বৃহস্পতিবার, ২ এপ্রিল ২০২৬
প্রথম পাতা » আর্ন্তজাতিক | ইউরোপ | পরিবেশ ও জলবায়ু | শিরোনাম » হরমুজ প্রণালি বলপ্রয়োগে খোলা বাস্তবসম্মত নয়: মাক্রোঁ, উপসাগরে আটকা ২১৯০ নৌযান
হরমুজ প্রণালি বলপ্রয়োগে খোলা বাস্তবসম্মত নয়: মাক্রোঁ, উপসাগরে আটকা ২১৯০ নৌযান
বিবিসি২৪নিউজ,আন্তর্জাতিক ডেস্ক: মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প হরমুজ প্রণালি খুলতে মিত্রদের এগিয়ে আসার আহ্বান জানানোর পর ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল মাক্রোঁ বলেছেন, জোর করে হরমুজ প্রণালি খোলার লক্ষ্যে সামরিক অভিযান চালানো বাস্তবসম্মত হবে না।
“অনেকে সামরিক পদক্ষেপের সাহায্যে জোরজবরদস্তির মাধ্যমে হরমুজ প্রণালি মুক্ত করার চিন্তাভাবনার পক্ষে অবস্থান নিচ্ছে, মাঝে মাঝে যুক্তরাষ্ট্রও একইরকম অবস্থানও নিচ্ছে বলে মনে হয়, যদিও তাদের অবস্থান সময়ের সঙ্গে সঙ্গে বদলেছে।
“এটা কখনোই আমাদের পছন্দ হতে পারে না, কারণ এটা অবাস্তব। এভাবে হরমুজ খুলতে আজীবন লেগে যাবে, যারা ওই প্রণালিটি পাড়ি দিতে চাইবে তাদেরকে কেবল আইআরজিসি নয়, ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রের ঝুঁকিতেও পড়তে হবে,” দক্ষিণ আফ্রিকা সফরকালে বৃহস্পতিবার মাক্রোঁ সাংবাদিকদের এসব বলেন বলে জানিয়েছে বার্তা সংস্থা রয়টার্স।
হরমুজ খুলতে ৩৫ দেশের বৈঠক ডেকেছে যুক্তরাজ্য
হরমুজ প্রণালি খোলার পথ বের করার লক্ষ্যে একটি জোট গঠনে বৃহস্পতিবার বৈঠকের আয়োজন করেছে যুক্তরাজ্য।
ইরানলাগোয়া সঙ্কীর্ণ জলসীমাটিতে নৌচলাচল নিরাপদ রাখার দায়িত্ব অন্য দেশগুলোর—ট্রাম্পের এমন মন্তব্যের পর লন্ডন এ বৈঠক ডাকে।
ব্রিটিশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইভেট কুপারের সভাপতিত্বে স্থানীয় সময় দুপুরে হতে যাওয়া ভার্চুয়াল এ সভায় ফ্রান্স, জার্মানি, ইতালি, কানাডা, সংযুক্ত আরব আমিরাতসহ প্রায় ৩৫টি দেশের প্রতিনিধিদের উপস্থিত থাকার কথা। যুক্তরাষ্ট্রের এ বৈঠকে থাকছে না বলেই জানা গেছে।
২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানে হামলা শুরু করার পর তেহরান হরমুজ প্রণালি কার্যত বন্ধ করে দিয়েছে। এখন তাদের অনুমতি ছাড়া কোনো নৌযানই প্রণালিটি টপকাতে পারছে না।
যুদ্ধের আগে বিশ্বের তেল-গ্যাস সরবরাহের এক-পঞ্চমাংশ যে জলপথ দিয়ে যেত সেটি অবরুদ্ধ হয়ে পড়ায় বিশ্বজুড়ে জ্বালানির দামও ক্রমশ বাড়ছে, যে কারণে অনেক দেশই হরমুজ খোলাকে তার অগ্রাধিকার তালিকায় নিতে বাধ্য হয়েছে।
যুদ্ধবিরতিতে পৌঁছানোর পর আগের মতো অবাধ নৌচলাচল নিশ্চিতে ‘সম্ভাব্য কী কী রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক ব্যবস্থা’ নেওয়া যায় বৃহস্পতিবারের বৈঠকে তা যাচাই-বাছাই করা হবে, বুধবার এমনটাই বলেছেন ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার।
যুদ্ধের শুরুতেই ট্রাম্প হরমুজে যুদ্ধজাহাজ পাঠাতে ইউরোপীয় মিত্রদের অনুরোধ করেছিলেন, কিন্তু তাতে সাড়া মেলেনি। এখন জ্বালানির বাড়তি দাম দেখে অনেক দেশই কূটনৈতিক পথসহ নানান পথ অবলম্বন করার কথা ভাবছে, বলেছে রয়টার্স।
এক ইউরোপীয় কর্মকর্তা বলেছেন, হরমুজ খোলার কোনো পরিকল্পনার প্রথম ধাপে ওই জলপথ থেকে মাইন সরানোর প্রসঙ্গ আসবে, পরের ধাপে আসবে ট্যাংকারগুলোকে পাহারা দিয়ে নিয়ে যাওয়ার কথা।
স্টারমার বলেছেন, সঙ্কীর্ণ ওই জলসীমাটি খোলা ‘মোটেও সহজ হবে না’, এজন্য নৌযান সংশ্লিষ্ট খাতের সঙ্গে কাজ করার পাশাপাশি ‘সামরিক শক্তি ও কূটনৈতিক কর্মকাণ্ডের একটি যৌথ ফ্রন্টের’ প্রয়োজন পড়বে।
ট্রাম্প এর আগে বুধবার বলেছিলেন, যেসব দেশ হরমুজ প্রণালি ব্যবহার করে তাদের উচিত ‘দেরিতে হলেও সাহস সঞ্চার করা’ এবং ‘সেটি ছিনিয়ে নেওয়া’।
“নিয়ে নাও, সুরক্ষা দাও, নিজেদের কাজে লাগাও,” বলেছিলেন তিনি। যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের চাপিয়ে দেওয়া যুদ্ধের প্রতিক্রিয়ায় ইরান হরমুজ প্রণালি কার্যত অবরুদ্ধ করে রাখায় আরব উপসাগরে অন্তত ২ হাজার ১৯০টি বাণিজ্যিক নৌযান আটকা পড়েছে।
এসব নৌযানের মধ্যে ৩২০টির বেশি তেল ও গ্যাসবাহী ট্যাংকারও আছে বলে সমুদ্রে যান চলাচল বিষয়ক সর্বশেষ তথ্যের বরাত দিয়ে জানিয়েছে আরব নিউজ।
ইরানের বাধায় বিশ্বে তেল-গ্যাস সরবরাহের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জলপথ দিয়ে খুবই সীমিত আকারে জাহাজ চলাচলের সুযোগ পাচ্ছে, বলেছে রিয়াদভিত্তিক সংবাদমাধ্যমটি।
আটকা পড়া নৌযানগুলোর মধ্যে বিশাল আকারের ১২টি গ্যাসবাহী ও ৫০টি তেলবাহী ট্যাংকার আছে।
মঙ্গল ও বুধবার কেবল ছয়টি জাহাজ হরমুজ প্রণালি পার হতে পেরেছে বলে জানিয়েছে সমুদ্রে যান চলাচলের খোঁজখবর রাখা প্রতিষ্ঠান কেপলার।
২৮ ফেব্রুয়ারি যুদ্ধ শুরুর আগে এই জলপথ দিয়ে প্রতিদিন গড়ে ১২০টি মতো নৌযান চলাচল করতো।
যেসব নৌযান হরমুজ পার হয়েছে সেগুলো ইরানের কাছ থেকে অনুমোদন নিয়ে তাদের উপকূলের কাছে লারাক দ্বীপের কাছ দিয়ে যাওয়ার সুযোগ পেয়েছে।
গত সপ্তাহ থেকে অন্তত ৪৮টি নৌযান এ পথ ব্যবহারের সুযোগ পেয়েছে বলে জানিয়েছে জাহাজ চলাচল বিষয়ক তথ্যদাতা লয়েড’স লিস্ট। ইরানের সংশ্লিষ্টতা আছে এমন জাহাজ, কিংবা যেসব দেশের সঙ্গে তেহরানের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক রয়েছে তাদের জাহাজকে ওই পথ দিয়ে যেতে দেওয়া হয়েছে।
২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানে হামলা শুরুর করার পর তেহরান বিশ্বের তেল-গ্যাসের অন্তত এক পঞ্চমাংশ সরবরাহের পথ হরমুজ আটকে দেয়। কিছু কিছু জাহাজ মালিককে ওই সঙ্কীর্ণ জলসীমা দিয়ে নৌযান বের করতে ২০ লাখ ডলার পর্যন্ত ফি দিতে হচ্ছে বলে খবর বেরিয়েছে। তবে ইরান মালয়েশিয়ার মতো ‘বন্ধু দেশগুলোর’ ক্ষেত্রে এ ফি না নেওয়ারও আভাস দিয়ে রেখেছে।
মালয়েশিয়ার কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, পেট্রোনাস, সাপুরা এনার্জি ও এমআইএসসি-র মতো কোম্পানির মালিকানাধীন একাধিক ট্যাংকার হরমুজ পাড়ির ছাড়পত্র পাওয়ার অপেক্ষায় রয়েছে। এদিকে তেহরান কুয়ালা লামপুরকে আশ্বস্ত করে বলেছে, শক্তিশালী দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের কারণে তারা মালয়েশিয়ার কোনো নৌযান থেকে ফি নেবে না।
তবে ছাড়পত্রের অপেক্ষা ও নোঙর করে রাখা বিপুল সংখ্যক নৌযানের কারণে মালয়েশিয়ার জাহাজগুলোর হরমুজ পার হওয়ায় দেরি হতে পারে বলে কর্মকর্তারা সতর্কও করেছেন।
চীন জানিয়েছে, ‘সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর’ সঙ্গে সমন্বয়ের পর তাদের অন্তত তিনটি নৌযান সম্প্রতি হরমুজ পার হয়েছে। সৌদি আরবের অপরিশোধিত তেল ভারতে নিয়ে যাওয়া একটি গ্রিস-পরিচালিত ট্যাংকার ও একাধিক ভারতীয় পতাকাবাহী এলএনজি ক্যারিয়ারকেও হরমুজ পার হতে দিয়েছে ইরান।
তেহরানের ছাড়পত্র পাওয়ার পরও মাইন, ক্ষেপণাস্ত্র কিংবা ড্রোন হামলার ঝুঁকি এড়াতে নৌযানগুলোকে রাতে যাত্রা বা শনাক্তকারী ডিভাইস অকার্যকর করে রাখার মতো ব্যবস্থা নিতে হয়।
এদিকে সৌদি আরব ও কাতারের মতো বড় বড় উৎপাদকদের জ্বালানি রপ্তানিও কার্যত বন্ধ হয়ে আছে। এ কারণেও কয়েকশ নৌযান ও আনুমানিক ২০ হাজারের মতো নাবিক উপসাগরীয় এলাকা ও এর আশপাশে আটকা পড়েছেন।
হরমুজ পাড়ি দেওয়া পাকিস্তানের একটি নৌযান বুধবার তেল নিয়ে তাদের দক্ষিণের বন্দর করাচিতে পৌঁছেছে বলে জানিয়েছে আরব নিউজ। অন্যপথে আরেকটি নৌযানও বন্দরে পৌঁছেছে। আসছে সপ্তাহগুলোতে আরও কিছু চালান পাকিস্তানে পৌঁছাবে বলে দেশটির কর্মকর্তারা আশ্বস্তও করেছেন।
অবরুদ্ধ হরমুজ খুলতে বিশ্বজুড়ে কূটনৈতিক তৎপরতাও বেড়েছে। যুক্তরাজ্য হরমুজে অবাধ নৌচলাচল নিশ্চিতের পথ বের করতে প্রায় ৩৫টি দেশের সঙ্গে বৈঠকে বসছে। চীন ও পাকিস্তান যৌথভাবে যত দ্রুত সম্ভব যুদ্ধবিরতি চেয়েছে এবং বাণিজ্যিক জাহাজের নিরাপদ চলাচল নিশ্চিতে সব পক্ষের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প বুধবার তেহরানকে হুঁশিয়ার করে বলেছেন, হরমুজে অবরোধ তোলাসহ ইরান যদি তার সব দাবি না মানে তাহলে ওয়াশিংটন ভয়াবহ সামরিক পদক্ষেপ নেওয়া শুরু করবে।




ওয়াশিংটন সম্পূর্ণ প্রস্তুত, উপযুক্ত সময়ে শেষ করে দেওয়া হবে ইরানকে: ট্রাম্প
হরমুজ সম্পুর্ণ ইরানের নিয়ন্ত্রণে, টোল দিতে হবে ইরানি রিয়ালে
কোন ঐকমত্যে পৌঁছাতে পারেনি যুক্তরাষ্ট্র-ইরান, কূটনৈতিক পথে ‘আলোচনা দরজা খোলা।
শাহবাজ শরিফ ও জেডি ভ্যান্স বৈঠক
ইসলামাবাদে আলোচনার মধ্যেই সুখবর পেল ইরান
পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজের সঙ্গে বৈঠক করল ইরানি প্রতিনিধিদল
৪০০০০ কিলোমিটার গতি, ২৭০০ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা : শেষ দিনে নভোচারীদের শ্বাসরুদ্ধকর অভিজ্ঞতা
যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সংলাপ: সর্বোচ্চ সতর্কতায় ইসলামাবাদ
মধ্যপ্রাচ্যে শান্তি চায় না ইসরায়েল,চিরস্থায়ী যুদ্ধের’ ছক তৈরি নেতানিয়াহু সরকারের
ইরানের হামলায় উপসাগরীয় অঞ্চলে মার্কিন ঘাঁটিগুলো এখন ‘অকার্যকর’ 