বুধবার, ২৩ এপ্রিল ২০২৫
প্রথম পাতা » বিশেষ প্রতিবেদন | শিরোনাম » রোহিঙ্গা সংকটের সমাধান টেকসই প্রত্যাবাসন: ড. ইউনূস
রোহিঙ্গা সংকটের সমাধান টেকসই প্রত্যাবাসন: ড. ইউনূস
বিবিসি২৪নিউজ,বিশেষ প্রতিবেদক: অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস বলেছেন, রোহিঙ্গা সংকট কেবল একটি মানবিক সমস্যা নয়; এটি একটি বহুমাত্রিক সংকট, যার সামাজিক, অর্থনৈতিক, রাজনৈতিক ও পরিবেশগত প্রভাব রয়েছে। রোহিঙ্গা সংকটে একমাত্র সমাধান হচ্ছে টেকসই প্রত্যাবাসন।
তিনি বলেন, বাংলাদেশ প্রায় ১৩ লাখ জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুত মিয়ানমারের নাগরিককে (রোহিঙ্গা) আশ্রয় দিয়েছে। প্রতি বছর প্রায় ৩২ হাজার নবজাতক যুক্ত হচ্ছে। নানা চ্যালেঞ্জ ও সীমাবদ্ধতা থাকা সত্ত্বেও শুধু মানবিক দৃষ্টিকোণ থেকে বাংলাদেশ এই বিশাল জনগোষ্ঠীকে আশ্রয় দিচ্ছে। বাংলাদেশ মনে করে, এ সংকটের একমাত্র সমাধান হচ্ছে টেকসই প্রত্যাবাসন।বুধবার (২৩ এপ্রিল) দোহায় কাতার ফাউন্ডেশন আয়োজিত রোহিঙ্গা সংকট ও বাস্তুচ্যুত জনগোষ্ঠীর বিষয়ে গোলটেবিল আলোচনায় বক্তব্যকালে তিনি এসব কথা বলেন।প্রধান উপদেষ্টার ডেপুটি প্রেস সেক্রেটারি আবুল কালাম আজাদ মজুমদার এসব তথ্য জানিয়েছেন। লিখিত বক্তব্যে প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস বলেন, রাখাইনের পরিস্থিতি নাটকীয়ভাবে পরিবর্তিত হয়েছে।
আরাকান আর্মি (এএ) বর্তমানে বাংলাদেশ-মিয়ানমার সীমান্তের ২৭১ কিমি এবং রাখাইনের ১৭টির মধ্যে ১৪টি টাউনশিপ নিয়ন্ত্রণ করছে। ২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারির তথ্যানুযায়ী, রাখাইনে মোট অভ্যন্তরীণ বাস্তুচ্যুত মানুষের সংখ্যা ৫ লাখ ৩৮ হাজার ৮৭৬ জন। এর মধ্যে ১ লাখ ৫২ হাজার ৭১ জন রাষ্ট্রহীন রোহিঙ্গা দীর্ঘমেয়াদে ২১টি ক্যাম্প ও তিনটি গ্রামে বসবাস করছে। নতুন করে বাস্তুচ্যুত ৩ লাখ ৮৬ হাজার ৮০৫ জন (অধিকাংশ রাখাইন) ১ হাজার ২১৯টি স্থানে ছড়িয়ে রয়েছে।
প্রধান উপদেষ্টা বলেন, ২০২৩ সালের নভেম্বর থেকে নতুন করে বাংলাদেশে প্রবেশ করেছে ১ লাখেরও বেশি রোহিঙ্গা। ২০২৪ সালের ফেব্রুয়ারি থেকে আরাকান আর্মির হামলার মুখে ৯০৯ জন মিয়ানমার নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্য বাংলাদেশে আশ্রয় নেয়। এর মধ্যে ৮৭৫ জনকে ফেরত পাঠানো হয়েছে এবং ৩৪ জনকে শিগগির পাঠানো হবে।
প্রধান উপদেষ্টা আরও বলেন, দুঃখজনকভাবে, রোহিঙ্গা মানবিক সংকট মোকাবিলায় যৌথ সহায়তা পরিকল্পনার (জেআরপি) অর্থায়ন ক্রমাগত হ্রাস পাচ্ছে। ২০২৪ সালে জেআরপি ৮৫২ দশমিক ৪ মিলিয়ন ডলার আহ্বান করা হলেও প্রাপ্ত অর্থ ৬৪ দশমিক ৪ শতাংশ অর্থাৎ ৫৪৮ দশমিক ৯ মিলিয়ন ডলার। ২০২৫-২৬ সালের জেআরপি ২০২৫ সালের ২৪ মার্চ শুরু হয়। এর আওতায় ১৪ দশমিক ৮ মিলিয়ন মানুষ রোহিঙ্গা ও কক্সবাজারের স্থানীয় জনগোষ্ঠীকে সহায়তা দিতে প্রয়োজন ৯৩৪ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলার। ইউএসএ এর বিদেশি সাহায্য হ্রাস করায় পরিস্থিতি আরও জটিল হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, সম্প্রতি বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচি (ডাব্লুএফপি) ঘোষণা দিয়েছিল যে, তারা ২০২৫ সালের এপ্রিল থেকে খাদ্য সহায়তা বন্ধ করতে পারে। তবে তাৎক্ষণিক অর্থায়ন জোগাড় করে তা সাময়িকভাবে স্থগিত রাখা গেছে। কিন্তু সেপ্টেম্বর ২০২৫ থেকে আবার তহবিল সংকটে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে। বাংলাদেশ আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সঙ্গে কাজ করছে অর্থায়ন নিশ্চিত করতে। আশা করি কাতার এই দিক থেকে অগ্রণী ভূমিকা পালন করবে।




ধর্ম ও বর্ণভেদে নয়, এদেশ আমাদের সকলের : প্রধান উপদেষ্টা
শিক্ষা শুধু চাকরির জন্য নয়, সৃজনশীল ও আদর্শ মানুষ গড়ার জন্যও : প্রধান উপদেষ্টা
নতুন বছর হোক সম্প্রীতি, সৌহার্দ ও ভ্রাতৃত্বের বন্ধন: প্রধান উপদেষ্টা
বাংলাদেশের সব মানুষ নিরাপদ থাকবে, বার্তা তারেক রহমানের, বললেন ‘পরিকল্পনা আছে’
জাতির উদ্দেশে প্রধান উপদেষ্টার ভাষণ: ওসমান হাদির মৃত্যুতে শনিবার রাষ্ট্রীয় শোক
ফ্যাসিস্ট টেরোরিস্টদের অপচেষ্টা ব্যর্থ করে দেয়া হবে: প্রধান উপদেষ্টা
আজ মহান বিজয় দিবস
শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবসে রাষ্ট্রপতি ও প্রধান উপদেষ্টার শ্রদ্ধা
বাংলাদেশে ফেব্রুয়ারিতে উৎসবমুখর নির্বাচন হবে: প্রধান উপদেষ্টা
খালেদা জিয়ার জন্য দেশবাসীর কাছে দোয়া চেয়েছেন প্রধান উপদেষ্টা 