বৃহস্পতিবার, ৫ মার্চ ২০২৬
প্রথম পাতা » আর্ন্তজাতিক | ইউরোপ | শিরোনাম | সাবলিড » ইরান নয়, সাইপ্রাসের ব্রিটিশ ঘাঁটিতে ড্রোন হামলা চালিয়েছে ইসরায়েল
ইরান নয়, সাইপ্রাসের ব্রিটিশ ঘাঁটিতে ড্রোন হামলা চালিয়েছে ইসরায়েল
বিবিসি২৪নিউজ, আন্তর্জাতিক ডেস্ক: সাইপ্রাসে অবস্থিত ব্রিটিশ রয়্যাল এয়ারফোর্সের (আরএএফ) আক্রোতীরি ঘাঁটিতে রোববার (১ মার্চ) আঘাত হানা ড্রোনটি সরাসরি ইরান থেকে উৎক্ষেপণ করা হয়নি বলে নিশ্চিত করেছে যুক্তরাজ্যের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় (এমওডি)।
প্রাথমিকভাবে অনেকেই এই হামলার পেছনে সরাসরি ইরানের হাত রয়েছে বলে ধারণা করলেও ব্রিটিশ গোয়েন্দাদের তদন্তে ভিন্ন তথ্য উঠে এসেছে। প্রতিরক্ষা গোয়েন্দা সংস্থা নিশ্চিত করেছে, ড্রোনটির ধরন ও পাল্লা বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে এটি ইরান থেকে আসেনি। তবে ড্রোনটি ঠিক কোথা থেকে উৎক্ষেপণ করা হয়েছিল এবং এর পেছনে সুনির্দিষ্টভাবে কারা দায়ী, তা নিয়ে এখনো নিশ্চিত কোনো তথ্য দেয়নি যুক্তরাজ্য।
ব্রিটিশ প্রতিরক্ষা কর্মকর্তাদের মতে, রোববার একটি ‘শাহেদ’ সদৃশ ড্রোন রাডার এড়াতে অত্যন্ত নিচ দিয়ে উড়ে এসে আক্রোতীরি ঘাঁটির একটি হ্যাঙ্গারে আঘাত হানে এবং সেখানে অগ্নিকাণ্ডের সৃষ্টি হয়। ওই হ্যাঙ্গারটি মূলত আমেরিকান ইউ-টু স্পাই প্লেন বা গোয়েন্দা বিমানের রক্ষণাবেক্ষণের জন্য ব্যবহৃত হতো।
যুক্তরাজ্যের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, এই ঘটনায় কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি এবং হ্যাঙ্গারের ভেতরে থাকা কোনো সামরিক সরঞ্জামেরও ক্ষতি হয়নি। প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার পার্লামেন্টে জানিয়েছেন, তিনি ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র সাইটগুলোতে আক্রমণের জন্য ব্রিটিশ ঘাঁটি ব্যবহারের অনুমতি দেওয়ার ঘোষণা দেওয়ার আগেই এই ড্রোনটি উৎক্ষেপণ করা হয়েছিল।এই ড্রোন হামলার ঘটনাকে কেন্দ্র করে যুক্তরাজ্য ও সাইপ্রাস সরকারের মধ্যে তীব্র কূটনৈতিক উত্তেজনা দেখা দিয়েছে। সাইপ্রাস সরকার অভিযোগ করেছে, ড্রোনটি ঘাঁটিতে আঘাত হানার আগে ব্রিটিশ কর্তৃপক্ষ স্থানীয় বাসিন্দাদের কোনো আগাম সতর্কতা দিতে ব্যর্থ হয়েছে। সাইপ্রাসের প্রেসিডেন্টের মুখপাত্র কনস্টান্টিনোস লেটিম্বিওটিস এই অব্যবস্থাপনায় গভীর অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন।
এ ছাড়া লন্ডনে নিযুক্ত সাইপ্রাসের হাই কমিশনার কিরিয়াকোস কৌরস বলেছেন, স্থানীয় মানুষ এই ঘটনায় আতঙ্কিত ও হতাশ এবং তারা ব্রিটেনের কাছে আরও দায়িত্বশীল আচরণ প্রত্যাশা করেছিল। পরিস্থিতি শান্ত করতে ব্রিটিশ প্রতিরক্ষা সচিব জন হিলি বুধবার সাইপ্রাস সফরে যান এবং বৃহস্পতিবার সকালে তার সাইপ্রাসীয় সমকক্ষের সঙ্গে বৈঠক করেন।
আক্রোতীরি ঘাঁটির নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এবং সংঘাত এড়াতে ফ্রান্স ও গ্রিস ইতিমধ্যে সাইপ্রাসে এফ-১৬ যুদ্ধবিমান এবং ড্রোন বিধ্বংসী প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা মোতায়েন করেছে। ব্রিটেনও একটি রয়্যাল নেভি ডেস্ট্রয়ার পাঠিয়েছে যা আগামী সপ্তাহে সেখানে পৌঁছানোর কথা রয়েছে।
উল্লেখ্য, এই আক্রোতীরি ঘাঁটি থেকে ইসরায়েল-গাজা যুদ্ধের সময় শত শত নজরদারি ফ্লাইট পরিচালনা করা হয়েছিল। যদিও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ইরানের ওপর হামলার জন্য এই ঘাঁটি ব্যবহার করবে কি না তা এখনো অস্পষ্ট, তবে সামরিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন যে ভারত মহাসাগরের দিয়েগো গার্সিয়া ঘাঁটিটিই এ ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্রের মূল পছন্দ হতে পারে।
বিশ্লেষকেরা মনে করছেন, সৌদি তেল শোধনাগারে হামলার মতো ব্রিটিশ এই ঘাঁটিতে হামলা চালাতে পারে ইসরায়েল।




ইরানের পরবর্তী নেতা নির্বাচনে আমাকে যুক্ত থাকতে হবে: ট্রাম্প
যুদ্ধে ইরানের নতুন কৌশলে যুক্তরাষ্ট্র কি ফাঁদে পড়ল
ইরানের হামলায় হতাহত ৬৫০ মার্কিন সেনা, পালিয়েছে রণতরী আব্রাহাম লিঙ্কন
বৃটিশ প্রধানমন্ত্রী স্টারমার আগের মতো নেই: ট্রাম্প
হোয়াইট হাউসে ট্রাম্পের সঙ্গে জার্মান চ্যান্সেলরের বৈঠক
সংঘাত বন্ধের আহ্বান ইইউ প্রধানের
ইরানের সঙ্গে সংঘাতে ‘জড়াবে না’ নেটো: মহাসচিব
ইরান যুদ্ধে যোগ দেবে না যুক্তরাজ্য: স্টারমার
ইরানের সার্বভৌমত্ব রক্ষায় পাশে থাকবে চীন: পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াং ই 