ঢাকা, নভেম্বর ২০, ২০১৮, ৬ অগ্রহায়ন ১৪২৫
---
bbc24news.com
প্রথম পাতা » পরিবেশ ও জলবায়ু » শরীরের ভেতরে গোপন ১২টি‘দেহঘড়ি’
সোমবার ● ২২ অক্টোবর ২০১৮, ৬ অগ্রহায়ন ১৪২৫
Email this News Print Friendly Version

শরীরের ভেতরে গোপন ১২টি‘দেহঘড়ি’

---বিবিসি২৪নিউজ,রিদম চৌধুরী:ক্ষুদ্রাতিক্ষুদ্র ছত্রাক ও ব্যাকটেরিয়া থেকে শুরু করে মানবদেহ থেকে শুরু করে পৃথিবীর সকল জীবের ভেতরেই আছে এক অদৃশ্য ছন্দ। এটাকেই বৈজ্ঞানিকভাবে বলা হয় ‘সারকেডিয়ান রিদম’।’সারকেডিয়ান রিদম’ হলো একটি শরীরবৃত্তিয় প্রক্রিয়া যা প্রতি ২৪ ঘন্টায় একবার চক্র পূরণ করে এবং জীবিত বস্তুর অস্তিত্বকে এক অদৃশ্য ছন্দে বেঁধে দেয়। একেই বলা হয় দেহঘড়ি।

কিন্তু এটা সম্পর্কে আপনি কতটা জানেন? এটা আপনার জীবনকে কতটা প্রভাবিত করে তা কি আপনি জানেন?

১. ‘সারকেডিয়ান রিদম’: সৃষ্টির শুরু থেকে যেটা বিরাজমান

ধারণা করা হয়, পৃথিবীতে প্রথম যখন থেকে সেল বা কোষ পাওয়া যায় তখন থেকেই ছিল এই সারকেডিয়ান রিদম। এছাড়া এটাও মনে করা হয় যে, সূর্যের আল্ট্রাভায়োলেট রশ্মি দিয়ে দিনের বেলায় যে কোষগুলো ক্ষতিগ্রস্ত হতো রাতে সেগুলো নিজেদের সারিয়ে নিতো।

২. ‘দেহঘড়ি’ সবারই আছে:

ধারণা করা হয়, যে কোনো জীবিত সত্বা— তা সেটির গঠন ও আকৃতি যাই হোক না কেন— যদি সূর্য থেকে নিজের শক্তি সংগ্রহ করে তাহলে এটির একটি দেহ ঘড়ি থাকবেই। আলো ও অন্ধকারের সূত্র মেনে এই ঘড়ি কাজ করবে।

গবেষণায় দেখা গেছে, ‘মিমোসা লিভস’ বা লজ্জাবতী পাতা অন্ধকারেও নিজেকে গুঁটিয়ে নেয় এবং মেলে ধরে। অর্থাৎ সূর্যঘড়ি অনুসরণ না করে বরং লজ্জাবতী তার দেহঘড়ি মেনেই চলে।

৩. দেহঘড়ি জীবকে দেয় সীমানার বোধ:

দেহঘড়ি জীবকে নানা ধরনের সুবিধা দেয়। যেমন: দেহঘড়ির কারণে জীব টের পায় দিন-রাত ও শীত-গ্রীষ্মের ব্যবধান। আর সেই অনুযায়ী শরীর নিজের জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থাগুলোও নেয়।

৪. শরীরের ভেতরেই আছে এক ‘মহাঘড়ি’:

মস্তিষ্কের হাইপোথেলামাস অংশে এই মহাঘড়ির বাস। এটি অনেকটা ‘কন্ডাক্টর’ বা নেতা গোছের একটি বস্তু।

দিনজুড়ে সমস্ত শরীরে যে সকল সিগন্যাল বা নির্দেশাবলীর আদান-প্রদান চলতে থাকে এখান থেকেই তার সব নিয়ন্ত্রণ ঘটে।

৫. শরীরে আরেকটা প্রান্তীয় বা ‘পেরিফেরাল’ ঘড়িও আছে:

শরীরের প্রতিটি অঙ্গ এবং টিস্যুরও রয়েছে নিজস্ব ঘড়ি। এই সব ঘড়িগুলোকে একটি তাল ও লয়ে সমন্বয় করে রাখে হাইপোথেলামাসে থাকা সেই মহাঘড়ি।

৬. শরীরের প্রতিটি কোষের ভেতরেও আছে স্বতন্ত্র ঘড়ি:

শরীরের প্রতিটি অঙ্গ এবং টিস্যুরও রয়েছে নিজস্ব ঘড়ি। এই সব ঘড়িগুলোকে একটি তাল ও লয়ে সমন্বয় করে রাখে হাইপোথেলামাসে থাকা সেই মহাঘড়ি।

৬. শরীরের প্রতিটি কোষের ভেতরেও আছে স্বতন্ত্র ঘড়ি:

শরীরের প্রতিটি কোষের ভেতরে রয়েছে একেকটি স্বতন্ত্র ঘড়ি। ২৪ ঘন্টায় যার চক্র পূরন হয়।
৭. সারক্যানুয়াল রিদম

রাত যত দীর্ঘ হয়, ঘুম যত প্রলম্বিত হয়, মস্তিষ্ক তত মেলাটোন নিষ্কাষন করে। এই হরমোনের কারণেই মানুষের ঘুম ও জেগে উঠা নিয়ন্ত্রিত হয়।

অনেক প্রাণী, যেমন হরিণ, এই ছন্দ মেনেই নিজেকে সঙ্গম ও হাইবারনেশানের জন্য প্রস্তুত করে।

আর এটিও মনে করা হয় যে, রোগ-বালাই ও অসুস্থতার সাথে লড়াই করার জন্য মানুষের শরীর শীতকালে বেশি মাত্রায় এন্টিবডি তৈরি করে।

৮. সূর্যালোক মানুষকে রাখে সুষম, সুস্থির

যদি কাউকে অন্ধকারে ফেলে রাখা হয় তাহলে তার দেহঘড়ি ২৪ ঘন্টা পিছিয়ে পড়বে।

মানুষের চোখের ভেতর এক ধরণের সেন্সর রয়েছে। যেগুলো দিয়ে আলোকে সনাক্ত করা হয় এবং মস্তিষ্কের প্রয়োজনীয় অংশে সংকেত পাঠানো হয়। আর এভাবেই শরীরে ভেতরে গোপন দেহঘড়ি নিজের ছন্দ ধরে রাখে।

৯. এখন ঘুমের সময়

ভোরে ঘুম থেকে জেগে উঠার পর থেকেই শরীরে ঘুমের জন্য একটু-একটু করে চাপ তৈরি হতে থাকে।

কিন্তু সামান্য চাপেই কেউ ঘুমে তলিয়ে যায় না। বরং দেহঘড়ি যখন বলে, এখনই ঘুমের উপযুক্ত সময় তখনই শরীর ঘুমে ঢরে পড়ে।

১০. জেট লেগ

শরীর কখনো-কখনো বেতাল লাগে। অনেক দূরের পথ পাড়ি দিলে এমন হয়। একদিকে ঝিমুনি-ঝিমুনি লাগে, অন্যদিকে ঘুমও ঠিক আসে না।

সাধারণত শরীরের ভেতরে থাকা মহাঘড়িটি যখন একটা সময়ে থাকে কিন্তু শরীরের অন্যান্য অংশ যেমন পাকস্থলি, মস্তিষ্ক বা এরকম অন্য অঙ্গগুলো যখন ভিন্ন-ভিন্ন ছন্দে থাকে তখনই এমনটা হয়।

একেকটি টাইম জোন পাড় হবার পর শরীরের মহাঘড়িটি তার নিজের ছন্দে ফিরে আসতে সাধরণত ২৪ ঘন্টা সময় লাগে।

১১. সামাজিক জেট লেগ

যারা বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন শিফটের কাজ করে তাদের দেহঘড়িটি অনেক সময় এলোমেলো হয়ে যায়। এই দশাটিকে বলা হয় ‘সোশাল জেট লেগ’ বা সামাজিক পরিস্থিতির কারণে তৈরি হওয়া শারিরীক বিড়ম্বনা।

১২. ক্লান্ত টিনেজারদের সকালে কিছুক্ষণ বেশি ঘুমোতে দিন

বয়:সন্ধিকালে কিশোর-কিশোরীদের শরীরের ভেতর হরমোনের একটা বন্যা বয়ে যায়। এর ফলে, এই বয়সীদের দেহঘড়ি ঘন্টা দু’য়েক পেছানো থাকে।

তাই, অতি সাত সকালে তাদেরকে ঘুম থেকে ডেকে না তুলে আরো কিছু সময় ঘুমাতে দেয়া দরকার।


কলকাতায় মদ নিয়ে বিতর্ক এত বির্তক কেন?

দেবী’র পরবর্তী ‘নিশীথিনীতে কাজ করতে চায়- শবনম


এ বিভাগের আরো খবর...

কাঁকড়ার রক্ত ১১ লাখ টাকা প্রতি লিটার! কাঁকড়ার রক্ত ১১ লাখ টাকা প্রতি লিটার!
যে খাবার খেলে কমে আসে যৌন ক্ষমতা! যে খাবার খেলে কমে আসে যৌন ক্ষমতা!
বিবিসির ১০০ নারীর তালিকায় স্থান পেলেন বাংলাদেশের নারী! বিবিসির ১০০ নারীর তালিকায় স্থান পেলেন বাংলাদেশের নারী!
পশ্চিমবঙ্গের ‘‌বাংলা’‌ নাম বাংলাদেশের কারণে আটকে যাচ্ছে! পশ্চিমবঙ্গের ‘‌বাংলা’‌ নাম বাংলাদেশের কারণে আটকে যাচ্ছে!
এইডস এর ঝুঁকিতে ২৩ জেলা! এইডস এর ঝুঁকিতে ২৩ জেলা!
জামাল খাশোগি হত্যায় যুবরাজ সালমানের পরিণতি কী হতে পারে? জামাল খাশোগি হত্যায় যুবরাজ সালমানের পরিণতি কী হতে পারে?
যৌন মিলনের বিনিময়ে পুরস্কারের প্রতিশ্রুতি যৌন মিলনের বিনিময়ে পুরস্কারের প্রতিশ্রুতি
যে কারণে বয়সে বড় নারীর প্রেমে পড়ে পুরুষরা যে কারণে বয়সে বড় নারীর প্রেমে পড়ে পুরুষরা
যৌন হয়রানির মধ্যে কী কী পড়ে যৌন হয়রানির মধ্যে কী কী পড়ে
একজন রোহিঙ্গাও ফিরতে চায় না মিয়ানমারে! একজন রোহিঙ্গাও ফিরতে চায় না মিয়ানমারে!

সর্বাধিক পঠিত

মা হতে চলেছেন অনুষ্কা শর্মা মা হতে চলেছেন অনুষ্কা শর্মা
নির্বাচন কমিশন ও পুলিশের ভূমিকা প্রশ্নবিদ্ধ: ফখরুল নির্বাচন কমিশন ও পুলিশের ভূমিকা প্রশ্নবিদ্ধ: ফখরুল
মেয়ের নাম জানালেন নেহা-অঙ্গদ মেয়ের নাম জানালেন নেহা-অঙ্গদ
ডিএমপি কমিশনার ও ইসি সচিবের শাস্তি দাবি- বিএনপির ডিএমপি কমিশনার ও ইসি সচিবের শাস্তি দাবি- বিএনপির
তেল দৈনিক ১০ লাখ ব্যারেল বাড়াতে চায় ভেনিজুয়েলা তেল দৈনিক ১০ লাখ ব্যারেল বাড়াতে চায় ভেনিজুয়েলা
পেঁয়াজের দাম কমেছে কেজিতে ১১ টাকা পেঁয়াজের দাম কমেছে কেজিতে ১১ টাকা
দীপিকা-রণবীর মুম্বইতে ইন্ডাস্ট্রির বন্ধুদের, সহকর্মীদের জন্য পার্টি দেবেন দীপিকা-রণবীর মুম্বইতে ইন্ডাস্ট্রির বন্ধুদের, সহকর্মীদের জন্য পার্টি দেবেন
ভারতের ৫৮ লাখ টন চাল রফতানি ৬ মাসে ভারতের ৫৮ লাখ টন চাল রফতানি ৬ মাসে
খালি গায়ে ঘর পরিষ্কার করে মাসিক আয় ৪ লাখ টাকা! খালি গায়ে ঘর পরিষ্কার করে মাসিক আয় ৪ লাখ টাকা!
কাঁকড়ার রক্ত ১১ লাখ টাকা প্রতি লিটার! কাঁকড়ার রক্ত ১১ লাখ টাকা প্রতি লিটার!
নির্বাচনে সবার অংশগ্রহণ-গণতন্ত্রের জন্য ইতিবাচক
বহুল প্রত্যাশিত সংলাপে কি ছিল?
একটি অর্থবহ ও সফল সংলাপের প্রত্যাশা করছি
শেখ হাসিনা বার্ন ইন্সটিটিউটের: প্রত্যাশিত স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত হবে কি?
নদীশাসনের দুর্বলতা বিঘ্নিত হচ্ছে নৌপথে চলাচল
শিল্পে গ্যাস সংযোগ না দেওয়া, আর্থিক ক্ষতির মুখে-সরকার
গুদামের খাদ্যদ্রব্য পাচারে-সক্রিয় চোর সিন্ডিকেট
প্যারিস জলবায়ু চুক্তি ৩০০ পৃষ্ঠার খসড়া অনুমোদন করেছে-ব্যাংকক
সড়ক শৃঙ্খলা-মূল সমস্যাটা রাজনীতিতেই: কাদের
বিশ্বের ভয়াবহ আবহাওয়া নিয়ে প্রযুক্তিগত আলোচনা চলছে