শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর ২০২৬
প্রথম পাতা » ছুটির দিনে | জাতীয় | জীবনযাপন | জেলার খবর | প্রিয়দেশ | শিরোনাম | সাবলিড » ভরা মৌসুমে রাঙামাটির সাজেকে পর্যটন বন্ধ, প্রতিদিন ক্ষতি কোটি টাকা
ভরা মৌসুমে রাঙামাটির সাজেকে পর্যটন বন্ধ, প্রতিদিন ক্ষতি কোটি টাকা
বিবিসি২৪নিউজ,নিজস্ব প্রতিনিধি: স্থানীয় দুটি সংগঠনের ডাকা অবরোধ এবং প্রশাসনের নিষেধাজ্ঞার কারণে রাঙামাটির সাজেকে পর্যটনকেন্দ্র বন্ধ রয়েছে। এতে আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছেন পর্যটন ব্যবসায়ীরা। তাদের দাবি, ভরা মৌসুমে পর্যটনকেন্দ্র বন্ধ থাকায় প্রতিদিন প্রায় এক কোটি টাকার ব্যবসা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। কটেজ ও রিসোর্টের আগাম বুকিং বাতিল করে পর্যটকদের টাকা ফেরত দিতে হচ্ছে।
এ পরিস্থিতিতে পর্যটকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করে সাজেক ভ্রমণে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের দাবিতে গতকাল শুক্রবার খাগড়াছড়িতে বিক্ষোভ করেছেন পর্যটন-সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ী ও পরিবহন শ্রমিকরা।
সাজেক কটেজ-রিসোর্ট ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের তথ্য অনুযায়ী, সাজেকে ১২০টি কটেজ ও রিসোর্ট রয়েছে। ভরা পর্যটন মৌসুমে এসব প্রতিষ্ঠানের প্রায় সব কক্ষ আগাম বুকিং থাকে। পর্যটকদের যাতায়াত, রেস্তোরাঁ, খাবার ও বিশুদ্ধ পানি সরবরাহসহ বিভিন্ন ব্যবসাও পর্যটনের ওপর নির্ভরশীল। ফলে পর্যটনকেন্দ্র বন্ধ থাকায় এসব খাতের ব্যবসায়ীরাও ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন।
অ্যাসোসিয়েশনের সাংগঠনিক সম্পাদক রাহুল চাকমা জন বলেন, কটেজ-রিসোর্টের ব্যবসায়ীরা ব্যাংক থেকে ঋণ নিয়ে প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলেছেন। পর্যটন বন্ধ থাকায় আয় বন্ধ হয়ে গেছে, অথচ ঋণের কিস্তি পরিশোধ করতে হচ্ছে। এ ব্যবসার সঙ্গে বহু মানুষের কর্মসংস্থান জড়িত। তাই পরিস্থিতির স্থায়ী সমাধান প্রয়োজন।
সাজেক হিলভিউ রিসোর্টের স্বত্বাধিকারী ইন্দ্র চাকমা বলেন, ২৭ অক্টোবর পর্যন্ত তাঁর রিসোর্টের সব কক্ষ আগাম বুকিং ছিল। পর্যটনকেন্দ্র বন্ধ থাকায় বুকিংয়ের টাকা ফেরত দিতে হয়েছে। গত ১০ দিনে তাঁর চার লাখ টাকার বেশি ক্ষতি হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।
অবরোধ ঘিরে সংঘর্ষ, পর্যটক সরিয়ে নেওয়া
সাজেক গণঅধিকার রক্ষা কমিটি ও সাজেক কার্বারি অ্যাসোসিয়েশন ১১ অক্টোবর থেকে তিন দফা দাবিতে সাজেকের সড়কে অনির্দিষ্টকালের অবরোধ শুরু করে। তাদের দাবির মধ্যে রয়েছে সাজেক থেকে সন্তু লারমার নেতৃত্বাধীন জনসংহতি সমিতির (জেএসএস) সশস্ত্র সদস্যদের সরিয়ে নেওয়া, স্থানীয় বাসিন্দাদের বাড়িতে তল্লাশি বন্ধ এবং হুমকি দেওয়া থেকে বিরত থাকা। প্রশাসনের আশ্বাসে অবরোধ সাময়িক স্থগিত রাখা হলেও দাবি পূরণ না হওয়ায় গত বৃহস্পতিবার আবার অবরোধ শুরু হয়।
অবরোধের কারণে বৃহস্পতিবার সাজেকে আটকে পড়া প্রায় তিন হাজার পর্যটককে সেনাবাহিনী ও পুলিশের সহায়তায় খাগড়াছড়ির দিকে সরিয়ে নেওয়া হয়। এ সময় রাঙামাটির বাঘাইছড়ি উপজেলার গঙ্গারাম উজোবাজার এলাকায় অবরোধকারীদের সঙ্গে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সংঘর্ষ হয়। পরে সেখানে সশস্ত্র গোষ্ঠীর সঙ্গে পাল্টাপাল্টি গুলির ঘটনা ঘটে বলে পুলিশ জানায়। সংঘর্ষে সেনাবাহিনীর পাঁচ সদস্য ও পুলিশের দুই সদস্য আহত হন।
পুলিশের দাবি, গোলাগুলির ঘটনায় ইউনাইটেড পিপলস ডেমোক্রেটিক ফ্রন্ট (ইউপিডিএফ) জড়িত। তবে এ অভিযোগ অস্বীকার করেছে সংগঠনটি।
সংঘর্ষের পর উজোবাজার এলাকার অনেক বাসিন্দা নিরাপত্তার আশঙ্কায় বাড়িঘর ছেড়ে যান। গতকালও সেখানকার দোকানপাট বন্ধ ছিল এবং অনেকে বাড়ি ফেরেননি। থমথমে অবস্থা বিরাজ করছিল।
নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের দাবি
গতকাল বিকেলে খাগড়াছড়ি পৌরসভার শাপলা চত্বরে পর্যটন-সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ী ও পরিবহন শ্রমিকরা বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ করেন। সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন পার্বত্য যানবাহন সমিতির সভাপতি আইয়ূশ চাকমা। বক্তারা পর্যটকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করে দ্রুত সাজেক ভ্রমণের নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার এবং যানবাহন চলাচল স্বাভাবিক করার দাবি জানান। একই সঙ্গে পাহাড়ে চাঁদাবাজি বন্ধে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানান তারা। দাবি পূরণে ৪৮ ঘণ্টার সময়সীমা দিয়ে কঠোর আন্দোলনের হুঁশিয়ারিও দেন বক্তারা।
এদিকে আজ শনিবার রাঙামাটি ও খাগড়াছড়িতে সকাল ৫টা থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত সড়ক ও নৌপথে আধাবেলা অবরোধের কর্মসূচি দিয়েছে ছাত্র-জনতার সংগ্রাম পরিষদ। সাজেকে অবরোধকারীদের ওপর হামলা, লাঠিপেটা ও বাড়িঘর-দোকান ভাঙচুরের প্রতিবাদে এবং স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবির সমর্থনে এ কর্মসূচি দেওয়া হয়েছে।




বিশ্ববাজারে রেকর্ড, সর্বোচ্চ জ্বালানি তেলের দাম
সাইবার হামলার শঙ্কা, বন্ধ বাংলাদেশ ব্যাংকের ওয়েবসাইট
সৌদি আরবে বিমানের সব ফ্লাইট স্থগিত
সরকারের মাথাপিছু ঋণ দেড় লাখ টাকা
প্রতিমা বিসর্জনের মধ্য দিয়ে শেষ হলো শারদীয় দুর্গোৎসব
পর্যটকদের নিরাপত্তা বিবেচনা সাজেকে ভ্রমণ সাময়িক বন্ধ ঘোষণা
বাংলাদেশের এক কোটি মানুষ দারিদ্র্যসীমার নিচে নেমে গেছে: প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা
সমাজের নিকৃষ্ট লোকেরা এমপি-মন্ত্রী হন: স্পিকার
পরিষ্কার গোয়েন্দা তথ্য আছে, দুই পক্ষ এক হয়েছে: প্রধানমন্ত্রী 