শিরোনাম:
●   জেফ্রি এপস্টিন অধ্যায় ছেড়ে আমেরিকার এগিয়ে যাওয়া উচিত: ট্রাম্প ●   নবনির্বাচিত এমপিদের এবার শপথ পড়াবেন সিইসি ●   বাংলাদেশের জন্য ভারত–ম্যাচ বয়কটের সিদ্ধান্ত, পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী ●   বাংলাদেশে ক্যান্টনমেন্টে ব্যক্তিগত অস্ত্র বা গানম্যান নেওয়ার বিষয়ে বিধান কী? ●   বিএনপি সবদিক দিয়ে ব্যর্থ হয়ে জামায়াতের ওপর আক্রমণ করছে: গোলাম পরওয়ার ●   জামায়াতে ইসলামী এখন নতুন জালেমের ভূমিকায় আবির্ভাব হয়েছে: তারেক রহমান ●   নির্বাচনের নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে বৈঠক করলেন মার্কিন রাষ্ট্রদূত ●   চীন-যুক্তরাষ্ট্র-জাপানের সঙ্গে প্রতিরক্ষা চুক্তিগুলো চলমান প্রক্রিয়া : নিরাপত্তা উপদেষ্টা ●   নারীর নেতৃত্ব কোরআনের পরিপন্থী: জামায়াতের মহিলা সেক্রেটারি ●   নির্বাচনের আগে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে শুল্ক চুক্তি করবে অন্তর্বর্তী সরকার
ঢাকা, রবিবার, ৮ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ২৫ মাঘ ১৪৩২
BBC24 News
সোমবার, ২২ জুন ২০২০
প্রথম পাতা » প্রিয়দেশ | বিশেষ প্রতিবেদন | শিরোনাম » করোনায় : চাকরি আছে বেতন নাই, রাজধানী ছাড়ছে ৫০ হাজার ভাড়াটিয়া
প্রথম পাতা » প্রিয়দেশ | বিশেষ প্রতিবেদন | শিরোনাম » করোনায় : চাকরি আছে বেতন নাই, রাজধানী ছাড়ছে ৫০ হাজার ভাড়াটিয়া
১৫৬৭ বার পঠিত
সোমবার, ২২ জুন ২০২০
Decrease Font Size Increase Font Size Email this Article Print Friendly Version

করোনায় : চাকরি আছে বেতন নাই, রাজধানী ছাড়ছে ৫০ হাজার ভাড়াটিয়া

---বিবিসি২৪নিউজ,বিশেষ প্রতিবেদক,ঢাকা: করোনার ঢাকা কোনো কাজ নেই৷ তাই যেন আশ্রয়ও নেই। কারণ চাকরি বা ব্যবসা হারিয়ে অনেকেই ঢাকা ছেড়ে গ্রামে চলে গেছেন৷ চলে যেতে হতে পারে আরো অনেকেই ৷

ঢাকার দক্ষিণ খান এলাকার কে সি মেমোরিয়াল স্কুল এন্ড কলেজে আইটি প্রধান হিসেবে চাকরি করেন নূর হোসেন৷ থাকতেন ওই এলাকারই এক বাসায়৷ ভাড়া দিতেন ৯ হাজার টাকা৷ আর মাসে বেতন পেতেন ১৬ হাজার টাকা৷ সঙ্গে আইটির কাজ করে বাড়তি কিছু উপার্জনও হত৷ স্ত্রী আর এক সন্তান নিয়ে তার সংসার৷ কিন্তু করোনা শুরুর পর বেতন কমিয়ে ৬৫ ভাগ দেয়া হয়৷ তাই তার পক্ষে আর বাসা ভাড়া দিয়ে ঢাকায় থাকা সম্ভব হয়নি৷ এক মাস আগে তিনি বাসা ছেড়ে দিয়ে স্ত্রী-সন্তানকে নিয়ে সাতক্ষীরা সদরে গ্রামের বাড়িতে চলে যান৷ নূর হোসেন বলেন, ‘‘গ্রামে আসার সময় পুরো ভাড়ার টাকা দিয়ে আসতে পারিনি৷ আরো ঢাকায় থাকলে আমার পক্ষে ভাড়া দেয়া সম্ভব হতো না৷”

আইটির লোক হওয়ায় তিনি এখনো কিছু বেতন পাচ্ছেন৷ গ্রামের বাড়িতে থেকেই কিছু কাজকর্ম করে দিচ্ছেন প্রতিষ্ঠানের৷ তবে সামনে আর বেতন পাবেন কিনা নিশ্চয়তা নেই৷ ২০১৩ সালে তিনি ঢাকা এসেছিলেন৷ করোনার কারণে ঢাকা ছাড়তে হয়েছে৷ আর ফিরতে পারবেন কিনা জানেন না৷ তিনি বলেন, ‘‘শুধু আমি একা নই, আমার সহকর্মীদের অনেকই টিকতে না পেরে গ্রামে চলে গেছেন৷”

‘‘এই শহর আমার হলো না”
ঢাকার মালিবাগে শহিদুর রহমানের একটি কিন্ডারগার্টেন স্কুল ছিলো৷ চতুর্থ শ্রেণি পর্যন্ত পড়াতেন৷ শিক্ষক ছিলেন ১০ জন৷ আর ছাত্র ১৫০ জন৷ ক্লাস না চললেও এপ্রিল পর্যন্ত তিনি স্কুলটি টিকিয়ে রেখেছিলেন৷ কিন্তু এরপর আর পারেননি৷ স্কুলের ভাড়া, শিক্ষকদের বেতন তার পক্ষে বহন করা সম্ভব ছিলনা৷ মে মাসে স্কুল স্থায়ীভাবে বন্ধ করে দেন৷ আর নিজেও জুনের ১০ তারিখ ঢাকা ছেড়ে সপরিবারে গ্রামের বাড়ি চলে যান৷ তিনি জানান, ‘‘আমি আর ঢাকা ফিরবোনা৷ অনলাইন মার্কেটিং-এর কাজ জানি৷ আমার সাতক্ষীরা শহরে বসে সেটা নিয়েই কিছু করার চেষ্টা করছি৷ ঢাকা আমার শহর নয়৷ আমার শহর হয়নি৷ আমার হবেনা৷”

ঢাকার হাজারীবাগে থাকেন একটি বিজ্ঞাপনী সংস্থার মালিক আজাদ চৌধুরী৷ তিনি যে ফ্ল্যাটে থাকেন সেই ফ্লাটের দুইটি পরিবার বাসা ছেড়ে গ্রামের বড়িতে চলে গেছে গত মাসে৷ আশপাশ থেকে আরো সাত-আটটি পরিবার চলে গেছে৷ তিনি জানান, ‘‘যারা চলে গেছেন তারা ছোটখাটো চাকরি বা ব্যবসা করতেন৷ মাসিক আয় ছিলো ২৫-৩০ হাজার টাকা৷ কিন্তু তাদের ব্যবসা বা চাকরি টিকে নাই৷ ঢাকায় বাসা ভাড়া দিয়ে তাদের পক্ষে আর থাকা সম্ভব ছিলনা৷ এতদিন আশায় ছিলেন যে হয়তো করোনা চলে গেলে সব ঠিক হয়ে যাবে৷”

ঘরের জিনিস বিক্রি করে ভাড়া দিচ্ছেন:

ভাড়াটিয়া পরিষদের হিসাব অনুযায়ী, এপর্যন্ত ঢাকার ৫০ হাজার ভাড়াটিয়া বাসা ছেড়ে গ্রামের বাড়িতে চলে যেতে বাধ্য হয়েছে৷ আর তার চেয়ে আরো অনেক বেশি মানুষ আগের বাসা ছেড়ে দিয়ে কম ভাড়ার বাসায় উঠেছেন বা ওঠার চেষ্টা করছেন৷ যারা ১৫ থেকে ১৮ হাজার টাকায় ভাড়া থাকতেন তারা এখন আট-নয় হাজার টাকার ভাড়া বাসা খুঁজছেন৷ আর যাদের মাসে আয় ছিলো ২৫-৩০ হাজার টাকা তারা আর এই শহরে টিকতে পারছেন না৷

ভাড়াটিয়া পরিষদের সভাপতি বাহারানে সুলতান বাহার বলেন, ‘‘এই পরিস্থিতি আরো খারাপ হওয়ার অশঙ্কা করছি৷ যারা ঢাকা ছেড়েছেন তারা চাকরি হারিয়েছেন, ব্যবসা হারিয়েছেন৷ আরো অনেকে হারাচ্ছেন৷ তাই আমরা দাবি করেছি এপ্রিল, মে, জুন এই তিন মাস যাদের সামর্থ্য নেই তাদের বাড়ি ভাড়া যে-কোনো উপায়ে মওকুফ করে দেয়া হোক৷ গ্যাস, বিদ্যুৎ, পানির বিল ও হোল্ডিং ট্যাক্স মওকুফ করা হোক৷”

ঢাকার বস্তিবাসীদের অবস্থাও খারাপ৷ তারাও কাজ হারিয়ে ভাড়া দিতে না পেরে শহর ছাড়ছেন৷ অনেককে ভাড়ার জন্য মারধরেরও অভিযোগ পাওয়া যাচ্ছে৷ আবার কেউ ঘরের আসবাবপত্র ও ব্যবহার্য জিনিস বিক্রি করেও ভাড়া শোধ করে চলে যাচ্ছেন৷

করোনায় আন্তর্জাতিক অভিবাসন নিয়ে একটি গবেষণা জরিপের কাজ করছে ব্র্যাক৷ কাজ এখনও মাঝপথে থাকলেও তারা যেসব তথ্য পাচ্ছে তাতে মনে হচ্ছে নিম্নমধ্যবিত্তদের একটি বড় অংশ ঢাকা ছেড়েছেন৷ তাদের অবস্থা হচ্ছে ‘চাকরি আছে বেতন নাই অথবা ব্যবসা বন্ধ হয়ে গেছে৷’

সিপিডি ও ব্র্যাকের গবেষণা বলছে, এরইমধ্যে সারাদেশে কম করে হলেও আরো নতুন করে পাঁচ কোটি মানুষ দারিদ্র্য সীমার নীচে নেমে গেছে৷ যারা আগে নিম্নমধ্যবিত্ত ছিলেন৷ ছোট চাকরি বা ক্ষুদ্র ব্যবসা করতেন৷ তাদের একটি বড় অংশের বসবাস ঢাকা শহরে৷

তবে ব্র্যাকের পর্যবেক্ষণ বলছে, করোনার শুরুর দিকে দিনমজুর ও রিকশাচালকদের যে খারাপ অবস্থা হয়েছিলো তার উন্নতি হচ্ছে৷ শ্রমিকরা কৃষি শ্রমিক হিসেবে কাজ করে উপার্জন করতে পেরেছে৷ এখন আবার তারা কিছু কাজ পাচ্ছে৷ কিন্তু পোশাক শ্রমিদের কাজ হারানো বাড়ছে৷ তারা গ্রামে চলে যাচ্ছেন৷ নন-এমপিও শিক্ষকরা কোনো বেতন পাচ্ছেন না৷ মাদ্রাসার শিক্ষকদের বড় একটি অংশ কষ্টে আছেন৷ মসজিদের ইমাম, মোয়াজ্জেম, খাদেমরাও ভালো নাই৷

ব্র্যাকের ঊর্ধ্বতন পরিচালক কে এ এম মোরশেদ বলেন, ‘‘শহর ছেড়ে গ্রামে যাওয়া মানুষের সংখ্যা প্রতিদিনই বাড়ছে৷ তবে তাদের মধ্যে একটি অংশ অস্থির৷ তারা গ্রামে যান আবার শহরে ফিরে আসেন৷ আবার গ্রামে চলে যান৷ তাদের চাকরি আছে কিন্তু বেতন নাই৷ প্রতিষ্ঠান চালু হলে যদি আবার আসবে।



এ পাতার আরও খবর

বাংলাদেশে ক্যান্টনমেন্টে ব্যক্তিগত অস্ত্র বা গানম্যান নেওয়ার বিষয়ে বিধান কী? বাংলাদেশে ক্যান্টনমেন্টে ব্যক্তিগত অস্ত্র বা গানম্যান নেওয়ার বিষয়ে বিধান কী?
বিএনপি সবদিক দিয়ে ব্যর্থ হয়ে জামায়াতের ওপর আক্রমণ করছে: গোলাম পরওয়ার বিএনপি সবদিক দিয়ে ব্যর্থ হয়ে জামায়াতের ওপর আক্রমণ করছে: গোলাম পরওয়ার
জামায়াতে ইসলামী এখন নতুন জালেমের ভূমিকায় আবির্ভাব হয়েছে: তারেক রহমান জামায়াতে ইসলামী এখন নতুন জালেমের ভূমিকায় আবির্ভাব হয়েছে: তারেক রহমান
নির্বাচনের নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে বৈঠক করলেন মার্কিন রাষ্ট্রদূত নির্বাচনের নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে বৈঠক করলেন মার্কিন রাষ্ট্রদূত
নারীর নেতৃত্ব কোরআনের পরিপন্থী: জামায়াতের মহিলা সেক্রেটারি নারীর নেতৃত্ব কোরআনের পরিপন্থী: জামায়াতের মহিলা সেক্রেটারি
নির্বাচনের আগে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে শুল্ক চুক্তি করবে অন্তর্বর্তী সরকার নির্বাচনের আগে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে শুল্ক চুক্তি করবে অন্তর্বর্তী সরকার
সচিবালয়ে নির্বাচিত সরকারের অপেক্ষায় প্রশাসন সচিবালয়ে নির্বাচিত সরকারের অপেক্ষায় প্রশাসন
বাংলাদেশে জানুয়ারিতে মব-গণপিটুনিতে নিহত বেড়েছে দ্বিগুণ: এমএসএফ বাংলাদেশে জানুয়ারিতে মব-গণপিটুনিতে নিহত বেড়েছে দ্বিগুণ: এমএসএফ
সাউথ আফ্রিকা থেকে ইসরায়েলের শীর্ষ কূটনীতিককে বহিষ্কার সাউথ আফ্রিকা থেকে ইসরায়েলের শীর্ষ কূটনীতিককে বহিষ্কার
ট্রাম্পের হুমকির জবাবে ইরান বলল ‘প্রস্তুত’ ট্রাম্পের হুমকির জবাবে ইরান বলল ‘প্রস্তুত’

আর্কাইভ

বাংলাদেশে ক্যান্টনমেন্টে ব্যক্তিগত অস্ত্র বা গানম্যান নেওয়ার বিষয়ে বিধান কী?
বিএনপি সবদিক দিয়ে ব্যর্থ হয়ে জামায়াতের ওপর আক্রমণ করছে: গোলাম পরওয়ার
জামায়াতে ইসলামী এখন নতুন জালেমের ভূমিকায় আবির্ভাব হয়েছে: তারেক রহমান
নির্বাচনের নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে বৈঠক করলেন মার্কিন রাষ্ট্রদূত
নারীর নেতৃত্ব কোরআনের পরিপন্থী: জামায়াতের মহিলা সেক্রেটারি
নির্বাচনের আগে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে শুল্ক চুক্তি করবে অন্তর্বর্তী সরকার
সচিবালয়ে নির্বাচিত সরকারের অপেক্ষায় প্রশাসন
বাংলাদেশে জানুয়ারিতে মব-গণপিটুনিতে নিহত বেড়েছে দ্বিগুণ: এমএসএফ
সাউথ আফ্রিকা থেকে ইসরায়েলের শীর্ষ কূটনীতিককে বহিষ্কার
ট্রাম্পের হুমকির জবাবে ইরান বলল ‘প্রস্তুত’