শনিবার, ২ এপ্রিল ২০২২
প্রথম পাতা » আর্ন্তজাতিক | পরিবেশ ও জলবায়ু | শিরোনাম | সাবলিড » দিল্লিতে রুশ ও ব্রিটিশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী, আলোচনা কতটুকু সাফল্য অর্জন হবে?
দিল্লিতে রুশ ও ব্রিটিশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী, আলোচনা কতটুকু সাফল্য অর্জন হবে?
বিবিসি২৪নিউজ,অমিত ঘোষ দিল্লি থেকেঃ ইউক্রেন যুদ্ধ নিয়ে ভারতের অবস্থান যে পশ্চিমা বিশ্ব বিশেষ করে আমেরিকা এবং ব্রিটেনকে উদ্বেগ এবং অস্বস্তিতে ফেলেছে তা স্পষ্ট।
ভারতের কাছে সেই অস্বস্তি, উদ্বেগ এবং বিরক্তি প্রকাশ করতেও এখন তারা তেমন রাখঢাক করছে না।
রুশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই লাভরভের দিল্লি সফর, সেখানে গিয়ে ভারতের সাথে ব্যবসা বাড়ানো নিয়ে তার প্রস্তাব, আর প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সাথে ৪০ মিনিট ধরে তার বৈঠক - এগুলো যে সেই উদ্বেগ বাড়িয়ে দেবে তাতে সন্দেহ নেই।
মি. লাভরভ ভারতের প্রধানমন্ত্রীর হাতে প্রেসিডেন্ট পুতিনের একটি চিঠি তুলে দিয়েছেন।সেই চিঠিতে কি রয়েছে তা তিনি বলেননি, তবে দিল্লি পৌঁছে যেসব কথা মি. লাভরভ বলেছেন তাতে স্পষ্ট যে পশ্চিমা নিষেধাজ্ঞা এড়িয়ে ভারতের সাথে ব্যবসা অব্যাহত রাখা তার অন্যতম প্রধান উদ্দেশ্য।
সেইসাথে, ইউক্রেন প্রশ্নে ভারতের অবস্থান নিয়ে মস্কোর ‘কৃতজ্ঞতা’ তিনি খোলাখুলিই প্রকাশ করেছেন।
মি. লাভরভ বলেন ভারত যে ইউক্রেন প্রশ্নে অন্য অনেকের মত “এক চোখা নীতি” অনুসরণ না করে সামগ্রিক পরিস্থিতিকে বিবেচনায় নিয়েছে - তা নিয়ে তিনি কৃতজ্ঞ।
ভারতীয় পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সাথে বৈঠকের আগে তিনি সাংবাদিকদের বলেন, “আমরা বিশ্ব ব্যবস্থায় একটি ভারসাম্য চাই যা টেকসই …আমরা সত্যিই কৃতজ্ঞ যে ভারত এই সমস্যাকে সামগ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি দিয়ে দেখছে।”ডলার ছাড়াও বিভিন্ন মুদ্রায় দাম নেবে রাশিয়া
মি লাভরভ বলেন, ভারতের মত দেশগুলোর সাথে ব্যবসা বাড়াতে রাশিয়া ডলার এবং ইউরো বাদে অন্যান্য মুদ্রায় দাম নেওয়ার পরিকল্পনা করছে। তিনি বলেন, “ভারত যা কিনতে চায় সেটাই রাশিয়া বিক্রি করতে প্রস্তুত।”
ইউক্রেন যুদ্ধ নিয়ে ভারত এখন পর্যন্ত রাশিয়ার কোনো সমালোচনা করতে অস্বীকার করছে। রাশিয়ার নিন্দা করে এখন পর্যন্ত নিরাপত্তা এবং সাধারণ পরিষদে যে কয়টি প্রস্তাব উত্থাপন হয়েছে - ভারত তাতে ভোট দেয়নি।
সবচেয়ে বড় কথা, ভারত রাশিয়া থেকে রাশিয়ার জ্বালানি তেল কেনার উদ্যোগ নিয়েছে। জানা গেছে বাজার মূল্যের চেয়ে অনেক কম দামে রুপি দিয়ে রাশিয়ার কাছে থেকে ৩০ লাখ ব্যারেল অপরিশোধিত তেল কিনছে ভারত ।
ব্লুমবার্গের এক রিপোর্ট বলছে, রাশিয়া যুদ্ধ শুরুর আগেই তাদের উরাল গ্রেড তেল প্রতি ব্যারেলের জন্য ভারতকে মাত্র ৩৫ ডলার প্রস্তাব করেছে। রাশিয়া চাইছে এ বছরেরই ভারত ১ কোটি ৫০ লাখ ব্যারেল কেনার চুক্তি করুক। এই প্রস্তাব নিয়ে দুই সরকারের মধ্যে কথা চলছে।
আর এতেই পশ্চিমা দেশগুলো, বিশেষ করে আমেরিকা এবং ব্রিটেন, উদ্বিগ্ন যে ভারতের এই উদ্যোগ অন্য অনেক দেশকে উৎসাহিত করবে এবং রাশিয়ার ওপর চাপানো নিষেধাজ্ঞা দুর্বল হয়ে পড়বে।
নিষেধাজ্ঞা ভাঙলে পরিণতি - আমেরিকা
আর সে কারণেই হয়তো শুক্রবার রুশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই লাভরভের দিল্লি সফরের আগের দিন রাতেই ভারতে যান ব্রিটিশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী লিজ ট্রাস। তার আগের দিন (বুধবার) দিল্লিতে গিয়েছিলেন প্রেসিডেন্ট বাইডেনের ডেপুটি জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা দালিপ সিং।
ভারতে রুশ তেল কেনা নিয়ে আমেরিকার উদ্বেগ, ক্ষোভ চেপে রাখেননি দালিপ সিং। ভারতের কথা সরাসরি উল্লেখ না করলেও মি. সিং সতর্ক করেছেন যে সব দেশে রাশিয়ার ওপর আমেরিকান নিষেধাজ্ঞা এড়ানোর চেষ্টা করবে - তাদের পরিণতি ভোগ করতে হবে।
ভারতকে সতর্ক করে তিনি এমন কথাও বলেছেন, “চীন যদি ভারতকে কখনো অক্রমণ করে তাহলে রাশিয়া সাহায্যের জন্য এগিয়ে আসবে না।”
বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী অ্যান্টনি ব্লিনকেনও মি. জয়শঙ্করকে টেলিফোন করেছেন।ব্রিটিশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী লিজ ট্রাস অবশ্য দিল্লিতে গিয়ে বলেছেন, ভারতকে কোনো ‘লেকচার’ দিতে তিনি আসেননি - বরং “ইউক্রেনের রুশ হামলার পর কর্তৃত্ববাদের বিরুদ্ধে ভারতের মত গণতান্ত্রিক শক্তিগুলোর ঐক্য যে এখন জরুরী” সে কথাই বলতে তিনি এসেছেন।
রাশিয়ার সাথে ব্যবসা না করার কোনো কথা না বললেও ব্রিটিশ মন্ত্রী বলেছেন, রাশিয়ার ওপর নিষেধাজ্ঞা যাতে কাজ করে তা নিশ্চিত করতে ব্রিটেন খুবই উদ্বিগ্ন ।
“আমরা চাই রাশিয়ার ব্যাংকগুলো যেন কাজ করতে না পারে, রাশিয়া যেন তাদের সোনার রিজার্ভ ব্যবহার করতে না পারে, রুশ জাহাজ যেন বিদেশী কোনো বন্দরে ভিড়তে না পারে।”
তবে পশ্চিমা চাপ সত্বেও ভারত যে রাশিয়ার ব্যাপারে অবস্থানে যে বদলাবে তার কোনো ইঙ্গিত নেই।
দিল্লিতে শুক্রবার ব্রিটিশ পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সাথে এক অনুষ্ঠানে ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর রাশিয়ার কাছ তেল কেনা নিয়ে পশ্চিমা দেশগুলোর উদ্বেগ নিয়ে বিস্ময় প্রকাশ করেন। তিনি বলেন - এমনকি মার্চ মাসেও রাশিয়া থেকে যে তেল ইউরোপ কিনেছে, ভারত তার ছিটেফোঁটাও কেনেনি।
পর্যবেক্ষকরা বলছেন যে ভারত যে রাশিয়ার ব্যাপারে একটি ভারসাম্য রক্ষা করার চেষ্টা করে চলেছে - তার পেছনে এই দুই দেশের সম্পর্কের দীর্ঘ একটি ইতিহাস যেমন রয়েছে, তেমনি এর পেছনে প্রযুক্তি এবং বিশেষ করে প্রতিরক্ষা ক্ষেত্রে রাশিয়ার ওপর ভারতের নির্ভরতাও কাজ করছে।
এখনও পর্যন্ত রাশিয়ার সামরিক সরঞ্জামের ৭০ শতাংশ যোগানদাতা রাশিয়া।
রাশিয়ার সাথে যৌথভাবে ভারত ব্রামোস নামে একটি ক্রজ ক্ষেপণাস্ত্র তৈরি করছে। সেইসাথে, রুশ ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা এস-৪০০ কেনার ব্যাপারে কথাবার্তা এখন চূড়ান্ত পর্যায়ে।




কানাডার নতুন অভিবাসন পরিকল্পনা ঘোষণা, প্রায় সাড়ে ১১ লাখ পিআর দেওয়ার লক্ষ্য
জাপান টোব্যাকোর সম্পদ নিয়ন্ত্রণে নিল রাশিয়া
ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচির তথ্য দিলেই ২ কোটি ডলার দেবে যুক্তরাষ্ট্র
ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর গৃহবন্দি প্যারাগুয়ের প্রেসিডেন্ট সান্তিয়াগো পেনা
যুক্তরাষ্ট্রে ভ্রমণের অযোগ্য হতে পারেন যে কারণে: দূতাবাস
যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচন: রিপাবলিকানদের হটিয়ে সিনেটের নিয়ন্ত্রণ নিল ডেমোক্র্যাটরা
বাংলাদেশের শ্রমিক আন্দোলনের দিকে কেন- নজর রাখছে ভারত’
যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচন কেন এত গুরুত্বপূর্ণ?
সৌদি আরবের যুদ্ধে- হুথিদের বিরুদ্ধে কি সরাসরি জড়াবে পাকিস্তান?
স্পেনে ভয়াবহ ট্রেন দুর্ঘটনায় ৩ দিনের রাষ্ট্রীয় শোক ঘোষণা 