শিরোনাম:
●   বাংলাদেশে অন্তর্বর্তী সরকারের সময় বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডে নিহত ৪৫ ●   সাবেক ভূমিমন্ত্রীর বিদেশে ২৯৭ বাড়ি ও ৩০ অ্যাপার্টমেন্ট জব্দের আদেশ ●   ইরানের প্রতিটি প্রতিষ্ঠানের দখল নেন: বিক্ষোভকারীদের ট্রাম্প ●   ভেনেজুয়েলায় নির্বাচন কবে, জানাল হোয়াইট হাউস ●   যুদ্ধের জন্য প্রস্তুত ইরান: আরাঘচি ●   বাংলাদেশের সীমান্তবর্তী সব বিমানঘাঁটি সচল করছে ভারত ●   শিক্ষা শুধু চাকরির জন্য নয়, সৃজনশীল ও আদর্শ মানুষ গড়ার জন্যও : প্রধান উপদেষ্টা ●   জাতিসংঘের আদালতে রোহিঙ্গা গণহত্যা মামলার শুনানি শুরু ●   আমলাতন্ত্রের কাছে নতিস্বীকার করেছে অন্তর্বর্তী সরকার: টিআইবি ●   ইসরায়েল-জার্মানি নতুন প্রতিরক্ষা চুক্তি, হঠাৎ কী কারণে
ঢাকা, বুধবার, ১৪ জানুয়ারী ২০২৬, ৩০ পৌষ ১৪৩২
BBC24 News
বুধবার, ১৪ জানুয়ারী ২০২৬
প্রথম পাতা » প্রিয়দেশ | শিরোনাম | সাবলিড » বাংলাদেশে অন্তর্বর্তী সরকারের সময় বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডে নিহত ৪৫
প্রথম পাতা » প্রিয়দেশ | শিরোনাম | সাবলিড » বাংলাদেশে অন্তর্বর্তী সরকারের সময় বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডে নিহত ৪৫
৪৬ বার পঠিত
বুধবার, ১৪ জানুয়ারী ২০২৬
Decrease Font Size Increase Font Size Email this Article Print Friendly Version

বাংলাদেশে অন্তর্বর্তী সরকারের সময় বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডে নিহত ৪৫

---বিবিসি২৪নিউজ,বিশেষ প্রতিবেদক ঢাকা:বাংলাদেশের মানবাধিকার সংগঠন আইন ও সালিশ কেন্দ্রের (আসক) হিসাবে অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে ২০২৫ সালে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর হেফাজতে বা বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের শিকার হয়েছেন ৩২ জন৷আর ২০২৪ সালের ৮ আগস্ট দায়িত্ব নেয়ার পর পরবর্তী প্রায় চার মাসে নিহত হয়েছেন ১২ জন৷

আর সোমবার দিবাগত রাত ১২টার পর সেনা হেফাজতে থাকা অবস্থায় মারা যান চুয়াডাঙ্গার জীবননগর পৌর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক সামসুজ্জামান ডাবলু৷ ফলে সবমিলিয়ে অন্তর্বর্তী সরকারের সময় বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের শিকার হয়েছেন ৪৫ জন৷
সরকার নেয়া ব্যবস্থা দৃশ্যমান নয়
মানবাধিকার কর্মী নূর খান বলেন, ‘‘এই সরকারের প্রতিশ্রুতি ছিলো যে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর হেফাজতে বা বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড বন্ধ হবে৷ আমাদের প্রত্যাশাও ছিলো তাই৷ কিন্তু আমরা কোনো পরিবর্তন দেখতে পাচ্ছি না৷ অতীতের মতোই বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড অব্যাহত আছে৷ যেটা খুবই উদ্বেগের৷’’
তিনি বলেন, ‘‘তারপরও যেসব ঘটনা ঘটেছে সে ব্যাপারে সরকার কী ব্যবস্থা নিয়েছে তা দৃশ্যমান নয়৷ আমরা কোনো দৃশ্যমান পদক্ষেপ দেখছি না৷ যারা এরসঙ্গে যুক্ত তাদের ব্যাপারে কী ব্যবস্থা নেয়া হলো তাও জানানো হচ্ছে না৷ ফলে আগের মতোই চলছে৷ একই সঙ্গে কারা হেফাজতেও মৃত্যু বাড়ছে- যা অস্বাভাবিক মনে হচ্ছে৷’’
২০২৪ সালের ৩১ ডিসেম্বর কুমিল্লায় যৌথবাহিনীর হেফাজতে যুবদল নেতা তৌহিদুল ইসলামের মৃত্যুর ঘটনা নিয়ে ব্যাপক সমালোচনা হয়৷ ওই ঘটনায় সেনাবাহিনীর ক্যাম্প কমান্ডারকে প্রত্যাহার ও সেনা আইনে ব্যবস্থার কথা বলা হয় তখন৷ প্রধান উপদেষ্টার দপ্তর থেকে তখন এক বিবৃতিতে বলা হয়, ‘‘অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বে অন্তর্বর্তী সরকার নিরাপত্তা বাহিনীর হেফাজতে যে-কোনো ধরনের নির্যাতন ও হত্যার কঠোর নিন্দা জানায়৷ জাতীয় জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে মানবাধিকারের সুরক্ষা নিশ্চিত করাই এই সরকারের অন্যতম প্রধান লক্ষ্য, যেখানে দেশের শীর্ষ মানবাধিকার কর্মীরা সরকারের উপদেষ্টা পরিষদে রয়েছেন৷’’
কিন্তু নিহত যুবদল নেতা তৌহিদুল ইসলামের ভাই আবুল কালাম মঙ্গলবার  বলেন, ‘‘আমরা পাঁচজনেরনামসহ অজ্ঞাত আসামিদের বিরুদ্ধে থানায় মামলা করলেও এখন পর্যন্ত কোনো আসামিকে গ্রেপ্তার বা কোনো ব্যবস্থা দেখতে পাচ্ছি না৷ আমরা থানায় যোগাযোগ করলে বলা হয় তদন্ত চলছে৷ তদন্ত শেষ হওয়ার আগে কারুর বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেয়া যাবে না৷ কিন্তু তারা আসলে আদৌ কোনো তদন্ত করছে কী না তাই এখন প্রশ্ন৷ আসলে প্রথমে যখন প্রতিবাদ হয়েছে তখন আমাদের নানা কথা বলা হয়েছে৷ এখন ঠাণ্ডা হয়ে যাওয়ায় আর কিছু করা হচ্ছে না৷ আমরা কোনো বিচার পাব বলে মনে হয় না৷’’
তিনি আরো বলেন, ‘‘তখন যে সেনা সদস্যদের প্রত্যাহার করা হয় তাদের বিরুদ্ধে কী ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে তাও আমাদের জানানো হয়নি৷ আদৌ কোনো ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে কী না তাও জানি না৷ আর এখন ক্যাম্পে যারা এসেছেন তারা সবাই নতুন৷ তাদের কাছে তো যাওয়াই যায় না৷’’
এ প্রসঙ্গে কুমিল্লা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তৌহিদুল আনোয়ার বলেন, ‘‘আসলে আমি নতুন এসেছি৷ শুনেছি তারা একটি মামলা করেছিলো৷ তবে এর অগ্রগতি নিয়ে আমার কিছু জানা নেই৷’’গত বছরের ১৩ জুন যৌথ বাহিনীর মাদকবিরোধী অভিযানে কিশোরগঞ্জের কটিয়াদি উপজেলায় ফিরোজা বেগম যৌথবাহিনীর হেফাজতে নিহত হন৷ তার স্বামী স্বপন মিয়াকে ধরতে ওই অভিযান হলেও সে পালিয়ে যায়৷
ফিরোজা বেগমের মেয়ে সোমা আক্তার অভিযোগ করেন, ‘‘আমার বাবা পালিয়ে গেলেও আমার মাকে আটক করে নির্যাতন করা হয়৷ পরে ক্যাম্পে নেয়া হয়৷ সেখান থেকে তাকে থানায় পাঠানো হলে থানা হেফাজতে তার মৃত্যু হয়৷ আমার মায়ের বিরুদ্ধে কোনো মামলা ছিলো না৷ তারপরও তাকে আটক করা হয়৷ নির্যাতনে আমার মায়ের মৃত্যু হয়েছে৷’’
এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘‘তখন আমরা কোনো মামলা করিনি৷ আমাদের বলা হয়েছিল তদন্ত করে ব্যবস্থা নেয়া হবে৷ মামলা করলে উল্টো ঝামেলা হবে৷ কিন্তু এখন আমরা কোনো বিচার পাচ্ছি না৷ কী তদন্ত হচ্ছে তাও জানি না৷’’
এ বিষয়ে কটিয়াদি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. মাহবুবুর রহমান বলেন, ‘‘ওই ঘটনায় অপমৃত্যুর মামলা হয়েছিলো, যা পুলিশ করেছিলো৷ ময়না তদন্ত প্রতিবেদন পাওয়া গেছে৷ তাতে বলা হয়েছে ওই নারী হার্ট অ্যাটাকে মারা গেছেন৷ নির্যাতনের কোনো ঘটনা ঘটেনি৷’’

গত বছরের ১৪ মার্চ ঢাকার ধানমন্ডির যুবলীগ (নিষিদ্ধ ঘোষিত) নেতা হেজাজ বিন আলম ওরফে এজাজকে আটক করে যৌথ বাহিনী৷ পরে তাকে মোহাম্মদপুরে একটি ডাকাতির প্রস্তুতি মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়৷ তাকে আটক অবস্থায় ব্যাপক নির্যাতন করা হয় বলে তার পরিবারের অভিযোগ৷ তার অবস্থা গুরুতর হলে তাকে জামিনে মুক্তি দিয়ে ঢাকা মেডিকেলে ভর্তি করা হয়৷ ১৬ মার্চ তিনি মারা যান৷ তার বাবা শাহ আলম ডয়চে ভেলেকে বলেন, ‘‘আমরা আর কার কাছে প্রতিকার চাইব৷ আমার ছেলের অপরাধ সে যুবলীগ করত৷ তাই তাকে ধরে নির্যাতন করে হত্যা করা হয়েছে৷ তবে সময় এলে মামলা করব৷’’
আরো কয়েকটি ঘটনায় খোঁজ নিয়ে জানা যায় হেফাজতে মৃত্যুর পর কী তদন্ত হলো বা কোনো ব্যবস্থা নেয়া হয়েছি কী না তা ভুক্তভোগীর পরিবারের সদস্যরা জানেন না৷পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড’
নিহত বিএনপি নেতা সামসুজ্জামান ডাবলুর বাড়ি জীবননগর পৌর এলাকায়৷ থানা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের সামনে তার ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ‘হাফিজা ফার্মেসি’ থেকে অপারেশন ডেভিল হান্টে নিয়োজিত সেনা সদস্যরা তাকে রাত ১০টার কিছু পরে আটক করে৷ রাত ১২ টার পর তাকে জীবননগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেয়া হলে চিকিৎসকরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন৷
ডাবলুর স্ত্রী জেসমিন নাহার হাসপাতালে সাংবাদিকদের কাছে অভিযোগ করেন, ‘‘এটি একটি পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড৷ সেনাবাহিনী তাকে ফার্মেসি থেকে তুলে নিয়ে হত্যা করেছে৷’’
আর স্থানীয় শ্রমিক নেতা শরিফুল ইসলাম খোকা সাংবাদিকদের কাছে অভিযোগ করেন, ‘‘রাত সোয়া দশটার দিকে তাকে সেনা সদস্যরা ফার্মেসি থেকে তুলে পাশেই বিএনপি অফিসে নিয়ে যায়৷ অফিসের একটি কক্ষে তাকে দুই ঘণ্টা ধরে পিটিয়ে হত্যা করা হয়৷’’
মঙ্গলবার আইএসপিআর থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে দাবি করা হয়েছে, ১২ জানুয়ারি আনুমানিক রাত ১১টায় চুয়াডাঙ্গা জেলার জীবননগর উপজেলায় সুনির্দিষ্ট গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে অবৈধ অস্ত্র উদ্ধারের লক্ষ্যে যৌথ বাহিনী একটি বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে৷ অভিযানকালে, জীবননগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স সংলগ্ন একটি ফার্মেসি থেকে অবৈধ অস্ত্র রাখার অভিযোগে মো. শামসুজ্জামান ওরফে ডাবলুকে (৫০) আটক করা হয়৷ পরবর্তীতে তার দেয়া তথ্যের ভিত্তিতে টহল দল ওই ফার্মেসিতে তল্লাশি করে একটি টি ৯ মি. মি. পিস্তল, একটি ম্যাগাজিন ও চার রাউন্ড গুলি উদ্ধার করে৷ অভিযান শেষে ওই ব্যক্তি হঠাৎ অসুস্থ হয়ে অচেতন হয়ে পড়লে তাকে দ্রুত জীবননগর উপজেলা স্বাস্থ্য স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেয়া হয়৷ পরবর্তীতে আনুমানিক রাত ১২টা ২৫ মিনিটে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন৷
আইএসপিআরের বিজ্ঞপ্তিতে আরো বলা হয়, এই ঘটনাটি অনাকাঙ্খিত, দুঃখজনক ও কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়৷ ইতোমধ্যে ওই ক্যাম্পের ক্যাম্প কমান্ডার ও অভিযানে অংশগ্রহণকারী সব সেনা সদস্যকে সেনানিবাসে প্রত্যাহার এবংপরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড’
নিহত বিএনপি নেতা সামসুজ্জামান ডাবলুর বাড়ি জীবননগর পৌর এলাকায়৷ থানা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের সামনে তার ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ‘হাফিজা ফার্মেসি’ থেকে অপারেশন ডেভিল হান্টে নিয়োজিত সেনা সদস্যরা তাকে রাত ১০টার কিছু পরে আটক করে৷ রাত ১২ টার পর তাকে জীবননগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেয়া হলে চিকিৎসকরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন৷
ডাবলুর স্ত্রী জেসমিন নাহার হাসপাতালে সাংবাদিকদের কাছে অভিযোগ করেন, ‘‘এটি একটি পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড৷ সেনাবাহিনী তাকে ফার্মেসি থেকে তুলে নিয়ে হত্যা করেছে৷’’
আর স্থানীয় শ্রমিক নেতা শরিফুল ইসলাম খোকা সাংবাদিকদের কাছে অভিযোগ করেন, ‘‘রাত সোয়া দশটার দিকে তাকে সেনা সদস্যরা ফার্মেসি থেকে তুলে পাশেই বিএনপি অফিসে নিয়ে যায়৷ অফিসের একটি কক্ষে তাকে দুই ঘণ্টা ধরে পিটিয়ে হত্যা করা হয়৷’’
মঙ্গলবার আইএসপিআর থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে দাবি করা হয়েছে, ১২ জানুয়ারি আনুমানিক রাত ১১টায় চুয়াডাঙ্গা জেলার জীবননগর উপজেলায় সুনির্দিষ্ট গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে অবৈধ অস্ত্র উদ্ধারের লক্ষ্যে যৌথ বাহিনী একটি বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে৷ অভিযানকালে, জীবননগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স সংলগ্ন একটি ফার্মেসি থেকে অবৈধ অস্ত্র রাখার অভিযোগে মো. শামসুজ্জামান ওরফে ডাবলুকে (৫০) আটক করা হয়৷ পরবর্তীতে তার দেয়া তথ্যের ভিত্তিতে টহল দল ওই ফার্মেসিতে তল্লাশি করে একটি টি ৯ মি. মি. পিস্তল, একটি ম্যাগাজিন ও চার রাউন্ড গুলি উদ্ধার করে৷ অভিযান শেষে ওই ব্যক্তি হঠাৎ অসুস্থ হয়ে অচেতন হয়ে পড়লে তাকে দ্রুত জীবননগর উপজেলা স্বাস্থ্য স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেয়া হয়৷ পরবর্তীতে আনুমানিক রাত ১২টা ২৫ মিনিটে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন৷
আইএসপিআরের বিজ্ঞপ্তিতে আরো বলা হয়, এই ঘটনাটি অনাকাঙ্খিত, দুঃখজনক ও কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়৷ ইতোমধ্যে ওই ক্যাম্পের ক্যাম্প কমান্ডার ও অভিযানে অংশগ্রহণকারী সব সেনা সদস্যকে সেনানিবাসে প্রত্যাহার এবংপরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড’
নিহত বিএনপি নেতা সামসুজ্জামান ডাবলুর বাড়ি জীবননগর পৌর এলাকায়৷ থানা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের সামনে তার ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ‘হাফিজা ফার্মেসি’ থেকে অপারেশন ডেভিল হান্টে নিয়োজিত সেনা সদস্যরা তাকে রাত ১০টার কিছু পরে আটক করে৷ রাত ১২ টার পর তাকে জীবননগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেয়া হলে চিকিৎসকরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন৷
ডাবলুর স্ত্রী জেসমিন নাহার হাসপাতালে সাংবাদিকদের কাছে অভিযোগ করেন, ‘‘এটি একটি পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড৷ সেনাবাহিনী তাকে ফার্মেসি থেকে তুলে নিয়ে হত্যা করেছে৷’’
আর স্থানীয় শ্রমিক নেতা শরিফুল ইসলাম খোকা সাংবাদিকদের কাছে অভিযোগ করেন, ‘‘রাত সোয়া দশটার দিকে তাকে সেনা সদস্যরা ফার্মেসি থেকে তুলে পাশেই বিএনপি অফিসে নিয়ে যায়৷ অফিসের একটি কক্ষে তাকে দুই ঘণ্টা ধরে পিটিয়ে হত্যা করা হয়৷’’
মঙ্গলবার আইএসপিআর থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে দাবি করা হয়েছে, ১২ জানুয়ারি আনুমানিক রাত ১১টায় চুয়াডাঙ্গা জেলার জীবননগর উপজেলায় সুনির্দিষ্ট গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে অবৈধ অস্ত্র উদ্ধারের লক্ষ্যে যৌথ বাহিনী একটি বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে৷ অভিযানকালে, জীবননগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স সংলগ্ন একটি ফার্মেসি থেকে অবৈধ অস্ত্র রাখার অভিযোগে মো. শামসুজ্জামান ওরফে ডাবলুকে (৫০) আটক করা হয়৷ পরবর্তীতে তার দেয়া তথ্যের ভিত্তিতে টহল দল ওই ফার্মেসিতে তল্লাশি করে একটি টি ৯ মি. মি. পিস্তল, একটি ম্যাগাজিন ও চার রাউন্ড গুলি উদ্ধার করে৷ অভিযান শেষে ওই ব্যক্তি হঠাৎ অসুস্থ হয়ে অচেতন হয়ে পড়লে তাকে দ্রুত জীবননগর উপজেলা স্বাস্থ্য স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেয়া হয়৷ পরবর্তীতে আনুমানিক রাত ১২টা ২৫ মিনিটে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন৷
আইএসপিআরের বিজ্ঞপ্তিতে আরো বলা হয়, এই ঘটনাটি অনাকাঙ্খিত, দুঃখজনক ও কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়৷ ইতোমধ্যে ওই ক্যাম্পের ক্যাম্প কমান্ডার ও অভিযানে অংশগ্রহণকারী সব সেনা সদস্যকে সেনানিবাসে প্রত্যাহার এবংপরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড’
নিহত বিএনপি নেতা সামসুজ্জামান ডাবলুর বাড়ি জীবননগর পৌর এলাকায়৷ থানা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের সামনে তার ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ‘হাফিজা ফার্মেসি’ থেকে অপারেশন ডেভিল হান্টে নিয়োজিত সেনা সদস্যরা তাকে রাত ১০টার কিছু পরে আটক করে৷ রাত ১২ টার পর তাকে জীবননগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেয়া হলে চিকিৎসকরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন৷
ডাবলুর স্ত্রী জেসমিন নাহার হাসপাতালে সাংবাদিকদের কাছে অভিযোগ করেন, ‘‘এটি একটি পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড৷ সেনাবাহিনী তাকে ফার্মেসি থেকে তুলে নিয়ে হত্যা করেছে৷’’
আর স্থানীয় শ্রমিক নেতা শরিফুল ইসলাম খোকা সাংবাদিকদের কাছে অভিযোগ করেন, ‘‘রাত সোয়া দশটার দিকে তাকে সেনা সদস্যরা ফার্মেসি থেকে তুলে পাশেই বিএনপি অফিসে নিয়ে যায়৷ অফিসের একটি কক্ষে তাকে দুই ঘণ্টা ধরে পিটিয়ে হত্যা করা হয়৷’’
মঙ্গলবার আইএসপিআর থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে দাবি করা হয়েছে, ১২ জানুয়ারি আনুমানিক রাত ১১টায় চুয়াডাঙ্গা জেলার জীবননগর উপজেলায় সুনির্দিষ্ট গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে অবৈধ অস্ত্র উদ্ধারের লক্ষ্যে যৌথ বাহিনী একটি বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে৷ অভিযানকালে, জীবননগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স সংলগ্ন একটি ফার্মেসি থেকে অবৈধ অস্ত্র রাখার অভিযোগে মো. শামসুজ্জামান ওরফে ডাবলুকে (৫০) আটক করা হয়৷ পরবর্তীতে তার দেয়া তথ্যের ভিত্তিতে টহল দল ওই ফার্মেসিতে তল্লাশি করে একটি টি ৯ মি. মি. পিস্তল, একটি ম্যাগাজিন ও চার রাউন্ড গুলি উদ্ধার করে৷ অভিযান শেষে ওই ব্যক্তি হঠাৎ অসুস্থ হয়ে অচেতন হয়ে পড়লে তাকে দ্রুত জীবননগর উপজেলা স্বাস্থ্য স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেয়া হয়৷ পরবর্তীতে আনুমানিক রাত ১২টা ২৫ মিনিটে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন৷
আইএসপিআরের বিজ্ঞপ্তিতে আরো বলা হয়, এই ঘটনাটি অনাকাঙ্খিত, দুঃখজনক ও কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়৷ ইতোমধ্যে ওই ক্যাম্পের ক্যাম্প কমান্ডার ও অভিযানে অংশগ্রহণকারী সব সেনা সদস্যকে সেনানিবাসে প্রত্যাহার এবংসঠিক কারণ উদঘাটনের উদ্দেশ্যে একটি উচ্চ পর্যায়ের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে৷ তদন্তে দোষী সাব্যস্ত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে সেনা আইন অনুযায়ী যথাযথ আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে৷
তবে নিহত ডাবলুর বড় ভাই শরিফুল ইসলাম কাজল ডয়চে ভেলেকে বলেন, ‘‘আমার ভাইকে পিটিয়ে হত্যা করা হয়েছে৷ এখন অস্ত্র উদ্ধারের নাটক সাজানো হচ্ছে৷’’
তিনি বলেন, ‘‘সেনা সদস্যরা তাকে চরম নির্যাতনের পর হাসপাতালে ফেলে রেখে চলে যায়৷ কিন্তু চিকিৎসকেরা আমার ভাইকে যখন মৃত অবস্থায় পাওয়ার কথা বলেন তখন আবার সেনা সদস্যরা ফিরে আসেন৷ তারা পরিস্থিতি ভিন্নখাতে নিতে অস্ত্র উদ্ধারের নাটক সাজায়৷ তারা পুরনো জং ধরা অস্ত্র নিজেরাই এনে উদ্ধার করা হয়েছে বলে বিবৃতি দেয়৷ ওই অস্ত্র দিয়ে ফায়ার হয় না৷’’
ডাবলুর ভাই কাজল আরো জানান, ‘‘তাকে তার ফার্মেসি থেকে তুলে নিয়ে পাশেই বিএনপি অফিসের একটি কক্ষে জিজ্ঞাসাবাদের নামে পিটিয়ে হত্যা করা হয়৷ আমার ভাই রাজনীতি করেন, কিন্তু খুবই নিরীহ৷ এলাকার সবাই তাকে ভালো জানেন৷ তার বিরুদ্ধে গত সরকারের আমলে দায়ের করা কিছু গায়েবি মামলা আছে৷ তাকে ষড়যন্ত্রমূলকভাবে হত্যা করা হয়েছে৷ আমরা এর বিচার চাই৷’’
এই ঘটনায় কোনো পক্ষই এখনো থানায় কোনো মামলা করেনি৷ কাজল জানান, ‘‘আমরা সবার সাথে কথা বলে মামলার সিদ্ধান্ত নেব৷’’ এই প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত (মঙ্গলবার সন্ধ্যা ৬টা) ময়নাতদন্ত শেষ করে নিহতের মরদেহ তার পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়নি৷
জীবননগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সোলায়মান শেখ জানান, ‘‘ডাবলুকে যৌথবাহিনী আটক করেনি৷ এই অভিযানে কোনো পুলিশ ছিলো না৷ আমাদের জানানোও হয়নি৷ এটা সেনবাহিনীর একক অভিযান৷ আমরা কিছু জানি না৷ আর তার বিরুদ্ধে কোনো মামলা আছে কী না তাও আমাদের জানা নেই৷’’এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘‘কোনো পক্ষ থেকেই থানায় এখনো কোনো মামলা করা হয়নি৷ আমাদের কাছে সেনা ক্যাম্প থেকে কোনো জব্দ তালিকাও পাঠানো হয়নি৷’’
মানবাধিকার কর্মী নূর খান বলেন, ‘‘সর্বশেষ জীবননগরের ঘটনায় অভিযানে কোনো পুলিশ ছিলো না৷ কিন্তু যৌথ অভিযানে কমপক্ষে একজন পুলিশ সদস্য থাকতে হবে৷ কিন্তু আমরা জেনেছি ওই অভিযানে কোনো পুলিশ সদস্য ছিলো না- যা আইনের লঙ্ঘন৷ এভাবে অভিযান চলতে পারে না৷’’
নিন্দা ও বিচার দাবি
বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এই বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত সকল সেনা সদস্যের বিচার দাবি করেছেন৷ এক বিবৃতিতে তিনি বলেন, ‘‘নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যদের দ্বারা বিচারবহির্ভূতভাবে চুয়াডাঙ্গার জীবননগর পৌর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক শামসুজ্জামান ডাবলুকে নির্যাতন করে হত্যার ঘটনা দেশের জন্য শুভ নয়৷’’
সেনা হেফাজতে বিএনপি নেতার মৃত্যুর ঘটনায় নিন্দা জানিয়ে নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়েছে আইন ও সালিশ কেন্দ্র (আসক)৷ এক বিবৃতিতে তারা বলেছে, বাংলাদেশের সংবিধানের ৩১ ও ৩২ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী প্রত্যেক নাগরিকের জীবন ও ব্যক্তিস্বাধীনতার অধিকার নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের মৌলিক দায়িত্ব৷ পাশাপাশি নির্যাতন ও হেফাজতে মৃত্যু (নিবারণ) আইনে স্পষ্টভাবে নির্যাতন, নিষ্ঠুর, অমানবিক ও অবমাননাকর আচরণ নিষিদ্ধ করেছে এবং হেফাজতে নির্যাতন বা মৃত্যুর মত ঘটনায় দায়ী ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে শাস্তির বিধান আছে৷
আসক জীবননগরের ঘটনাকে গুরুতর মানবাধিকার লঙ্ঘন হিসেবে দেখছে৷ তারা বলছে, রাষ্ট্রীয় হেফাজতে কোনো ব্যক্তির মৃত্যু শুধু একটি পরিবারের জন্য নয়, বরং সংবিধান, আইনের শাসন এবং মানবাধিকারের প্রতি রাষ্ট্রের দায়বদ্ধতার ওপর সরাসরি আঘাত৷ বিচারবহির্ভূত হত্যা নিয়ে কথা বলতে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরীকে ফোন করেও পাওয়া যায়নি৷ তার ফোনে এসএমএস পাঠিয়েও কোনো জবাব পাওয়া যায়নি৷



এ পাতার আরও খবর

সাবেক ভূমিমন্ত্রীর বিদেশে ২৯৭ বাড়ি ও ৩০ অ্যাপার্টমেন্ট জব্দের আদেশ সাবেক ভূমিমন্ত্রীর বিদেশে ২৯৭ বাড়ি ও ৩০ অ্যাপার্টমেন্ট জব্দের আদেশ
ইরানের প্রতিটি প্রতিষ্ঠানের দখল নেন: বিক্ষোভকারীদের ট্রাম্প ইরানের প্রতিটি প্রতিষ্ঠানের দখল নেন: বিক্ষোভকারীদের ট্রাম্প
বাংলাদেশের সীমান্তবর্তী সব বিমানঘাঁটি সচল করছে ভারত বাংলাদেশের সীমান্তবর্তী সব বিমানঘাঁটি সচল করছে ভারত
জাতিসংঘের আদালতে রোহিঙ্গা গণহত্যা মামলার শুনানি শুরু জাতিসংঘের আদালতে রোহিঙ্গা গণহত্যা মামলার শুনানি শুরু
আমলাতন্ত্রের কাছে নতিস্বীকার করেছে অন্তর্বর্তী সরকার: টিআইবি আমলাতন্ত্রের কাছে নতিস্বীকার করেছে অন্তর্বর্তী সরকার: টিআইবি
ইসরায়েল-জার্মানি নতুন প্রতিরক্ষা চুক্তি, হঠাৎ কী কারণে ইসরায়েল-জার্মানি নতুন প্রতিরক্ষা চুক্তি, হঠাৎ কী কারণে
ইরানের পরিস্থিতি ‘সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে’, সামরিক হস্তক্ষেপের অজুহাত খুঁজছেন ট্রাম্প: পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইরানের পরিস্থিতি ‘সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে’, সামরিক হস্তক্ষেপের অজুহাত খুঁজছেন ট্রাম্প: পররাষ্ট্রমন্ত্রী
বিক্ষোভকারীদের ‘আল্লাহর শত্রু’ ইরানের শত্রু, মৃত্যুদণ্ডের হুঁশিয়ারি বিক্ষোভকারীদের ‘আল্লাহর শত্রু’ ইরানের শত্রু, মৃত্যুদণ্ডের হুঁশিয়ারি
ইসরায়েলের বিরুদ্ধে বাংলাদেশের নিন্দা,ওআইসির রাষ্ট্র গুলোর সার্বভৌমত্ব নিয়ে কোনো আপস নয়:পররাষ্ট্র উপদেষ্টা ইসরায়েলের বিরুদ্ধে বাংলাদেশের নিন্দা,ওআইসির রাষ্ট্র গুলোর সার্বভৌমত্ব নিয়ে কোনো আপস নয়:পররাষ্ট্র উপদেষ্টা

আর্কাইভ

বাংলাদেশে অন্তর্বর্তী সরকারের সময় বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডে নিহত ৪৫
সাবেক ভূমিমন্ত্রীর বিদেশে ২৯৭ বাড়ি ও ৩০ অ্যাপার্টমেন্ট জব্দের আদেশ
ইরানের প্রতিটি প্রতিষ্ঠানের দখল নেন: বিক্ষোভকারীদের ট্রাম্প
বাংলাদেশের সীমান্তবর্তী সব বিমানঘাঁটি সচল করছে ভারত
জাতিসংঘের আদালতে রোহিঙ্গা গণহত্যা মামলার শুনানি শুরু
আমলাতন্ত্রের কাছে নতিস্বীকার করেছে অন্তর্বর্তী সরকার: টিআইবি
ইসরায়েল-জার্মানি নতুন প্রতিরক্ষা চুক্তি, হঠাৎ কী কারণে
ইরানের পরিস্থিতি ‘সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে’, সামরিক হস্তক্ষেপের অজুহাত খুঁজছেন ট্রাম্প: পররাষ্ট্রমন্ত্রী
বিক্ষোভকারীদের ‘আল্লাহর শত্রু’ ইরানের শত্রু, মৃত্যুদণ্ডের হুঁশিয়ারি
ইসরায়েলের বিরুদ্ধে বাংলাদেশের নিন্দা,ওআইসির রাষ্ট্র গুলোর সার্বভৌমত্ব নিয়ে কোনো আপস নয়:পররাষ্ট্র উপদেষ্টা