শিরোনাম:
●   বিশ্বকে যুদ্ধ থেকে ‘মুক্ত’ করার দায়িত্ব পালনে জাতিসংঘ ব্যর্থ: ব্রাজিলের প্রেসিডেন্ট ●   পরাশক্তিগুলোর অনুধাবন করা উচিত, ক্ষমতা অসীম নয়, বিদায়ী ভাষনে: গুতেরেস ●   আইসিসির সব সদস্যকে পদত্যাগের আহ্বান ট্রাম্পের ●   নিউইয়র্ক মেয়রের বাসভবনে ট্রাম্প, মামদানির প্রশংসা করে বলেন ‘দারুণ মেয়র’ ●   রাশিয়ার ওপর নিষেধাজ্ঞা বহাল রাখার আহ্বান ইইউ পররাষ্ট্রনীতি প্রধানের ●   জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম উদ্বোধনী অধিবেশনে যোগ দিলেন প্রধানমন্ত্রী ●   জার্মানির আঞ্চলিক নির্বাচনের মূল পাঁচটি গুরুত্বপূর্ণ দিক ●   রোহিঙ্গা ইস্যুতে বিশ্বনেতাদের সহযোগিতা চাইলেন: বাংলাদেশ ●   জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদ কার্যত অচল, বিশ্ব পরিস্থিতি আরো খারাপ হচ্ছে: গুতেরেস ●   জাতিসংঘে বক্তব্য রাখলেন ড. ইউনূস
ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৯ আশ্বিন ১৪৩৩

BBC24 News
মঙ্গলবার, ৫ এপ্রিল ২০২২
প্রথম পাতা » পরিবেশ ও জলবায়ু | শিরোনাম | সাবলিড » বসবাসের অযোগ্য হয়ে পড়ছে- ঢাকা!
প্রথম পাতা » পরিবেশ ও জলবায়ু | শিরোনাম | সাবলিড » বসবাসের অযোগ্য হয়ে পড়ছে- ঢাকা!
৭২১ বার পঠিত
মঙ্গলবার, ৫ এপ্রিল ২০২২
Decrease Font Size Increase Font Size Email this Article Print Friendly Version

বসবাসের অযোগ্য হয়ে পড়ছে- ঢাকা!

---বিবিসি২৪নিউজ, এম ডি জালাল,বিশেষ প্রতিবেদক,ঢাকা :রাজধানী ঢাকা গ্যাস নাই, যানজট, বিদ্যুতের লোডশেডিং, ওয়াসার ময়লা পানি, নিত্য প্রয়োজনীয় পণ্যের লাগাম ছাড়া দাম৷ আছে শব্দ আর বায়ু দূষণ৷ সব মিলিয়ে রাজধানী ঢাকা বসবাসের অযোগ্য হয়ে পড়ছে?
নগরবিদেরা মনে করেন, সঠিক পরিকল্পনা ও সমন্বয়ের অভাবে এই পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে৷ সবাই মুনাফার পিছনে ছুটছে৷ কথিত উন্নয়ন করছে৷ সরকারের ইতিবাচক রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত এই অবস্থা থেকে নগরবাসীকে বাঁচাতে পারে৷

প্রথম রোজা থেকেই রাজধানীতে গ্যাস সংকট শুরু হয়েছে৷ একই সঙ্গে বেড়েছে এলপি গ্যাসের দাম৷ আছে বিদ্যুতের লোড শেডিং৷এলএনজি সরবরাহে ঘাটতি এবং বিবিয়ানা গ্যাস ক্ষেত্রের ছয়টি কূপে গ্যাস উৎপাদনে সমস্যার কারণে এই গ্যাস সংকট বলে দাবি করেছে কর্তৃপক্ষ৷ গ্যাস ফিল্ড রক্ষণাবেক্ষণের কাজ করতে গিয়ে এই সমস্যা হচ্ছে বলে জানিয়েছে জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়৷ এর ফলে ৪৫ কোটি ঘনফুট গ্যাস প্রতিদিন কম উৎপাদন হচ্ছে৷ আরো এক সপ্তাহ এই অবস্থা চলবে৷ আর এই গ্যাস উৎপাদনে সমস্যা হওয়া বিদ্যুতের ওপরও প্রভাব পড়ছে৷ বিদ্যুৎ কেন্দ্রে গ্যাস সরবরাহ কমে গেছে৷ যদিও পিডিবি বলছে দেশে কোনো লোডশেডিং নাই৷ কিন্তু প্রশ্ন হচ্ছে এই রক্ষণাবেক্ষণের কাজ কেন রোজার আগে করা হয়নি৷ রোজার শুরুতেই কেন এই কাজ ধরা হলো৷

এদিকে তীব্র যানজটের কারণে লোজনকে এখন ঘন্টার পর ঘন্টা রাস্তায় থাকতে হচ্ছে৷ যানজটের এখন আর সকাল বিকাল বা রাত নেই৷ গভীর রাত এমনকি ভোরেও রাজধানী জুড়ে যানজট৷ ফলে লোকজন ঠিকমত অফিসে বা কাজে যেতে পারছেন না৷ পারছেন না ফিরতে৷ তাদের গাড়িতে বা রাস্তায়ই ইফতার করতে হচ্ছে৷

ঢাকার যাত্রাবাড়ি, মান্ডা, মিরপুর, শেওড়াপাড়া, মোহাম্মদপুর, আমিনবাজার, কাফরুল, আদাবর, রামপুরা, বনশ্রী, মৌচাক, মগবাজার, সিদ্ধেশ্বরী, কারওয়ান বাজার, ফার্মগেট, ধানমন্ডি, জিগাতলা, শ্যামলী, কল্যাণপুর, মতিঝিল, পুরান ঢাকার প্রায় সব এলাকায় রান্নার গ্যাসের তীব্র সংকট চলছে৷ ওই সব এলাকার মানুষের দৈনন্দিন রুটিনই বদলে গেছে গ্যাস সংকটের কারণে৷ গভীর রাতে একবার গ্যাস আসে তখনই রান্না-বান্না করতে হয়৷ মান্ডা এলাকার আব্দুল লতিফ জানান, ‘‘এখন ইফতার সেহরি সবই হোটেল থেকে কিনে খেতে হয়৷ দামও অনেক বেশি৷ কয়দিন কিনে খেতে পারব জানি না৷ আর বিদ্যুৎ আর পানির সমস্যাও আছে৷ মাঝে মঝেই বিদ্যুৎ চলে যায়৷ ওয়াসার পানিও থাকে না৷ আর যখন পাওয়া যায় তখন ময়লা থাকে৷’’

শেওড়া পাড়ার জেসমিন লিপি বলেন, ‘‘কর্মজীবী হওয়ায় এখন চারদিক থেকে বিপদে আছি৷ জ্যামের কারণে ঠিক সময়ে অফিসে যেতে পারি না৷ ফিরতে পারি না৷ বাসায় ফিরে দেখি গ্যাস নাই৷ জীবন অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছে৷’’ তার কথা বাধ্য হয়ে একটি ইলেট্রিক চুলা কিনেছেন৷ কিন্তু বিদ্যুৎও সব সময় থাকে না৷ আর এই বাড়তি বিদ্যুৎ বিল কে দেবে?

যাত্রাবাড়ির জহিরুল ইসলাম বলেন, ‘‘এখন তো দিনের সাত-আট ঘন্টাই রাস্তায় থাকতে হয়৷ রাস্তাই এখন ঘরবাড়ি৷’’ঢাকায় এখন একটি নতুন কথা চালু হয়েছে যে, ‘‘জীবনে এত বেশি পড়াশোনা করেছি যে দিনের অধিকাংশ সময়ই এখন গাড়িতে থাকতে হয়৷’’

ঢাকা ওয়াসার পানিতে ময়লার কারণে জুরাইনসহ বিভিন্ন এলাকার মানুষ মঙ্গলবার পানির দাবিতে বিক্ষোভ করেছেন৷ বিক্ষোভকারীরা জানান, রোজায় পানির কষ্ট আরো বেড়েছে৷ জুরাইনের মুরাদপুর রোডের রুহুল আমিন অভিযোগ করেন, ‘‘পানিতে, ময়লা, কেঁচোসহ নানা দুষিত পদার্থ থাকে৷ আমরা খাওয়া তো দূরের কথা ওজু গোসলও করতে পারিনা৷ আর এই পানিও ঠিকমত পাওয়া যায় না৷’’

ওই এলাকার আরেকজন বাসিন্দা মিজানুর রহমান জানান, ‘‘এলাকার মানুষ খাবার পানি কিনে খেতে বাধ্য হচ্ছেন৷ আমাদের এলাকায় ব্যক্তিগত উদ্যোগে ২০টি গভীর নলকুপ বসানো হয়েছে৷ সেখান থেকে মানুষ খাবার পানি কিনে খান৷’’

ওয়াসার এমডি তাকসিম এ খান মঙ্গলবার এক সংবাদ সম্মেলনে পানি সমস্যার কথা স্বীকার করে নগরবাসীকে ফুটিয়ে পানি পান করার পরামর্শ দিয়েছেন৷ আর পানিতে দুর্গন্ধের জন্য তিনি শীতলক্ষ্যার পানিকে দায়ী করেছেন৷ তার কথা ওই নদীর পানি এত দূষিত যে শোধন করলেও দূর হয় না৷

বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব প্ল্যানার্স (বিআইপি)-এর সাধারণ সম্পাদক নগরবিদ আদিল মোহাম্মদ খান বলেন, ‘‘বিবিয়ানা গ্যাস ক্ষেত্রের ছয়টি কূপ রক্ষণাবেক্ষণের কাজ করা হবে৷ কিন্তু তা রোজার মধ্যে কেন? আগে পরে করা যেত৷ নাগরিকদের কোনো নোটিসও দেয়া হয়নি৷ নাগরিকদের গুরুত্ব দেয়া হয় না বলেই এভাবে যা খুশি তাই করা হচ্ছে৷’’

তার কথা, ‘‘উন্নয়নের ক্ষেত্রেও তাই করা হয়েছে৷ উন্নয়ন কার জন্য সেটা বিবেচনা করা হয়নি৷ ফলে এটা এখন সবচেয়ে দূষিত নগরী৷ আমার বিবেচনায় এই নগরী এখন ধ্বংসের শেষ সীমায় চলে এসেছে৷

স্থপতি ইকবাল হাবিব বলেন, ‘‘অব্যবস্থাপনা, অবহেলা এবং রমজানকে সামনে রেখে সত্যিকারের কোনো পরিকল্পনা না থাকায় ঢাকা অচল হয়ে গেছে৷ একারণেই গ্যাস নেই, সেই কারণে বিদ্যুতের সমস্যা৷ অথচ সাধারন মানুষের টাকায় ভর্তুকি দিয়ে বিদ্যুৎ উৎপাদন করা হচ্ছে৷ রোজায় স্কুল কলেজ, অফিস আদালত, শপিং মল একসাথে খোলা রাখা হয়েছে৷ কিন্তু এটার একটা সময় ভাগ করে ব্যবস্থাপনা করা যেত৷ করা হলে মানুষকে ঘন্টার পর ঘন্টা রাস্তায় থকতে হতো না৷ এই অব্যবস্থাপনার মূলে আছে বিভিন্ন সেক্টরে চাঁদাবাজি আর দুর্নীতি৷ সবাই পকেট কাটতে চায়৷ যার ফল আমরা এখন দেখতে পাচ্ছি৷’’নগর বিশেষজ্ঞ স্থপতি মোবাশ্বের হোসেন মনে করেন, উন্নয়ন বা নানা ধরনের যে কাজ হচ্ছে তা কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর স্বার্থে হচ্ছে৷ সাধারণ মানুষের জন্য হচ্ছে না৷ যার ফলে এই পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে৷ তিনি বলেন, ‘‘মোট্রোরেল বানানো হচ্ছে আবার শত শত বাস আমদানি করা হচ্ছে৷ রাস্তার ওপরে মন্ত্রী ভবন বানাচ্ছেন৷ কোনো কোনো সংস্থা সরকারি জায়গা দখল করে ভবন বানিয়ে রাখছে যা কোনো কাজে আসছে না৷ ইচ্ছেমত প্রাইভেট কারের অনুমোদন দেয়া হচ্ছে৷ মটর সাইকেলকে গণপরিবহন বানানো হয়েছে৷ এর পিছনে আছে ব্যক্তি আর গোষ্ঠীর লাভের স্বার্থ৷ ফলে নগরী মরে যাচ্ছে৷ বসবাসের অযোগ্য হচ্ছে৷ সরকার যদি চায় তাহলে নাগরিক বান্ধব পরিকল্পনা করে ঢাকাকে পাঁচ বছরের মধ্যে একটি আধুনিক শহর করা সম্ভব৷’’

ঢাকার অন্যতম প্রধান কাঁচাবাজার কারওয়ান বাজার, হাতিরপুলসহ একাধিক বাজার ঘুরে দেখা যায়, শসা কেজিপ্রতি ৮০-১১০ টাকা, লেবু প্রতি হালি ৪০-৮০ টাকা, বেগুন কেজিপ্রতি ৮০-১১০ টাকা, কাঁচামরিচ ১২০-১৬০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে৷ শেওড়াপাড়া কাঁচাবাজারের সবজি বিক্রেতা মোঃ জুয়েল জানান, এবার রোজার আগেই দাম যা বাড়ার বেড়েছে৷ দুই-একটি আইটেম ছাড়া অন্যবারের মতো এবার রোজার শুরুতে তেমন দাম বাড়েনি বলে জানান একাধিক বিক্রেতা৷



এ পাতার আরও খবর

বিশ্বকে যুদ্ধ থেকে ‘মুক্ত’ করার দায়িত্ব পালনে জাতিসংঘ ব্যর্থ: ব্রাজিলের প্রেসিডেন্ট বিশ্বকে যুদ্ধ থেকে ‘মুক্ত’ করার দায়িত্ব পালনে জাতিসংঘ ব্যর্থ: ব্রাজিলের প্রেসিডেন্ট
পরাশক্তিগুলোর অনুধাবন করা উচিত, ক্ষমতা অসীম নয়, বিদায়ী ভাষনে: গুতেরেস পরাশক্তিগুলোর অনুধাবন করা উচিত, ক্ষমতা অসীম নয়, বিদায়ী ভাষনে: গুতেরেস
আইসিসির সব সদস্যকে পদত্যাগের আহ্বান ট্রাম্পের আইসিসির সব সদস্যকে পদত্যাগের আহ্বান ট্রাম্পের
রাশিয়ার ওপর নিষেধাজ্ঞা বহাল রাখার আহ্বান ইইউ পররাষ্ট্রনীতি প্রধানের রাশিয়ার ওপর নিষেধাজ্ঞা বহাল রাখার আহ্বান ইইউ পররাষ্ট্রনীতি প্রধানের
জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদ কার্যত অচল, বিশ্ব পরিস্থিতি আরো খারাপ হচ্ছে: গুতেরেস জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদ কার্যত অচল, বিশ্ব পরিস্থিতি আরো খারাপ হচ্ছে: গুতেরেস
জাতিসংঘে বক্তব্য রাখলেন ড. ইউনূস জাতিসংঘে বক্তব্য রাখলেন ড. ইউনূস
সব প্রস্তুতি নিয়েও —শেষ মুহূর্তে হুতিদের ওপর হামলা বন্ধ করলেন ট্রাম্প সব প্রস্তুতি নিয়েও —শেষ মুহূর্তে হুতিদের ওপর হামলা বন্ধ করলেন ট্রাম্প
ইরানের সব এয়ারলাইনসের ওপর মার্কিন নিষেধাজ্ঞা ইরানের সব এয়ারলাইনসের ওপর মার্কিন নিষেধাজ্ঞা
জাতিসংঘের অধিবেশে আজ সভাপতি হিসেবে শপথ নেবেন ড. খলিলুর রহমান জাতিসংঘের অধিবেশে আজ সভাপতি হিসেবে শপথ নেবেন ড. খলিলুর রহমান
কে হলেন  জোহেইরি মোলা মিস” মিস ওয়ার্ল্ড ২০২৬ কে হলেন জোহেইরি মোলা মিস” মিস ওয়ার্ল্ড ২০২৬

আর্কাইভ

নিউইয়র্ক মেয়রের বাসভবনে ট্রাম্প, মামদানির প্রশংসা করে বলেন ‘দারুণ মেয়র’
জার্মানির আঞ্চলিক নির্বাচনের মূল পাঁচটি গুরুত্বপূর্ণ দিক
রোহিঙ্গা ইস্যুতে বিশ্বনেতাদের সহযোগিতা চাইলেন: বাংলাদেশ
জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদ কার্যত অচল, বিশ্ব পরিস্থিতি আরো খারাপ হচ্ছে: গুতেরেস
জাতিসংঘে বক্তব্য রাখলেন ড. ইউনূস
সব প্রস্তুতি নিয়েও —শেষ মুহূর্তে হুতিদের ওপর হামলা বন্ধ করলেন ট্রাম্প
ইরানের সব এয়ারলাইনসের ওপর মার্কিন নিষেধাজ্ঞা
যুক্তরাষ্ট্র নেতৃত্বাধীন ৬জি জোটে যোগ দিল ভারত
বাংলাদেশ–ভারতের মধ্যে মৈত্রী–বন্ধন–মিতালী এক্সপ্রেস আবার চালুর উদ্যোগ
ভিজিটর ভিসায় যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সন্তান জন্ম দেওয়াসহ আরও কী কী করা যাবে না