আমানত আইনে গ্রাহকদের কতটুকু সুরক্ষা দেবে?
এম ডি জালাল: বাংলাদেশে বর্তমানে সরকারি ও বেসরকারি ব্যাংক এবং আর্থিক প্রতিষ্ঠানে প্রায় ৮ কোটি হিসাবধারী গ্রাহক রয়েছেন।শুধু উচ্চবিত্ত ও মধ্যবিত্ত নয়, বহু সাধারণ মানুষেরই এখন ১ লাখ টাকার উপরে এফডিআর রয়েছে। তাদের আমানতের সুরক্ষা দেয়া জরুরি।আমানত সুরক্ষা আইন ২০২০’-এর যে খসড়াটি চূড়ান্ত করা হয়েছে, তা আদৌ গ্রাহকদের আমানতের সুরক্ষা দেবে কি? এ প্রশ্নটি এখন বড় হয়ে দেখা দিয়েছে।
কারণ আইনটিতে যেসব বিধান অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে তাতে দেখা যাচ্ছে, কোনো ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান অবসায়িত (বন্ধ) হলে প্রত্যেক আমানতকারী সর্বোচ্চ ১ লাখ টাকা পর্যন্ত ক্ষতিপূরণ পাবেন।
ওই প্রতিষ্ঠানের কোনো গ্রাহকের একাধিক অ্যাকাউন্টে ১ লাখ টাকার বেশি থাকলেও তিনি সর্বোচ্চ ১ লাখ টাকাই পাবেন। একজন গ্রাহকের ১ কোটি টাকা ব্যাংকে থাকলে সেক্ষেত্রে প্রতিষ্ঠানের অবসায়ন হলে গ্রাহক ওই ১ লাখ টাকার বেশি ক্ষতিপূরণ পাবেন না, অর্থাৎ তার প্রায় পুরোটাই ক্ষতি। তাহলে এটি কী ধরনের সুরক্ষা আইন!
প্রকৃতপক্ষে খসড়া আমানত সুরক্ষা আইনটি মাঝারি ও বড় আমানতকারীদের সুরক্ষা দিতে ব্যর্থ হবে। এর ফলে শুধু যে আমানতকারীরাই ক্ষতিগ্রস্ত হবেন তা নয়, ক্ষতিগ্রস্ত হবে দেশের সামগ্রিক অর্থনীতি। এ বিষয়ে সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অর্থ উপদেষ্টা ড. এবিএম মির্জ্জা আজিজুল ইসলামের বক্তব্য প্রণিধানযোগ্য।
তিনি বলেছেন, ক্ষতিপূরণের অঙ্ক খুবই কম। এতে গ্রাহকরা ধীরে ধীরে আমানত তুলে নেবেন। তিনি আরও বলেছেন, এ আইনটি সঠিক হচ্ছে না। এতে ব্যাংকগুলোতে আমানতের প্রবাহ কমবে। আর আমানত কমলে ঋণ দেয়ার ক্ষমতাও কমবে ব্যাংকের। আর ঋণ দিতে না পারলে বিনিয়োগ হবে না, যা অর্থনীতিতে বিরূপ প্রভাব ফেলতে পারে।সম্প্রতি একটি লিজিং কোম্পানি অবসায়িত হলে এর আমানতকারীদের অর্থ ফেরত পাওয়া নিয়ে অনিশ্চয়তা দেখা দেয়।
এ ঘটনার পর ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের গ্রাহকরা তাদের আমানত সুরক্ষার প্রয়োজনীয়তা আরও বেশি করে অনুধাবন করছেন। তাছাড়া দুর্নীতি, জালিয়াতি ও অত্যধিক খেলাপি ঋণের কারণে দেশের ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর ভিত্তি দুর্বল হয়ে পড়েছে।
জানা গেছে, এ ধরনের অনেক প্রতিষ্ঠান থেকে আমানতকারীরা তাদের অর্থ তুলতে গিয়ে ব্যর্থ হচ্ছেন। এ পরিপ্রেক্ষিতে গ্রাহকদের আমানতের সুরক্ষা নিশ্চিত করা যেখানে আরও বেশি জরুরি, সেখানে ক্ষতিপূরণের নামে উল্টো‘ক্ষতির’ বিধান সংবলিত আইন গ্রহণযোগ্য হতে পারে না।
আইনের মাধ্যমে মূলত আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর স্বার্থেরই সুরক্ষা হবে, গ্রাহকদের নয়। কাজেই গ্রাহকদের আমানতের সুরক্ষার দিক বিবেচনা করে আইনটি শুধু নামে নয়, সত্যিকার অর্থেই যুগোপযোগী করা দরকার বলে আমরা মনে করি।





বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্কোন্নয়নে ভারতকেই আগে তাদের নীতি বদলাতে হবে
বাংলাদেশে নিয়ন্ত্রণহীন দুর্নীতি : কার্যকর পদক্ষেপ ছাড়া সুফল মিলবে না
দেশে পাঠ্যবই প্রকাশে জটিলতা, শিক্ষাক্ষেত্রে গতি ফেরাতে হবে
দেশের সব দুর্নীতির মূলোৎপাটন হোক!
দেশে পানি-বিদ্যুতে দুর্ভোগের উন্নতি জরুরি!
সরকারকে খেলাপি ঋণের লাগাম টানতে হবে!
ইসরায়েল এমন এক জনগোষ্ঠীর ওপর প্রতিশোধ নিচ্ছে, যারা একেবারেই অসহায়
নিত্যপণ্যের লাগামছাড়া দাম সরকারকে আমলে নিতে হবে?
মার্কিন ভিসানীতি নিয়ে সম্পাদক পরিষদের চিঠির জবাবে যা বললেন পিটার হাস
হাসিনা-মোদি দ্বিপাক্ষিক বৈঠক: যা জানা গেছে? 