বুধবার, ৮ এপ্রিল ২০২৬
প্রথম পাতা » আর্ন্তজাতিক | পরিবেশ ও জলবায়ু | শিরোনাম » ইরান এখন নতুন বিশ্বশক্তি
ইরান এখন নতুন বিশ্বশক্তি
বিবিসি২৪নিউজ,আন্তর্জাতিক ডেস্ক: সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ভূরাজনীতির প্রচলিত ধারণা ছিল এই যে বর্তমান বিশ্বব্যবস্থা তিনটি পরাশক্তিকে কেন্দ্র করে আবর্তিত হচ্ছে। এই তিনটি কেন্দ্র হলো যুক্তরাষ্ট্র, চীন ও রাশিয়া। এই ধারণার মূল ভিত্তি ছিল সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর অর্থনীতির আকার ও সামরিক সক্ষমতা। কিন্তু সেই পুরোনো ধারণা এখন আর খাটছে না। বিশ্বে দ্রুতগতিতে চতুর্থ একটি বৈশ্বিক পরাশক্তির উত্থান ঘটছে, সেটি হলো ইরান।
যদিও অর্থনৈতিক বা সামরিক সক্ষমতার দিক থেকে ইরান বাকি তিন পরাশক্তির সমকক্ষ নয়, তবু দেশটির নতুন এই ক্ষমতার উৎস হলো বিশ্ব অর্থনীতির হৃৎপিণ্ড বলে পরিচিত হরমুজ প্রণালির ওপর তাদের একক নিয়ন্ত্রণ।
দীর্ঘকাল ধরে হরমুজ প্রণালি একটি আন্তর্জাতিক নৌপথ হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে আসছে, যেখান দিয়ে বিশ্বের সব দেশের জাহাজ নির্বিঘ্নে চলাচল করতে পারত। তবে এ বছর ইরানকে লক্ষ্য করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ সামরিক অভিযান শুরু হওয়ার পর পরিস্থিতি বদলে গেছে। ইরান এখন এই প্রণালিতে বেছে বেছে নির্দিষ্ট কিছু দেশের ওপর সামরিক অবরোধ বা নিয়ন্ত্রণ আরোপ করছে।বিশ্বের মোট জ্বালানি তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাসের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ এই পথ দিয়েই পরিবাহিত হয়। নিকট ভবিষ্যতে এই সরবরাহ রুটের কোনো বিকল্প নেই বললেই চলে। আমার আশঙ্কা হলো হরমুজ প্রণালির ওপর ইরানের এই নিয়ন্ত্রণ যদি দীর্ঘস্থায়ী হয়, তবে তা যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় স্বার্থের ওপর মারাত্মক আঘাত হানবে এবং পুরো বিশ্বব্যবস্থাকে সম্পূর্ণ নতুনভাবে গড়ে তুলবে।
অনেক বিশ্লেষকই মনে করেন, হরমুজ প্রণালিতে ইরানের এই আধিপত্য সাময়িক। তাদের প্রত্যাশা হলো যুক্তরাষ্ট্র ও তাদের মিত্রদের নৌবাহিনী শিগগিরই পরিস্থিতি শান্ত করবে এবং তেল সরবরাহ আবার আগের মতো স্বাভাবিক হবে। কিন্তু এই প্রত্যাশায় বড় ধরনের গলদ আছে।
অনেকেই মনে করেন, হরমুজ প্রণালির ওপর নিয়ন্ত্রণ বজায় রাখতে হলে ইরানকে সেটি পুরোপুরি বন্ধ করে দিতে হবে। কিন্তু আমরা এরই মধ্যে দেখেছি যে নৌপথ বন্ধ না করেও একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ নেওয়া সম্ভব। বর্তমানে তেলবাহী জাহাজের জন্য পথটি খোলা থাকলেও যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর জাহাজ চলাচল প্রায় ৯০ শতাংশ কমে গেছে।
যুক্তরাষ্ট্র এখন এক মহাসংকটে পড়েছে। হয় তাকে দীর্ঘকালীন ও রক্তাক্ত এক যুদ্ধে জড়িয়ে হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ পুনরুদ্ধার করতে হবে, অথবা জ্বালানির এই নতুন ব্যবস্থাটি মাথা পেতে মেনে নিতে হবে, যেখানে তার একক রাজত্ব থাকবে না। যুক্তরাষ্ট্র যদি যুদ্ধের পথ বেছে নেয়, তাতে দীর্ঘ সংগ্রামের পরও জয় অনিশ্চিত।
কারণ, ইরানি হামলার ঝুঁকির কথা ভেবে বিমা কোম্পানিগুলো হয় তাদের নিরাপত্তার চুক্তি বাতিল করেছে অথবা বিমার কিস্তি কয়েক গুণ বাড়িয়ে দিয়েছে। কয়েক দিন পরপর একটি জাহাজে চোরাগোপ্তা হামলা করাই এই রুটকে অকেজো করে দেওয়ার জন্য যথেষ্ট।
আধুনিক অর্থনীতিতে কেবল তেলের সরবরাহ থাকলেই হয় না, সেই সরবরাহ হতে হয় সময়মতো ও নির্ভরযোগ্য। যখন সেই নির্ভরযোগ্যতার ভিত্তিই ভেঙে পড়ে, তখন পণ্য পরিবহনের খরচ কয়েক গুণ বেড়ে যায়। তখন সরকারগুলো জ্বালানি প্রাপ্তিকে নিছক বাজারের লেনদেন হিসেবে না দেখে একটি জাতীয় কৌশলগত সংকট হিসেবে বিবেচনা করতে বাধ্য হয়।




ওয়াশিংটন সম্পূর্ণ প্রস্তুত, উপযুক্ত সময়ে শেষ করে দেওয়া হবে ইরানকে: ট্রাম্প
হরমুজ সম্পুর্ণ ইরানের নিয়ন্ত্রণে, টোল দিতে হবে ইরানি রিয়ালে
কোন ঐকমত্যে পৌঁছাতে পারেনি যুক্তরাষ্ট্র-ইরান, কূটনৈতিক পথে ‘আলোচনা দরজা খোলা।
শাহবাজ শরিফ ও জেডি ভ্যান্স বৈঠক
ইসলামাবাদে আলোচনার মধ্যেই সুখবর পেল ইরান
পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজের সঙ্গে বৈঠক করল ইরানি প্রতিনিধিদল
৪০০০০ কিলোমিটার গতি, ২৭০০ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা : শেষ দিনে নভোচারীদের শ্বাসরুদ্ধকর অভিজ্ঞতা
যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সংলাপ: সর্বোচ্চ সতর্কতায় ইসলামাবাদ
মধ্যপ্রাচ্যে শান্তি চায় না ইসরায়েল,চিরস্থায়ী যুদ্ধের’ ছক তৈরি নেতানিয়াহু সরকারের
ইরানের হামলায় উপসাগরীয় অঞ্চলে মার্কিন ঘাঁটিগুলো এখন ‘অকার্যকর’ 