শিরোনাম:
●   ইরান যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের ব্যয় ২৫০০ কোটি ডলার: পেন্টাগন ●   ৩৭৮১৪ পরিবারকে ফ্যামিলি কার্ডের মাধ্যমে টাকা দেওয়া হয়েছে: প্রধানমন্ত্রী ●   বাংলাদেশের বিভিন্ন জেলায় বন্যার পূর্বাভাস ●   নতুন পদ্ধতিতে জেট ফুয়েল তৈরি করছে চীন ●   ইরানে আর হামলা নয়, দীর্ঘমেয়াদী নৌ-অবরোধের প্রস্তুতি নিচ্ছেন ট্রাম্প ●   ড. ইউনূসের ভিভিআইপি মর্যাদা বাতিল হয়নি: প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় ●   ইরানের সার্বভৌমত্ব রক্ষায় সব ধরনের সহায়তা করবে রাশিয়া- পুতিন ●   নারীদের ‘এলপিজি কার্ড’ দেবে সরকার: প্রধানমন্ত্রী ●   মার্কিন নিষেধাজ্ঞা ‘অবৈধ’ আখ্যা দিয়ে পাল্টা ব্যবস্থা নেওয়ার হুঁশিয়ারি চীনের ●   হরমুজে জাহাজ চলাচল নিয়ে ট্রাম্পের সঙ্গে ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রীর ফোনালাপ
ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ৩০ এপ্রিল ২০২৬, ১৬ বৈশাখ ১৪৩৩

BBC24 News
শনিবার, ১১ সেপ্টেম্বর ২০২১
প্রথম পাতা » আমেরিকা | আর্ন্তজাতিক | পরিবেশ ও জলবায়ু | বিশেষ প্রতিবেদন | শিরোনাম » আমেরিকার ইতিহাসে ভয়াবহ সন্ত্রাসী হামলার ৯/১১ কী ঘটেছিল
প্রথম পাতা » আমেরিকা | আর্ন্তজাতিক | পরিবেশ ও জলবায়ু | বিশেষ প্রতিবেদন | শিরোনাম » আমেরিকার ইতিহাসে ভয়াবহ সন্ত্রাসী হামলার ৯/১১ কী ঘটেছিল
৮২৬ বার পঠিত
শনিবার, ১১ সেপ্টেম্বর ২০২১
Decrease Font Size Increase Font Size Email this Article Print Friendly Version

আমেরিকার ইতিহাসে ভয়াবহ সন্ত্রাসী হামলার ৯/১১ কী ঘটেছিল

---বিবিসি২৪নিউজ, খান শওকত, যুক্তরাষ্ট্র থেকেঃ ৯/১১: ২০০১ সালের সেপ্টেম্বরে আমেরিকার ইতিহাসে ভয়াবহতম সন্ত্রাসী হামলার দিন ও তার পর কী ঘটেছিল।বিশ বছর আগে আমেরিকায় চারটি যাত্রীবাহী জেট বিমান ছিনতাই করে সেগুলো দিয়ে আঘাত হানা হয় নিউইয়র্কের দুটি আকাশচুম্বী ভবনে, যে ঘটনায় নিহত হয় কয়েক হাজার মানুষ।

এই হামলা ছিল শতাব্দীর অন্যতম সবচেয়ে ভয়াবহ একটি হামলা। শুধু আমেরিকানদের জন্যই নয়, গোটা বিশ্ব চমকে গিয়েছিল ঘটনার ভয়াবহতায়।

দিনটি ছিল ২০০১ সালের ১১ই সেপ্টেম্বর, মঙ্গলবার।

লক্ষ্যবস্তু কী ছিল?
ছিনতাইকারীরা ছোট ছোট দলে পূর্ব আমেরিকার আকাশপথ দিয়ে ওড়া চারটি বিমান একইসাথে ছিনতাই করে।

তারপর বিমানগুলি তারা ব্যবহার করে নিউইয়র্ক আর ওয়াশিংটনের গুরুত্বপূর্ণ ভবনে আঘাত হানার জন্য বিশাল ও নিয়ন্ত্রিত ক্ষেপণাস্ত্র হিসাবে।দুটি বিমান বিধ্বস্ত করা হয় নিউইয়র্কে ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টারের টুইন টাওয়ার ভবনে।

প্রথম বিমানটি আঘাত হানে নর্থ টাওয়ারে আমেরিকার পূর্বাঞ্চলীয় সময় সকাল ৮টা ৪৬ মিনিটে। দ্বিতীয় বিমানটি সাউথ টাওয়ারে বিধ্বস্ত করা হয় এর অল্পক্ষণ পর, সকাল ৯টা ৩ মিনিটে।

দুটি ভবনেই আগুন ধরে যায়। ভবন দুটির উপরতলায় মানুষজন আটকা পড়ে যায়। শহরের আকাশে ছড়িয়ে পড়ে ধোঁয়ার কুণ্ডলী। দুটি টাওয়ার ভবনই ছিল ১১০ তলা। মাত্র দুই ঘন্টার মধ্যে দুটি ভবনই বিশাল ধুলার ঝড় তুলে মাটিতে ভেঙে গুঁড়িয়ে পড়ে।

তৃতীয় বিমানটি পেন্টাগনের সদর দপ্তরের পশ্চিম অংশে আঘাত হানে স্থানীয় সময় সকাল ৯টা ৩৭ মিনিটে। রাজধানী ওয়াশিংটন ডিসির উপকণ্ঠে ছিল আমেরিকান প্রতিরক্ষা বিভাগের বিশাল এই সদর দপ্তর পেন্টাগন ভবন।

এরপর, সকাল ১০টা ৩ মিনিটে চতুর্থ বিমানটি আছড়ে পড়ে পেনসিলভেনিয়ার এক মাঠে। ছিনতাই হওয়া চতুর্থ বিমানের যাত্রীরা ছিনতাইকারীদের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ানোর পর সেটি পেনসিলভেনিয়ায় বিধ্বস্ত হয়।

ধারণা করা হয় ছিনতাইকারীরা চতুর্থ বিমানটি দিয়ে ওয়াশিংটন ডিসিতে ক্যাপিটল ভবনের ওপর আঘাত হানতে চেয়েছিল।

কত মানুষ মারা গিয়েছিল?
এসব হামলায় সব মিলিয়ে মারা গিয়েছিল ২,৯৭৭ জন। এই হিসাবের মধ্যে ১৯ জন ছিনতাইকারী অন্তর্ভুক্ত নেই। নিহতদের বেশিরভাগই ছিল নিউইয়র্কের লোক।

চারটি বিমানের ২৪৬ জন যাত্রী এবং ক্রুর প্রত্যেকে মারা যান
টুইন টাওয়ারের দুটি ভবনে মারা যান ২,৬০৬ জন - তাৎক্ষণিক ও পরে আঘাত থেকে
পেন্টাগনের হামলায় প্রাণ হারান ১২৫ জন
সর্বকনিষ্ঠ নিহতের বয়স ছিল দু’বছর। নাম ক্রিস্টিন লি হ্যানসন। তার বাবা মায়ের সাথে সে একটি বিমানের যাত্রী ছিল।

নিহত সর্ব জ্যেষ্ঠ ব্যক্তির নাম রবার্ট নর্টন। তার বয়স ছিল ৮২। তিনি ছিলেন অন্য আরেকটি বিমানে এবং তার স্ত্রী জ্যাকুলিনের সাথে তিনি একটি বিয়ের অনুষ্ঠানে যোগ দিতে যাচ্ছিলেন।

প্রথম বিমানটি যখন ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টারে আঘাত করে, তখন ভেতরে আনুমানিক ১৭ হাজার ৪০০ জন লোক ছিল। নর্থ টাওয়ারের যে অংশে বিমান আঘাত করে, তার উপরের কোন তলার মানুষই প্রাণে বাঁচেনি। তবে সাউথ টাওয়ারে যেখানে বিমান আঘাত করে, তার উপরের অংশ থেকে ১৮ জন প্রাণ নিয়ে বেরুতে পেরেছিল।

হতাহতের মধ্যে ৭৭টি ভিন্ন ভিন্ন দেশের মানুষ ছিলেন।

নিউইয়র্ক শহরে যারা প্রথম ঘটনাস্থলে জরুরি অবস্থা মোকাবেলায় দৌড়ে যান, তাদের মধ্যে মারা যান ৪৪১ জন।

হাজার হাজার মানুষ আহত হন, যারা পরে নানাধরনের অসুস্থতার শিকার হন। যেমন দমকলকর্মীদের অনেকে বিষাক্ত বর্জ্যের মধ্যে কাজ করতে গিয়ে অসুস্থ হয়ে পড়েন।

কারা ছিল হামলাকারী?
উগ্র মতাদর্শের ইসলামপন্থী সংগঠন আল-কায়দা আফগানিস্তান থেকে এই হামলার পরিকল্পনা করেছিল।

ওসামা বিন লাদেনের নেতৃত্বাধীন এই গোষ্ঠী মুসলিম বিশ্বে সংঘাত সৃষ্টির জন্য দায়ী করেছিল আমেরিকা এবং তার মিত্র দেশগুলোকে।ছিনতাইকারী ছিল মোট ১৯ জন। এদের মধ্যে তিনটি দলে ছিল পাঁচজন করে, যারা বিমান হামলা চালায় টুইন টাওয়ার ও পেন্টাগনে। আর যে বিমানটি পেনসিলভেনিয়ায় ভেঙে পড়ে, তাতে ছিনতাইকারী দলে ছিল চারজন।

প্রত্যেক দলে একজন ছিনতাইকারীর বিমানচালক হিসাবে প্রশিক্ষণ ছিল। এই ছিনতাইকারীরা তাদের পাইলটের ট্রেনিং নেন খোদ আমেরিকার ফ্লাইং স্কুলে।

পনের জন ছিনতাইকারী ছিলেন সৌদি - ওসামা বিন লাদেনের মত। দু’জন সংযুক্ত আরব আমিরাতের, একজন মিশরের এবং একজন লেবাননের।

আমেরিকার প্রতিক্রিয়া কী ছিল?
ওই হামলার এক মাসেরও কম সময় পর প্রেসিডেন্ট জর্জ ডাব্লিউ বুশ আফগানিস্তান আক্রমণ করেন আল-কায়দাকে নিশ্চিহ্ন করতে এবং ওসামা বিন লাদেনকে খুঁজে বের করতে। আমেরিকার নেতৃত্বাধীন এই অভিযানে যোগ দেয় আন্তর্জাতিক মিত্র জোট।

যুদ্ধ শুরুর কয়েক বছর পর ২০১১ সালে মার্কিন সৈন্যরা অবশেষে ওসামা বিন লাদেনকে খুঁজে পায় প্রতিবেশী দেশ পাকিস্তানে এবং তাকে হত্যা করে।

ওসামা বিন লাদেনের জীবনের শেষ কয়েক ঘণ্টা
বিন লাদেনকে ধরিয়ে দেয়া ডাক্তারের আপিল
নাইন ইলেভেন হামলার অভিযুক্ত পরিকল্পনাকারী, খালিদ শেখ মোহাম্মদকে গ্রেপ্তার করা হয় পাকিস্তানে ২০০৩ সালে। এর পর থেকে তাকে গুয়ান্তানামো বে’র বন্দীশিবিরে আমেরিকার তত্ত্বাবধানে আটক করে রাখা হয়। এখনও তিনি বিচারের অপেক্ষায় আছেন।

আল-কায়দা এখনও আছে। আফ্রিকায় সাহারা মরুভূমির দক্ষিণের দেশগুলোতে আল-কায়দা সবচেয়ে বেশি ক্ষমতাশালী। তবে আফগানিস্তানের ভেতরেও এখন আল-কায়দার সদস্য রয়েছে।

প্রায় বিশ বছর পর আমেরিকান সৈন্য আফগানিস্তান ছেড়ে যাচ্ছে চলতি বছরেই। অনেকেই আশংকা করছেন ইসলামপন্থী এই গোষ্ঠী আবার আফগানিস্তানে তাদের ঘাঁটি গাড়তে সচেষ্ট হবে।

নাইন ইলেভনের পর যা হয়েছে
১১ই সেপ্টেম্বরের ওই হামলার ঘটনার পর থেকে সারা বিশ্বে বিমান ভ্রমণের নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে।

আমেরিকাতে বিমানবন্দর ও বিমানের ভেতর নিরাপত্তা আরও কঠোর করতে ট্রান্সপোর্টেশান সিকিউরিটি অ্যাডমিনিস্ট্রেশান নামে পরিবহন নিরাপত্তা প্রশাসন গঠন করা হয়েছে।

নিউইয়র্কে হামলার স্থান, যেখানে টুইন টাওয়ার বিধ্বস্ত হয়েছিল, সেই “গ্রাউন্ড জিরো”র ধ্বংসস্তুপ পরিষ্কার করতে সময় লেগেছিল আট মাসেরও বেশি।

ওই স্থানে এখন তৈরি হয়েছে একটি যাদুঘর এবং একটি স্মৃতিসৌধ। ভবনগুলো আবার নির্মিত হয়েছে, তবে ভিন্ন নক্সায়।

সেখানে মধ্যমণি হিসাবে নির্মিত হয়েছে ওয়ান ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টার বা “ফ্রিডম টাওয়ার” - যা উচ্চতায় আগের নর্থ টাওয়ারের চেয়েও বেশি। নর্থ টাওয়ারের উচ্চতা ছিল ১,৩৬৮ ফুট আর নতুন ফ্রিডম টাওয়ার ১,৭৭৬ ফুট উঁচু।

পেন্টাগন পুনর্নিমাণে সময় লেগেছিল এক বছরের কিছু কম। ২০০২ সালের অগাস্টের মধ্যে পেন্টাগনের কর্মচারীরা আবার তাদের কর্মস্থলে ফিরে যান।



এ পাতার আরও খবর

ইরান যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের ব্যয় ২৫০০ কোটি ডলার: পেন্টাগন ইরান যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের ব্যয় ২৫০০ কোটি ডলার: পেন্টাগন
ইরানে আর হামলা নয়, দীর্ঘমেয়াদী নৌ-অবরোধের প্রস্তুতি নিচ্ছেন ট্রাম্প ইরানে আর হামলা নয়, দীর্ঘমেয়াদী নৌ-অবরোধের প্রস্তুতি নিচ্ছেন ট্রাম্প
আমাকে হত্যা করতে এসেছিল, কল্পনাও করতে পারি না: ট্রাম্প আমাকে হত্যা করতে এসেছিল, কল্পনাও করতে পারি না: ট্রাম্প
ইরানের একটি ‘ভালো’ চুক্তিতে পৌঁছানোর সুযোগ আছে: মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইরানের একটি ‘ভালো’ চুক্তিতে পৌঁছানোর সুযোগ আছে: মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী
পদত্যাগ করলেন ট্রাম্পের শ্রমমন্ত্রী পদত্যাগ করলেন ট্রাম্পের শ্রমমন্ত্রী
মানুষ ইসরায়েলকে পছন্দ করুক বা না করুক, তেল আবিব ওয়াশিংটনের ‘পরম মিত্র’। মানুষ ইসরায়েলকে পছন্দ করুক বা না করুক, তেল আবিব ওয়াশিংটনের ‘পরম মিত্র’।
ইরানের সঙ্গে দ্বিতীয় দফার বসতে ইসলামাবাদে পৌঁছাল মার্কিন প্রতিনিধিদল ইরানের সঙ্গে দ্বিতীয় দফার বসতে ইসলামাবাদে পৌঁছাল মার্কিন প্রতিনিধিদল
ইরানে মার্কিন যুদ্ধবিমান ভূপাতিতের খবরে ক্ষোভে চিৎকার করতেন ট্রাম্প ইরানে মার্কিন যুদ্ধবিমান ভূপাতিতের খবরে ক্ষোভে চিৎকার করতেন ট্রাম্প
ইরান চুক্তিতে রাজি না হলে মার্কিন বাহিনী যুদ্ধ শুরু করতে প্রস্তুত: মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইরান চুক্তিতে রাজি না হলে মার্কিন বাহিনী যুদ্ধ শুরু করতে প্রস্তুত: মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী
ইরানকে অস্ত্র না দিতে সি চিন পিংকে চিঠি ট্রাম্পের ইরানকে অস্ত্র না দিতে সি চিন পিংকে চিঠি ট্রাম্পের

আর্কাইভ

ইরান যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের ব্যয় ২৫০০ কোটি ডলার: পেন্টাগন
বাংলাদেশের বিভিন্ন জেলায় বন্যার পূর্বাভাস
নতুন পদ্ধতিতে জেট ফুয়েল তৈরি করছে চীন
ইরানের সার্বভৌমত্ব রক্ষায় সব ধরনের সহায়তা করবে রাশিয়া- পুতিন
নারীদের ‘এলপিজি কার্ড’ দেবে সরকার: প্রধানমন্ত্রী
মার্কিন নিষেধাজ্ঞা ‘অবৈধ’ আখ্যা দিয়ে পাল্টা ব্যবস্থা নেওয়ার হুঁশিয়ারি চীনের
হরমুজে জাহাজ চলাচল নিয়ে ট্রাম্পের সঙ্গে ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রীর ফোনালাপ
আমাকে হত্যা করতে এসেছিল, কল্পনাও করতে পারি না: ট্রাম্প
পাকিস্তানে পৌঁছলেও মার্কিন প্রতিনিধিদের সাথে সরাসরি বৈঠক করতে চান না ইরানি পররাষ্ট্রমন্ত্রী
ইইউ’র সাত প্রতিষ্ঠানে রপ্তানি নিষেধাজ্ঞা দিল চীন