ঢাকা, মার্চ ১৮, ২০১৯, ৪ চৈত্র ১৪২৫
---
bbc24news.com
প্রথম পাতা » সম্পাদকীয় » খেলাপি ঋণে ‘জিরো টলারেন্স’ চাই
রবিবার ● ১৭ ফেব্রুয়ারী ২০১৯, ৪ চৈত্র ১৪২৫
Email this News Print Friendly Version

খেলাপি ঋণে ‘জিরো টলারেন্স’ চাই

---এম ডি জালাল:বাংলাদেশে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের নিরঙ্কুশ বিজয় অর্জনের পর ০৭ জানুয়ারি ২০১৯ শেখ হাসিনা চতুর্থবারের মত গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেন।প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ক্ষমতা আসার পর দুর্নীতির বিরুদ্ধে সরকারের ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি ঘোষণার পর থেকেই ব্যাংকিং সেক্টরের দুরবস্থা নিয়ে আলোচনা হচ্ছে। বিশেষ করে খেলাপি ঋণের মাত্রা সহনীয় পর্যায়ে নামিয়ে আনা এবং অন্যান্য অনিয়ম দূর করে উন্নয়নের সহায়ক শক্তি হিসেবে এই সেক্টরকে কীভাবে আরও কাজে লাগানো যায়, তা নিয়ে অনেকেই ভাবতে শুরু করেছেন।

অর্থনীতিবিদরা একবাক্যে স্বীকার করে নিয়েছেন যে, অর্থনৈতিক উন্নয়ন সত্যিকারভাবে গতিশীল ও টেকসই করে তার সুফল সবার জন্য ন্যায্যতার ভিত্তিতে ভোগ করার সুযোগ সৃষ্টির ক্ষেত্রে একটি স্বচ্ছ ব্যাংকিং সেক্টরের বিকল্প নেই। কারণ ব্যাংকিং সেক্টর হচ্ছে দেশের অর্থনীতির অন্যতম চালিকাশক্তি। বিশেষ করে উন্নয়নশীল দেশ, যেখানে ব্যক্তিগত পুঁজি জোগানোর সীমাবদ্ধতা রয়েছে, সেখানে ব্যাংকিং সেক্টর ভালোভাবে কাজ না করলে কোনোভাবেই দ্রুত ও টেকসই উন্নয়ন নিশ্চিত করা সম্ভব নয়।

দেশের ব্যাংকিং খাত নানা জটিল সমস্যায় জর্জরিত। সবচেয়ে বড় সমস্যা হচ্ছে অভ্যন্তরীণ সুশাসনের অনুপস্থিতি এবং খেলাপি ঋণের উচ্চমাত্রা। খেলাপি ঋণের পরিমাণ কমানো না গেলে কোনোভাবেই ব্যাংকিং সেক্টরকে গতিশীল এবং উদ্যোক্তা কল্যাণে ব্যবহার করা যাবে না। এমন একটি অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে যে, একজন উদ্যোক্তাও বুকে হাত দিয়ে বলতে পারবেন না তিনি ব্যাংক ঋণ গ্রহণ করেছেন অথচ কোনো পর্যায়েই দুর্নীতির সঙ্গে সমঝোতা করেননি। রাষ্ট্র্রীয় মালিকানাধীন ব্যাংকের একজন কর্মকর্তা দেশের সাধারণ মানুষের ট্যাক্সের অর্থে বেতন-ভাতা গ্রহণ করেন।

কিন্তু তাদের অনেকের আচরণ দেখলে মনে হয়, তারা যেন জনগণের সেবক নন, জনগণের প্রভু। তারা অর্পিত দায়িত্বকে ব্যক্তিগত ক্ষমতা বলে মনে করেন। ব্যাংকিং সেক্টর নানা জটিল সমস্যায় জর্জরিত হয়ে পড়ার কারণে এর স্বাভাবিক গতি বিঘ্নিত হচ্ছে। এর মধ্যে সবচেয়ে জটিল সমস্যা হচ্ছে খেলাপি ঋণ কালচার। ব্যাংকিং সেক্টরের জন্য যেসব আইন-কানুন চালু আছে তার বেশিরভাগই সৎ এবং নিয়মিত ঋণ পরিশোধকারী উদ্যোক্তাদের স্বার্থ রক্ষা করছে না। অপব্যবহারের কারণে এসব আইন ঋণখেলাপিদের স্বার্থই সংরক্ষণ করছে। আমাদের দেশের ব্যাংকিং সেক্টরের জন্য যেসব আইন চালু আছে তা আন্তর্জাতিক মানের।

অধিকাংশ আইন উন্নয়ন সহযোগীদের প্রেসক্রিপশনে প্রণীত। কিন্তু এগুলো দেশের প্রচলিত সমাজ বাস্তবতার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। ফলে এসব আইনের অপব্যবহার করে ঋণখেলাপিরা স্বার্থ হাসিল করছে। বাংলাদেশের ব্যাংকিং সেক্টরে যেসব আইন প্রচলিত আছে তার বেশিরভাগই ঋণখেলাপি এবং ইচ্ছাকৃতভাবে যারা ব্যাংক পরিশোধ করে না তাদের স্বার্থরক্ষা করে চলেছে।

একজন ঋণখেলাপিকে স্বচ্ছ এবং খেলাপি ঋণমুক্ত দেখানোর একটি চমৎকার পন্থা হচ্ছে ঋণ হিসাব পুনঃতফসিলীকরণ বা লোন অ্যাকাউন্ট রিসিডিউলিং। কোনো ঋণ হিসাব খেলাপি হয়ে পড়লে ঋণগ্রহীতা মোট খেলাপি ঋণের ১৫ শতাংশ অথবা মোট পাওনা ঋণের ১০ শতাংশ এককালীন ডাউন পেমেন্ট হিসেবে ব্যাংকে জমা দিলে তার ঋণ হিসাব পুনঃতফসিলীকরণ করে নিতে পারবেন। প্রথমবার ঋণ হিসাব পুনঃতফসিলীকরণের মেয়াদ হচ্ছে সর্বোচ্চ ২ বছর।

অর্থাৎ এ দুই বছরের মধ্যে সংশ্লিষ্ট ঋণগ্রহীতাকে কোনোভাবেই খেলাপি হিসেবে আখ্যায়িত করা যাবে না। দ্বিতীয়বার ঋণ হিসাব পুনঃতফসিলীকরণের ক্ষেত্রে মোট খেলাপি ঋণের ৩০ শতাংশ অথবা মোট পাওনা ঋণের ২০ শতাংশ এককালীন ডাউন পেমেন্ট হিসেবে ব্যাংকে জমা দিতে হয়। দ্বিতীয়বার পুনঃতফসিলীকরণের মেয়াদ হচ্ছে সর্বোচ্চ ১ বছর ৬ মাস। তৃতীয়বার ঋণ হিসাব পুনঃতফসিলীকরণ করার ক্ষেত্রে ডাউন পেমেন্টের হার হচ্ছে মোট খেলাপি ঋণের ৫০ শতাংশ অথবা মোট পাওনা ঋণের ৩০ শতাংশ। তৃতীয়বার পুনঃতফসিলীকরণের মেয়াদ ১ বছর। এখন প্রশ্ন হল, কোনো ঋণখেলাপি প্রথমবার পুনঃতফসিলীকরণের পর নিয়মিত কিস্তি পরিশোধে ব্যর্থ হলে তাকে দ্বিতীয় ও তৃতীয়বাবের জন্য পুনঃতফসিলীকরণের সুযোগ কেন দেয়া হবে? এটা তো অনেকটাই পরীক্ষিত যে, তিনি পুনঃতফসিলীকরণের পরও ঋণের কিস্তি পরিশোধে ব্যর্থ হয়েছেন। বারবার পুনঃতফসিলীকরণের সুযোগ দেয়ার অর্থই হচ্ছে তাদের সময়ক্ষেপণের সুযোগ সৃষ্টি করে দেয়া।

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে একশ্রেণীর ঋণখেলাপি কোনো ডাউন পেমেন্ট ছাড়াই ঋণ হিসাব পুনঃতফসিলীকরণের সুযোগদানের জন্য বাংলাদেশ ব্যাংকে আবেদন করেছিলেন। খেলাপি ঋণ হিসাব পুনঃতফসিলীকরণের সুযোগ পাচ্ছেন মূলত তারা, যারা নিয়মিত ঋণের কিস্তি পরিশোধ করেন না। যারা ইচ্ছাকৃত ঋণখেলাপি এবং নিয়মিত ঋণের কিস্তি পরিশোধ করেন না, তাদের ঋণ হিসাব পুনঃতফসিলীকরণের সুযোগ ঢালাওভাবে দেয়া ঠিক নয়। বরং যারা নিকট অতীতে নিয়মিত ঋণের কিস্তি পরিশোধ করেছেন, কিন্তু বাস্তবসম্মত কোনো কারণে বর্তমানে ঋণের কিস্তি পরিশোধে অপারগ হয়েছেন, এমন উদ্যোক্তাদেরই ঋণ হিসাব পুনঃতফসিলীকরণের সুযোগ দেয়া যেতে পারে।

বর্তমানে দেশের ব্যাংকিং সেক্টরে মোট খেলাপি ঋণের পরিমাণ হচ্ছে প্রায় ৯৯ হাজার কোটি টাকা। এর সঙ্গে অবলোপনকৃত ৩৭ হাজার ৮৬৬ কোটি টাকা যোগ করা হলে মোট খেলাপি ঋণের পরিমাণ দাঁড়ায় ১ লাখ ৩৬ হাজার কোটি টাকারও বেশি। ব্যাংকিং সেক্টরের খেলাপি ঋণের পরিমাণ কৃত্রিমভাবে কমিয়ে দেখানোর একটি চমৎকার পন্থা হচ্ছে ঋণ হিসাব অবলোপন। ‘অবলোপন’ শব্দটি উচ্চারিত হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই মওকুফ বা দাবি ত্যাগ করার মতো একটি আবহ সৃষ্টি হয়।

২০০২ সালে দেশের ব্যাংকিং সেক্টরের জন্য অবলোপন নীতিমালা জারি করা হয়। সেই থেকে এ পর্যন্ত ৪৯ হাজার ৭৪৫ কোটি টাকার ঋণ হিসাব অবলোপন করা হয়েছে। অবলোপনকৃত ঋণ হিসাব থেকে ব্যাংকগুলো এ পর্যন্ত আদায় করতে পেরেছে ১১ হাজার ৮৭৯ কোটি টাকা। ইতিমধ্যে বাংলাদেশ ব্যাংক এক প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে ঋণ হিসাব অবলোপন নীতিমালা আরও সহজীকরণ করেছে। আগে একটি ঋণ হিসাব মন্দ ঋণ হিসেবে বিবেচিত হওয়ার পর ৫ বছর অতিক্রান্ত হলে উপযুক্ত আদালতে মামলা দায়েরের পর তা অবলোপন করা যেত। এখন মন্দ ঋণ হিসেবে চিহ্নিত হওয়ার পর তিন বছর অতিক্রান্ত হলেই মামলা দায়ের করা যাবে।

নতুন অর্থমন্ত্রী দায়িত্ব গ্রহণের পর বলেছেন, এখন থেকে খেলাপি ঋণ আর বাড়বে না। তার এই বক্তব্য বাস্তবায়িত করার জন্য ব্যাংক ও সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলো জোর তৎপরতা শুরু করেছে। কিন্তু বিদ্যমান অবস্থায় ঋণের কিস্তি আদায়ের মাধ্যমে খেলাপি ঋণের পরিমাণ উল্লেখযোগ্যভাবে কমানো যাবে বলে মনে হয় না। কারণ ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর খেলাপি ঋণ পরিস্থিতি খুবই নাজুক অবস্থার মধ্যে রয়েছে।

একজন উদ্যোক্তাকে কোর্টের রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করতে হলে দাবিকৃত টাকার অন্তত ৫০ শতাংশ এককালীন জমা দিতে হবে- এ ধরনের একটি নিয়ম করা যেতে পারে। ব্যাংকিং সেক্টরের ভবিষ্যৎ নিয়ে আমাদের গুরুত্বের সঙ্গে ভাবতে হবে। অন্যথায় আগামীতে দেশের উন্নয়ন কার্যক্রমে এ সেক্টর তার দায়িত্ব সঠিকভাবে পালন করতে পারবে না।


হিজড়াদের জন্য আবাসন স্থাপনের পরিকল্পন- সমাজ কল্যাণমন্ত্রী

দুর্নীতি প্রতিরোধে সমন্বিত উদ্যোগ নিতে হবে- আইনমন্ত্রী


এ বিভাগের আরো খবর...

প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধাদের তালিকা তৈরি করতে পারছে না কেন? প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধাদের তালিকা তৈরি করতে পারছে না কেন?
শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্ক বিশ্বে একটি রোল মডেল? শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্ক বিশ্বে একটি রোল মডেল?
সীমাহীন দুর্নীতিগ্রস্ত বিমান সীমাহীন দুর্নীতিগ্রস্ত বিমান
নানা সমস্যায় জর্জরিত ব্যাংকিং খাত! নানা সমস্যায় জর্জরিত ব্যাংকিং খাত!
উত্তপ্ত কাশ্মীর সমস্যার স্থায়ী সমাধান প্রয়োজন! উত্তপ্ত কাশ্মীর সমস্যার স্থায়ী সমাধান প্রয়োজন!
দেশকে দ্রুত উন্নতির জন্য কারিগরি শিক্ষার বিকল্প নেই! দেশকে দ্রুত উন্নতির জন্য কারিগরি শিক্ষার বিকল্প নেই!
প্রধানমন্ত্রীর জার্মানি সফর উন্নয়ন- কূটনৈতিক সম্পর্ক জোরদার হবে! প্রধানমন্ত্রীর জার্মানি সফর উন্নয়ন- কূটনৈতিক সম্পর্ক জোরদার হবে!
খেলাপি ঋণে ‘জিরো টলারেন্স’ চাই খেলাপি ঋণে ‘জিরো টলারেন্স’ চাই
জনতা ব্যাংকে নেতৃত্ব সংকট দেখা দিয়েছে জনতা ব্যাংকে নেতৃত্ব সংকট দেখা দিয়েছে
খাদ্যদ্রব্যে ভেজাল ও ক্ষতিকর উপাদান রোধে নিতে হবে কঠোর পদক্ষেপ! খাদ্যদ্রব্যে ভেজাল ও ক্ষতিকর উপাদান রোধে নিতে হবে কঠোর পদক্ষেপ!

সর্বাধিক পঠিত

রাঙ্গামাটিতে দুর্বৃত্তদের গুলিতে প্রিসাইডিং অফিসারসহ নিহত ৫ রাঙ্গামাটিতে দুর্বৃত্তদের গুলিতে প্রিসাইডিং অফিসারসহ নিহত ৫
প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধাদের তালিকা তৈরি করতে পারছে না কেন? প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধাদের তালিকা তৈরি করতে পারছে না কেন?
দ্বিতীয় ধাপে ভোট সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ হয়েছে- ইসি সচিব দ্বিতীয় ধাপে ভোট সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ হয়েছে- ইসি সচিব
দেশের প্রচলিত শিক্ষা ব্যবস্থায় চাকরির সুযোগ নেই- মোস্তাফা জব্বার দেশের প্রচলিত শিক্ষা ব্যবস্থায় চাকরির সুযোগ নেই- মোস্তাফা জব্বার
কালীগঞ্জে কিশোরীকে গনধর্ষণে গ্রেফতার ৩ কালীগঞ্জে কিশোরীকে গনধর্ষণে গ্রেফতার ৩
মর্যাদাহীন নির্বাচন করে কেউ খুশি হতে পারে না- মাহবুব তালুকদার মর্যাদাহীন নির্বাচন করে কেউ খুশি হতে পারে না- মাহবুব তালুকদার
পাকিস্তানি সেনার গুলিতে ভারতীয় সেনা নিহত, উত্তেজনার আশংকা! পাকিস্তানি সেনার গুলিতে ভারতীয় সেনা নিহত, উত্তেজনার আশংকা!
হাসতে নেই মানা: হাসুন প্রাণ খুলে হাসতে নেই মানা: হাসুন প্রাণ খুলে
তিমির পেটে ৪০ কেজি প্লাস্টিকের ‘শপিং ব্যাগ’! তিমির পেটে ৪০ কেজি প্লাস্টিকের ‘শপিং ব্যাগ’!
মিয়া খলিফার ‘একদম পারফেক্ট রাত’ মিয়া খলিফার ‘একদম পারফেক্ট রাত’
প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধাদের তালিকা তৈরি করতে পারছে না কেন?
শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্ক বিশ্বে একটি রোল মডেল?
সীমাহীন দুর্নীতিগ্রস্ত বিমান
নানা সমস্যায় জর্জরিত ব্যাংকিং খাত!
উত্তপ্ত কাশ্মীর সমস্যার স্থায়ী সমাধান প্রয়োজন!
দেশকে দ্রুত উন্নতির জন্য কারিগরি শিক্ষার বিকল্প নেই!
প্রধানমন্ত্রীর জার্মানি সফর উন্নয়ন- কূটনৈতিক সম্পর্ক জোরদার হবে!
খেলাপি ঋণে ‘জিরো টলারেন্স’ চাই
৫ জনই ছাত্রলীগ-যুবলীগ নেতা
দুর্নীতির বিরুদ্ধে প্রকৃত অর্থেই নিতে হবে জিরো টলারেন্স