্যাশিত সংলাপে কি ছিল?
একটি অর্থবহ ও সফল সংলাপের প্রত্যাশা করছি
শেখ হাসিনা বার্ন ইন্সটিটিউটের: প্রত্যাশিত স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত হবে কি?
নদীশাসনের দুর্বলতা বিঘ্নিত হচ্ছে নৌপথে চলাচল
শিল্পে গ্যাস সংযোগ না দেওয়া, আর্থিক ক্ষতির মুখে-সরকার
গুদামের খাদ্যদ্রব্য পাচারে-সক্রিয় চোর সিন্ডিকেট
প্যারিস জলবায়ু চুক্তি ৩০০ পৃষ্ঠার খসড়া অনুমোদন করেছে-ব্যাংকক
সড়ক শৃঙ্খলা-মূল সমস্যাটা রাজনীতিতেই: কাদের
বিশ্বের ভয়াবহ আবহাওয়া নিয়ে প্রযুক্তিগত আলোচনা চলছে