শিরোনাম:
ঢাকা, সোমবার, ১৬ মার্চ ২০২৬, ১ চৈত্র ১৪৩২
BBC24 News
রবিবার, ১৪ ডিসেম্বর ২০২৫
প্রথম পাতা » প্রিয়দেশ | শিরোনাম | সাবলিড » শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবস আজ: গণহত্যার সুনির্দিষ্ট লক্ষ্যবস্তু ছিলেন বুদ্ধিজীবীরা
প্রথম পাতা » প্রিয়দেশ | শিরোনাম | সাবলিড » শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবস আজ: গণহত্যার সুনির্দিষ্ট লক্ষ্যবস্তু ছিলেন বুদ্ধিজীবীরা
২২৬ বার পঠিত
রবিবার, ১৪ ডিসেম্বর ২০২৫
Decrease Font Size Increase Font Size Email this Article Print Friendly Version

শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবস আজ: গণহত্যার সুনির্দিষ্ট লক্ষ্যবস্তু ছিলেন বুদ্ধিজীবীরা

---বিবিসি২৪নিউজ,বিশেষ প্রতিবেদক ঢাকা: ২৫ মার্চ ১৯৭১– বাংলাদেশের ইতিহাসে এক ভয়াবহ কালরাত্রি। ওই রাত থেকেই পাকিস্তানি সামরিক বাহিনী এ দেশের জনগণের ওপর নির্বিচারে গণহত্যা শুরু করে। নারী, শিশু, বৃদ্ধ– কেউই রেহাই পাননি। এই গণহত্যা ছিল সামগ্রিক, সর্বগ্রাসী। তবে এর ভেতরেই ছিল একটি বিশেষভাবে লক্ষ্যভিত্তিক পরিকল্পনা– বাংলাদেশের বুদ্ধিজীবী সমাজকে নিশ্চিহ্ন করা। সুপরিকল্পিত উদ্যোগ।

অনেক সময় বুদ্ধিজীবী হত্যাকাণ্ডকে কেবল ১০ থেকে ১৫ ডিসেম্বরের মধ্যে সীমাবদ্ধ করে দেখা হয়। কিন্তু এটি ভ্রান্ত ও অসম্পূর্ণ পাঠ। ডিসেম্বরের ওই কয়েকটি দিন ছিল এই হত্যাযজ্ঞের চূড়ান্ত ও প্রকাশ্য পর্ব। কিন্তু এর সূচনা হয়েছিল ২৫ মার্চের কালরাত্রিতেই। ওই রাতেই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক আবাসিক এলাকা আক্রান্ত হয়। অধ্যাপক ও গবেষকরা সরাসরি লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হন। যুদ্ধের পুরো সময়জুড়ে এ প্রক্রিয়া নীরবে ও ধারাবাহিকভাবে সারাদেশে চলতে থাকে।

শহীদ বুদ্ধিজীবীদের মধ্যে ছিলেন শিক্ষক, শিল্পী-সাহিত্যিক, চিকিৎসক, প্রকৌশলী, সাংবাদিকসহ নানা পেশার মানুষ। এই বহুমাত্রিক পেশাগত পরিচয়ই প্রমাণ করে– এ হত্যাকাণ্ড কোনো আকস্মিক প্রতিশোধ নয়, বরং একটি আদর্শিক ও রাজনৈতিক সিদ্ধান্তের বাস্তবায়ন। পাকিস্তান রাষ্ট্রের জন্ম হয়েছিল সাম্প্রদায়িক রাজনীতির ভিত্তিতে। ধর্মীয় পরিচয়কে একমাত্র জাতীয় পরিচয় হিসেবে প্রতিষ্ঠা করার মধ্যেই ছিল এই রাষ্ট্রের আত্মবিশ্বাস ও রাজনৈতিক দর্শন। পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠী দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করত– ধর্মীয় পরিচয়ের বাইরে কোনো জাতিসত্তা টিকে থাকতে পারে না।

কিন্তু বাংলাদেশে সেই ধারণার বিরুদ্ধে শক্ত প্রতিরোধ গড়ে তুলেছিলেন এ দেশের শিল্পী-সাহিত্যিক ও বুদ্ধিজীবীরা। ভাষা আন্দোলন থেকে শুরু করে ষাটের দশকের সাংস্কৃতিক জাগরণ– সবখানে তারাই ছিলেন প্রধান বুদ্ধিবৃত্তিক বাহক। তারাই প্রথম বার্তা তুলেছিলেন– ধর্মই মানুষের একমাত্র পরিচয় হতে পারে না। ভাষা, সংস্কৃতি, ইতিহাস ও ভূখণ্ডভিত্তিক পরিচয়ের আলোকে তারা বাঙালি জাতীয়তাবাদকে সুসংহত করেছিলেন। এই বুদ্ধিজীবীরাই পাকিস্তানের রাষ্ট্রীয় মতাদর্শের ভিতকে নড়িয়ে দিয়েছিলেন। ফলে পাকিস্তানি সামরিক বাহিনী ও তাদের দেশীয় সহযোগীরা মনে করেছিল, এই শ্রেণিকে নিশ্চিহ্ন করতে পারলে বাংলাদেশের আত্মবিকাশ থেমে যাবে, স্বাধীনতার চেতনা দুর্বল হবে এবং পাকিস্তানি আদর্শ টিকে থাকবে। বুদ্ধিজীবী হত্যাকাণ্ড ছিল সেই লক্ষ্য বাস্তবায়নের নির্মম প্রয়াস।

মুক্তিযুদ্ধে বিজয়ের পরপরই এই শূন্যতা গভীরভাবে অনুভূত হয়েছিল। তবে সময়ের প্রবাহে এক ধরনের উত্তরণ ঘটেছিল। নতুন প্রজন্মের বুদ্ধিজীবীরা উঠে এসেছিলেন। তারা মুক্তিযুদ্ধের চেতনা, জাতীয়তাবাদ ও প্রগতিশীল মূল্যবোধ সামনে রেখে সমাজ নির্মাণে ভূমিকা রাখেন।
আজকের বাস্তবতা আমাদের নতুন করে ভাবতে বাধ্য করে। বুদ্ধিজীবী সমাজে ঐক্যের জায়গাটি ক্রমে সংকুচিত হয়েছে। পেশাভিত্তিক ও মতাদর্শিক বিভাজন প্রকট হয়েছে, যা নিঃসন্দেহে দুর্ভাগ্যজনক। এই বিভক্তি সমাজের সামগ্রিক প্রগতিশীল শক্তিকেও দুর্বল করছে।

আরও উদ্বেগজনক বিষয় হলো, আজও আমাদের সমাজে এমন শক্তি সক্রিয়, যারা ধর্মীয় বিশ্বাসকে ব্যবহার করে মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে প্রশ্নবিদ্ধ করতে চায়, জাতিবাচক পরিচয়কে আড়াল করার প্রয়াস চালায়। এটি নতুন কোনো প্রবণতা নয়; এটি পুরোনো সাম্প্রদায়িক রাজনীতিরই রূপান্তরিত প্রকাশ।
এই প্রেক্ষাপটে শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবসের তাৎপর্য অতীত স্মরণের গণ্ডি ছাড়িয়ে বর্তমান ও ভবিষ্যৎ রক্ষার প্রশ্নের সঙ্গে যুক্ত। মুক্তিযুদ্ধের আদর্শের ভিত্তিতে যদি রাষ্ট্রকে রক্ষা করতে হয়, তবে বুদ্ধিজীবী সমাজের ভূমিকা ও মর্যাদাকে বিশেষ গুরুত্ব দিয়েই বিবেচনা করতে হবে। শহীদ বুদ্ধিজীবীরা আমাদের যে পথ দেখিয়ে গেছেন– স্বাধীন চিন্তা, মানবিক মূল্যবোধ ও অসাম্প্রদায়িক রাষ্ট্রচিন্তার পথ– সেই পথেই অবিচল থাকা এবং তা নবপ্রজন্মের মধ্যে সঞ্চার করাই হবে তাদের প্রতি প্রকৃত শ্রদ্ধা।



এ পাতার আরও খবর

শ্বাসরুদ্ধকর লড়াইয়ে পাকিস্তানের বিরুদ্ধে বাংলাদেশের সিরিজ জয় শ্বাসরুদ্ধকর লড়াইয়ে পাকিস্তানের বিরুদ্ধে বাংলাদেশের সিরিজ জয়
ইরানি ‘শাহেদ’কে টেক্কা দিতে মার্কিন ‘লুকাস’ ড্রোন, ট্রাম্পের ইরানি ‘শাহেদ’কে টেক্কা দিতে মার্কিন ‘লুকাস’ ড্রোন, ট্রাম্পের
ইসরায়েলের বিভিন্ন শহরে ইরানের হামলা, বাহরাইনে বড় বিস্ফোরণ ইসরায়েলের বিভিন্ন শহরে ইরানের হামলা, বাহরাইনে বড় বিস্ফোরণ
ইরানকে গোপনে সাহায্য করছে চীন ও রাশিয়া ইরানকে গোপনে সাহায্য করছে চীন ও রাশিয়া
ইরান যুদ্ধে অংশ নিতে রওনা দিয়েছে ২,৫০০ মার্কিন স্থলসেনা ইরান যুদ্ধে অংশ নিতে রওনা দিয়েছে ২,৫০০ মার্কিন স্থলসেনা
ইরাকে মার্কিন বিমান বিধ্বস্ত, ৪ সেনার মৃত্যু ইরাকে মার্কিন বিমান বিধ্বস্ত, ৪ সেনার মৃত্যু
মার্কিন রণতরি ইউএসএস জেরাল্ড ফোর্ডে আগুন, দুই সেনা আহত মার্কিন রণতরি ইউএসএস জেরাল্ড ফোর্ডে আগুন, দুই সেনা আহত
স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকারকে শপথ পড়ালেন রাষ্ট্রপতি স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকারকে শপথ পড়ালেন রাষ্ট্রপতি
মন্ত্রী-এমপিদের মার্জিত থাকতে বললেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান মন্ত্রী-এমপিদের মার্জিত থাকতে বললেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান
নেতানিয়াহুর সঙ্গে আলোচনা করে ইরান যুদ্ধ বন্ধের সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে: ট্রাম্প নেতানিয়াহুর সঙ্গে আলোচনা করে ইরান যুদ্ধ বন্ধের সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে: ট্রাম্প

আর্কাইভ

শ্বাসরুদ্ধকর লড়াইয়ে পাকিস্তানের বিরুদ্ধে বাংলাদেশের সিরিজ জয়
ইরানি ‘শাহেদ’কে টেক্কা দিতে মার্কিন ‘লুকাস’ ড্রোন, ট্রাম্পের
ইসরায়েলের বিভিন্ন শহরে ইরানের হামলা, বাহরাইনে বড় বিস্ফোরণ
ইরানকে গোপনে সাহায্য করছে চীন ও রাশিয়া
ইরান যুদ্ধে অংশ নিতে রওনা দিয়েছে ২,৫০০ মার্কিন স্থলসেনা
ইরাকে মার্কিন বিমান বিধ্বস্ত, ৪ সেনার মৃত্যু
মার্কিন রণতরি ইউএসএস জেরাল্ড ফোর্ডে আগুন, দুই সেনা আহত
স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকারকে শপথ পড়ালেন রাষ্ট্রপতি
মন্ত্রী-এমপিদের মার্জিত থাকতে বললেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান
নেতানিয়াহুর সঙ্গে আলোচনা করে ইরান যুদ্ধ বন্ধের সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে: ট্রাম্প